- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন

জঙ্গীবাদের ভয়াল বিস্তৃত থাবা আজ বাংলার শান্তি, প্রগতি ও উন্নয়নকে গিলে খেতে উদ্যত হয়েছে। এই দেশের সংগ্রামী মানুষ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উদয়াস্ত পরিশ্রম করে কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য ক্ষেত্রে যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেছে জঙ্গীবাদ সেগুলো গিলে খেতে আজ মুখ হা করে রেখেছে। শিক্ষায় ও বিজ্ঞানে আমরা ক্রমশ যখন উন্নত দেশের স্তরে পৌঁছানোর জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছি তখন অন্ধ জঙ্গীবাদ আমাদের মাথার মগজকে অন্ধকার গোহায় আটকে রাখতে চাইছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি যখন ক্রমশ মর্যাদার আসনে বসতে যাচ্ছে তখন ওই মৌলবাদী অপশক্তি জাতির কপালে এঁকে দিতে চাচ্ছে জঙ্গী তকমা। ওরা গোপনে থেকে আঘাত হানছে। নিজেদের এক ভয়ংকর অপবিশ্বাসের সর্বনাশা বৃত্তে আটকে রেখে ওই বৃত্তে ঢুকাতে চাইছে অদম্য তরুণদের। যে তরুণ সুশিক্ষিত হয়ে দেশ-জাতির কল্যাণার্থে রাখতে পারত যুগান্তকারী ভূমিকা সেই তরুণ আজ উদভ্রান্ত হয়ে ঘর ছাড়ছে নেশাশক্তের মতো। পিতা-মাতা জীবনের যাবতীয় সঞ্চয় বিলিয়ে যে সন্তানকে শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত করে তুলে ভবিষ্যত স্বপ্ন দেখছিলেন সেই স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটিয়ে সন্তানগুলো এক অলীক মোহের পিছনে ছুটে আত্মঘাতি হচ্ছে। কোন যুক্তি নেই, কোন ব্যাখ্যা নেই, পঙ্গপালের মতো আগুনের দিকে ধাবমান হয়ে নিজেকে পুড়িয়ে চলছে বিভ্রান্ত তরুণ। এদের রক্ষায় যখন বিশাল সামাজিক প্রতিষেধক আর প্রতিরোধের প্রয়োজন তখন সেই জায়গায় হতাশাজনক শূন্যতা এই ভয়ানক ব্যাধিকে মহামারিতে পরিণত করতে আজ  প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখনই বিভ্রান্তির এই সর্বনাশা ¯্রােত আটকাতে না পারলে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র খুব বিপদজনক ভবিষ্যতের সামনে গিয়ে দাঁড়াবে। তখন আফগানিস্তান, সিরিয়ার মতো পুড়া মাটি ছাড়া আমাদের আর কিছু থাকবে না। সময় থাকতে সাবধান হতে হবে সকলকে। পরিবার থেকে সামাজিক প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন থেকে রাষ্ট্র, ব্যক্তি থেকে নেতাÑ সকলকে এই মতান্ধ অন্ধত্বের বিরুদ্ধে আজ সোচ্চার হতে হবে।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শিববাড়ি আতিয়া মহলে আস্তানা গেঁড়ে বসে থাকা জঙ্গিদের উৎখাত করতে রাষ্ট্রীয় বাহিনি গত তিন ধরে নিরন্তর ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। ব্রিগেডিয়ার পদ মর্যাদার এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জঙ্গী হামলায় আহত হয়ে প্রাণ সংশয়ে রয়েছেন। দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় বোমার আক্রমণে প্রাণ দিয়েছেন আমাদের শহরের সন্তান পুলিশ কর্মকর্তা আবু কয়ছর চৌধুরী দীপুসহ ছয় ব্যক্তি। আতিয়া মহলের ভিতর জঙ্গীরা এত বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও অস্ত্রাদি নিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যুহ তৈরি করেছে যেখানে আমাদের সাহসী সেনাবাহিনি পর্যন্ত আশ্চর্য হয়ে গেছে। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনির বীর সদস্যরা ক্রমশ আতিয়া মহলের জঙ্গি ঘাটতি উৎপাটনে সফলতার পথে এগিয়ে চলছেন। এই মিশনে যারা জীবন দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, তাঁরা জাতির সাহসী সন্তান। তাঁদের সকলের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা।
সিলেটের ঘটনায় জঙ্গীদের বেপরোয়া মনোভাব লক্ষণীয়। যখন আতিয়া মহলে সেনা অভিযান চলছে তখন বাইরের জঙ্গীরা বোমা আক্রমণ চালিয়েছে। বুঝা যায় আতিয়া মহলের বাইরেও সিলেটের আরও নানা জায়গায় রয়েছে এদের শক্তিশালী অবস্থান। এই বিধ্বংশী শক্তিকে রোধ করা এককভাবে সামরিক বাহিনির পক্ষে সম্ভব নয়। এজন প্রয়োজন সর্বসাধারণের সার্বিক সহযোগিতা। জঙ্গীরা যে অবস্থায় জনারণ্যে মিশে আছে সেই তথ্য বের করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনিকে সরবরাহ করতে হবে। একই সাথে জনসাধারণকে দায়িত্ব নিতে হবে মিথ্যা মোহে যেসব তরুণ প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হচ্ছে তাদের সুপথে ফিরিয়ে আনার। চোখ বন্ধ করে বসে থাকলে প্রলয় অনিবার্য। ওই প্রলয়ে সবাই ভেসে যাবে।      

  • [১]