- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জনগণকে সাথে নিয়ে উন্নয়নের অঙ্গিকার

পুলক রাজ
দ্বিতীয় দফায় আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে সুনামগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন। মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২০ ডিসেম্বর রবিবার। ২২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ২৯ ডিসেম্বর। পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে শুরু হয়েছে ভোট প্রস্তুতি। কাউন্সিলর প্রার্থীরা এরই মধ্যে প্রচারণা শুরু করেছেন। ওয়ার্ড পর্যায়ে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে তাদের। বিভিন্ন দিবস ও উৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার লাগাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। গত নির্বাচনে যারা প্রার্থী হয়েছিলেন তারা এবারও প্রার্থী হওয়ার দৌঁড়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওয়ার্ডবাসী। আবার অনেকে মনে করছেন ওয়ার্ডে নতুন মুখও আসতে পারে। এদিকে, নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য সব সময় ওয়ার্ডবাসী পাশে থাকার এবং জনগণকে সাথে নিয়ে উন্নয়ন করার অঙ্গিকার করছেন প্রার্থীরা। সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডটি সোমপাড়া, রায়পাড়া, মোক্তারপাড়া, মধ্যবাজার, পূর্ববাজার, জেল রোড, উত্তর ও দক্ষিণ উকিল পাড়া, উত্তর ও দক্ষিণ হাছননগর নিয়ে গঠিত। ওয়ার্ডে ভোটার রয়েছেন প্রায় ৫ হাজার। পৌরসভা নির্বাচনে চার নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমানসহ পাঁচ জন কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা হলেন সোমপাড়া-রায়পাড়া বাসিন্দা বর্তমান কাউন্সিল চঞ্চল কুমার লোহ, মোক্তারপাড়ার বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন লিঠু, সাদিকুর রহমান রুবেল খান, সোমপাড়া বাসিন্দা পান্ডব দে ও কাজির পয়েন্ট‘এর বাসিন্দা মিন্টু চৌধুরী, ।
বর্তমান কাউন্সিলর চঞ্চল কুমার লোহ বলেন, গত নির্বাচনে ৪ নম্বর ওয়ার্ডবাসী বিপুল ভোটে আমাকে নির্বাচিত করায় নাগরিকবান্ধব আধুনিক ওয়ার্ডে রূপান্তরিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করি। নাগরিক সেবা জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। সুনামগঞ্জ পৌরসভা যদি একটি রাষ্ট্র হয়, তাহলে ৪ নম্বর ওয়ার্ড হচ্ছে তার রাজধানী এই বার্তাটি পৌর পরিষদ, প্রশাসন ও নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দিতে সমর্থ হই। সুনামগঞ্জ পৌরসভার সিংহভাগ আয় অর্জিত হয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে। সুতরাং আয়ের ভিত্তিতে উন্নয়ন নীতিকে সামনে রেখে সব ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করি। পাশাপাশি সুনামগঞ্জ পৌরসভার মূল শহরটি ৪ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় আমাদের ওয়ার্ডেটিকে একটি মর্যাদাসম্পন্ন ওয়ার্ডের আসনে বসাতে সমর্থ হই। পরবর্তীতে ৪ নম্বর ওয়ার্ডকে একটি মডেল ওয়ার্ডের স্বীকৃতি আদায়ের জন্য পৌর পরিষদের সভায় প্রস্তাব উত্থাপন করলে সবাই একমত পোষন করেন। মডেল ওয়ার্ড গঠনের নীতিমালার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
তিনি বলেন, আমি এলাকার শিশু-কিশোরদের সাথে নিয়ে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করি এবং মানুষ যাতে সড়কে ও গলিতে প্রশ্রাব করতে না পাড়ে সে জন্য সাইনবোর্ড লাগাই এবং কয়েকটি টিম করে পালাক্রমে পাহাড়া দিই। পরবর্তীতে এই গলিটি একটি দৃষ্টিনন্দন এলাকায় রূপান্তরিত হয়। মধ্য বাজারের সিনেমা হলের গলিটি অতি প্রাচীন। এই এলাকায় সড়কবাতির ব্যবস্থা না থাকায় ছিনতাই-চুরি ইভটিজিং হতো। সড়কবাতি বসানোর ব্যবস্থা করি এবং এলাকাটিকে আলোকিতো এলাকায় সাজিয়ে তুলি। সোমপাড়া এলাকায় পৌরসভার পানি সরবরাহের কোন ব্যবস্থা ছিলো না, আমি মেয়র মহোদয়ের মাধ্যমে এলাকায় পানি সরবরাহের লাইন স্থাপন করে ঘরে ঘরে ঘরে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করেছি।
তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের দাবি কালিবাড়ী পুকুরটিকে পৌরসভার ব্যবস্থাপনা থেকে কালীবাড়ী নাটমন্দির পরিচালনা কমিটির নামে হস্তান্তর করার। আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে কালীবাড়ী পুকুরটিকে পরিচালনা কমিটির নামে দীর্ঘমেয়াদে ইজারা প্রদান করি। জেলা পরিষদের সহায়তায় রায়পাড়া, জেলরোড, উকিলপাড়া, মোক্তারপাড়া পানির ট্যাংক, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় সুনামগঞ্জ পৌরসভায় প্রথমবারের বাড়ী বাড়ী গিয়ে গৃহস্থলী বর্জ্য ভ্যানের মাধ্যমে সংগ্রহ, সড়ক উন্নয়ন, ড্রেননির্মাণ, কেন্দ্রীয় কবরস্থানের প্রবেশমুখে দৃষ্টিনন্দন গেইট নির্মাণ, করেছি। আমি পুনরায় নির্বাচিত হলে বাজার এলাকাসহ ৪ নম্বর ওয়ার্ডকে ওয়াই-ফাই জোনের আওতায় আনবো। ৪ নম্বর ওয়ার্ডকে মডেল ওয়ার্ডের স্বীকৃতি আদায় করবো। পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেব। সবার কাছে দোয়া ও আশির্বাদ চাই, সবার সহযোগিতায় ৪ নম্বর ওয়ার্ডে উন্নয়নমূলক কাজ করে যেতে চাই।
মিন্টু চৌধুরী বলেন, আমি আসন্ন পৌরসভার নির্বাচনে জনগণের দোয়া ও আশির্বাদ নিয়ে ৪ নম্বর ওয়ার্ড নির্বাচন করতে চাই। গত বন্যার সময় আমাদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের ভোগান্তি দেখেছি আমি। নির্বাচিত হলে প্রথমেই জলাবদ্ধতা সমস্যা দূর করব। গরিব, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পড়তে অসুবিধা হলে যা সহযোগীতা লাগে আমি করবো। পরিবেশ সুন্দর রাখা, রৃক্ষরোপন কর্মসূচি আমার পরিকল্পনায় আছে। প্রশাসনের সহযোগীতায় মাদকমুক্ত ৪ নম্বর ওয়ার্ড গড়ে তোলার চেষ্টা করবো। ইভটিজিং মুক্ত সুন্দর সমাজ গড়ে তুলবো। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকাবাসীর কাছে আমার অনুরোধ রইলো আমাকে নির্বাচিত করে মানুষের সেবা করার সুযোগ দিন।
সাদিকুর রহমান খান রুবেল বলেন, একজন সংস্কৃতি কর্মী হিসেবে ২০ বছর ধরে বিভিন্ন মঞ্চে নিপীড়িত মানুষের কথা বলেছি আমি। অসহায় মানুষের কষ্ট দেখলে আমার কষ্ট হয়। নিজের যতটুকু সামর্থ্য আছে সেটা দিয়ে সবসময়ই চেষ্টা করি মানুষের পাশে থাকার। সরকারি সুযোগ সুবিধা বন্টনের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়ম মেনে নিতে পারি না। আমি নির্বাচনে জয়লাভ করলে আমার পৌর এলাকার সকল নাগরিক যেন তার প্রাপ্য অধিকার আর সুবিধাটুকু পেতে পারে সেটা নিশ্চিত করব। শহরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে শহর টাকে একটা ফুলের বাগানের মত সাজানোর স্বপ্ন দেখি আমি।
তিনি বলেন, শিশু কিশোরের সঠিক মানসিক ও শারীরিক বৃদ্ধির জন্য তাদের খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করা, এলাকাভিত্তিক পাঠাগার তৈরি করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। সামাজিকভাবে এলাকার উন্নয়নে তরুণ দের সংযুক্ত করার জন্য প্রগতি নামে একটি সামাজিক সংগঠন গঠন করেছি। যারা ইতিমধ্যেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় পরিচ্ছন্নতার কাজ করছে।
বোরহান উদ্দিন লিঠু বলেন, পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গরিব অসহায় মানুষের পাশে আছি এবং থাকবো। আমাকে ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত করলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, মাদকমুক্ত, ইভটিজিং মুক্ত সমাজ গড়ে তুলব। সব সময় জনগণের সাথে মিলেমিশে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করবো। স্থানীয় মানুষের সমর্থন ও সহযোগীতায় নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে যাবো। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখাতে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সকলের আন্তরিক সমর্থন ও দোয়া কামনা করি।

  • [১]