জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি ও মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা, ভাষা আন্দোলনের সংগঠক, সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবের অগ্রসৈনিক জননেতা মফিজ আলীর ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
এ উপলক্ষে প্রতি বছরের মত এবারও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলবীবাজার জেলা কমিটির উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ১০টায় প্রয়াত নেতার কমলগঞ্জ উপজেলার ধোপাটিলাস্থ সমাধিতে ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ, গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন, রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন, চা-শ্রমিক সংঘ, স’মিল শ্রমিক সংঘ, হকার্স ্ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পণ ও শপথ গ্রহণ এবং সকাল সাড়ে ১০টায় আলোচনা সভা।
কর্মসূচিতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি কবি শহীদ সাগ্নিক। কর্মসূচিতে ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ এবং তার বেসিক ইউনিট হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন, রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন, স’মিল শ্রমিক সংঘ, চা শ্রমিক সংঘের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের যথাসময়ে উপিস্থত হয়ে প্রয়াত নেতার অসমাপ্ত কাজ তথা জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবের লক্ষ্যে বৃহত্তর আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলার দৃপ্ত শপথ গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ জেলা কমিটির সভাপতি মোঃ নুরুল মোহাইমীন ও সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস।
উল্লেখ্য, সংগ্রামী এই জননেতা ১৯২৭ সালের ১০ডিসেম্বর মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলা শ্রীসূর্য-ধূপাটিলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ ৬০ বছরের বেশি রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছাত্র আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণআন্দোলন, চা শ্রমিক আন্দোলন, বালিশিরা কৃষক আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব প্রদান করেন। বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব প্রদান করার কারণে তিনি বৃটিশ আমল, পাকিস্তান আমল ও বাংলাদেশ আমলে মোট ৭ বার কারাবরণ করেন। মার্কসবাদ-লেনিনবাদের আদর্শে বিশ্বাসী মফিজ আলী জননেতা হিসেবে শোষিত নির্যাতিত শ্রমিক কৃষক মেহনতি মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে যেমন নিরলস সংগ্রাম করে গেছেন তেমনি তাঁর ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে সংশোধনবাদ, সুবিধাবাদীদের মুখোশ উন্মোচন করেছেন।
তিনি সংবাদ, ইত্তেফাক, সাপ্তাহিক জনতা, লালবার্তা প্রভৃতি পত্রিকায় লেখালেখির পাশাপাশি ইংরেজি দৈনিক ডন পত্রিকায়ও এক সময় লিখতেন। তিনি গণতন্ত্রের নির্ভীক মুখপত্র সাপ্তাহিক সেবা পত্রিকায় মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন বিষয় নির্ভর প্রবন্ধ লিখে গেছেন। রাজনৈতিক কারণে কলেজ থেকে বহিস্কৃত হওয়ায় বিএ শেষ বছরের ছাত্র হিসেবে তাঁর শিক্ষা জীবন সমাপ্ত হয়। ২০০৮ সালে ১০ অক্টোবর সংগ্রামী এই জননেতা ৮১ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি