জগন্নাথপুর অফিস
গত কয়েকদিনের বৃষ্টির পানিতে ও পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জগন্নাথপুর উপজেলার হাওররক্ষা বেড়িবাঁধগুলো ঝুঁকিতে পড়েছে। কৃষকরা তাদের কষ্টার্জিত ফসল রক্ষায় বেড়িবাঁধ রক্ষায় প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে জলাবদ্ধতায় বিভিন্ন হাওরের কমপক্ষে ২০০ একর জমির আধা পাকা ফসল তলিয়ে গেছে। শুক্রবার হাওর পরির্দশনকালে জগন্নাথপুরের ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ জানান, ঝুঁকিপূর্ বেড়িবাঁধগুলোতে কাজ করছে। হাওরের বেড়িবাঁধ রক্ষায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না মাঠে। তাদের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে হাওরের ফসল মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।
কৃষকরা জানান, চলতি বোরো মৌসুমে জগন্নাথপুর উপজেলার হাওরের ফসল রক্ষায় ঠিকাদারের মাধ্যমে প্রায় চার কোটি টাকা ও পিআইসির মাধ্যমে দুই কোটি টাকার কাজ হওয়ার কথা। কিন্তুু ঠিকাদারদের কাজে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি হয়েছে। ঠিকাদাররা নামমাত্র কাজ করে হাওর অরক্ষিত রেখে চলে গেছে। মই হাওরের নারিকেলতলা এলাকায় ঠিকাদার সজিব রঞ্জন দাশের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় স্থানীয় ইউপি সদস্যদের প্রচেষ্টায় তা শেষ করার কাজ চলছে।
চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরশ মিয়া জানান, হাওরের বেড়িবাঁধ রক্ষায় হাওরের কৃষকরা প্রানান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকেই
স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন। তিনি বলেন,আমরা যারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে পিআইসির দায়িত্ব পালন করছি আমরা দিন রাত হাওরে কৃষকদের পাশে আছি। কিন্তুু ঠিকাদারদেরকে পাওয়া যাচ্ছে না। ঠিকাদারদের কাজের কারণেই হাওর ঝুঁকিতে রয়েছে।
হাওর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতা শহিদুল ইসলাম বকুল জানান, নলুয়ার হাওরের কাপনার কান্দি থেকে নলুয়ার হাওরের মাঝদাগ ও হাওরের ডুবি পর্যন্ত কমপক্ষে ১০০ একর সহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ২০০ একর জমির কাঁচা ও আধা পাকা ফসল ইতিমধ্যে তলিয়ে গেছে। বকুলসহ কৃষকনেতাদের আশংকা যেভাবে নদীর পানি বাড়ছে হাওর কতটুকু রক্ষা হবে বলা যাচ্ছে না। কারণ এবছর নলুয়ার হাওরের ভূরাখালি থেকে শালিকা বেড়িবাঁধ পর্যন্ত শুধুমাত্র গর্ত ভরাটের কাজ হয়েছে। পুরো বেড়িবাঁধের কাজ না হওয়ায় নলুয়ার হাওর অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।
পাইলগাঁও ইউনিয়নের মাকড়কোনা গ্রামের কৃষক আব্দুল তাহিদ জানান, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় তার কমপক্ষে ছয় কেদার জমির ফসল সহ আলআগদি হাওরের অনেক ফসল তলিয়ে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাঠ কর্মকর্তা মোসাদ্দেক আহমদ জানান, জগন্নাথপুর উপজেলার হাওরগুলো ঝুঁকিতে থাকলেও আমরা তা ঝুঁকিমুক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছি।
জগন্নাথপুরের ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ জানান, হাওর রক্ষা বেড়িবাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্পটগুলো ঘুরে দেখেছি। যেসব জায়গা অধিক ঝুঁকি রয়েছে সেগুলোতে কাজ চলছে। তিনি বলেন, হাওরের ফসল রক্ষায় ঠিকাদারদের কাজ মানসম্মত না হওয়ায় হাওর ঝুঁকিতে রয়েছে। ঠিকাদারদের লোকদের পাওয়া যাচ্ছেন না, তাদের হয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকরা কাজ করছেন।