- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জগন্নাথপুরে সালিশে বাকবিতন্ডা, ইট পাটকেল নিক্ষেপ, আহত ১০

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর পৌর এলাকায় ব্যাপক ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় ১০ জন আহত হয়েছে। এরমধ্যে দুইজনকে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত সোমবার জগন্নাথপুর পৌরএলাকার হবিবপুর মাঝপাড়া এলাকার বাসিন্দা স্থানীয় ৪ নং ওয়ার্ড
কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসাইনের কার্যালয়ে একটি বিরোধের বিষয় নিয়ে সালিশ বৈঠক বসে। সালিশ চলাকালে ওই ওয়ার্ডের হবিবপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেক কাউন্সিলর সুহেল আমিনের সঙ্গে কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসাইনের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে পৌরসভার অন্য কাউন্সিলরদের হস্তপেক্ষে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এঘটনায় জের ধরে মঙ্গলবার সকালে মাঝপাড়া ও পশ্চিমপাড়ার লোকজনের মধ্যে ব্যাপক ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছে। এরমধ্যে নেছাওয়ার আলী (৫০) ও সাবিরুন মিয়া (২২)কে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। অপর আহতরা স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এঘটনায় দুইপক্ষের মধ্যে পরস্পর বিরুদ্ধে বক্তব্য পাওয়া গেছে।
হবিবপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার প্রবাসি জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তাঁদের পক্ষের সাবেক কাউন্সিলর সুহেল আমিন জানান, সালিশ চলাকালে কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন জাহাঙ্গীর আলমকে মেরে (থাপ্পর দিয়ে) তাঁর কার্যালয় থেকে বের করে দিবেন বলে উচ্চস্বরে বাক্যবিনিময় করেন। কাউন্সিলরের অন্যায় আচারণের প্রতিবাদে মানববন্ধন করার প্রস্তুতিকালে প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের ওপর টিল ছুঁড়ে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে ইট পাটকেল নিক্ষেপ হয়। এতে আমাদের ৪ জন আহত হয়েছে।
এবিষয়ে জগন্নাথপুর পৌর কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসাইন বলেন, দুইজন ব্যক্তির মধ্যে বিরোধ নিম্পত্তির জন্য আমরা সালিশে বসি। সালিশে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় সুহেল আমিন ও জাহাঙ্গার আলম বাঁধা প্রদান করেন। এঘটনার পর আমি সিলেট শহরে চলে যাই। গতকাল সকালে খবর পাই, এলাকায় মাইকিং করে জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে প্রায় দুইশতাধিক ব্যক্তি আমাদের পাড়ায় প্রবেশ করে বাসা-বাড়ি ও লোকজনের ওপর বৃষ্টির মতো ইট পাটকেল নিক্ষেপ করেছে। তাদের হামলায় আমাদের ৮ থেকে ১০ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
জগন্নাথপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র শফিকুল হক জানান, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বৈঠকে কাউন্সিলের সঙ্গে কথা কাটাকাটির ঘটনায় জেরে ঢিল নিক্ষেপের ঘটনাটি আমরা সামাজিকভাবে সমাধানের প্রচেষ্টা করছি।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়। এখন পরিবেশ শান্ত।

  • [১]