জগন্নাথপুর অফিস
জনবল সংকটের কারণে জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের দাওরাই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি প্রায় দিনই বন্ধ থাকে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবারও স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে কোন কর্মকর্তা কর্মচারী না থাকায় বন্ধ ছিল। ফলে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আশারকান্দি ইউনিয়নের নয়াবন্দর জহিরপুর এলাকায় স্থাপিত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি ইউনিয়নবাসীর একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র। ২০১২ সালে নতুন দ্বিতল ভবনের উদ্বোধন করেন তৎকালীন সংসদ সদস্য বর্তমান পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান।
ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, নিয়ম অনুযায়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন সহকারী মেডিকেল অফিসার, ফার্মাসিস্ট একজন (ইপিআই টেকনিশিয়ান) স্বাস্থ্য সহকারী একজন, স্বাস্থ্য পরিদর্শক একজন ও এমএলএম একজন থাকার কথা। মার্চের শেষ দিকে মেডিকেল অফিসার জাহিদুল ইসলাম কে প্রথমে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বদলি করে আনা হয়। ১৫ এপ্রিল থেকে তিনি সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে করোনা ইউনিটে দায়িত্ব পালন করছেন। সহকারী মেডিকেল অফিসার পদে কোন লোক নেই। ফার্মাসিস্ট পদের দায়িত্বে থাকা ফারুক হোসেন চিকিৎসা জনিত ছুটিতে আছেন। স্বাস্থ্য পরিদর্শক পদে দায়িত্বে থাকা বকুল কান্তি দাস মীরপুর ও আশারকান্দি ইউনিয়নের দায়িত্বে আছেন। ১ জুলাই আশারকান্দি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে আসার পথে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে পা ভেঙে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এমএলএস পদে দায়িত্বে থাকা দিপালী রানী নাথ মাঝে মধ্যে এসে খুললেও সোমবার আসেননি। প্রায় দিনই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি তালা থাকে।
জহিরপুর গ্রামের বাসিন্দা মানবাধিকার কর্মী কায়েস চৌধুরী জানান, জহিরপুর থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দূরত্ব ১৭ কিলোমিটার আর সিলেটের দূরত্ব ৩৭ কিলোমিটার। ইউনিয়নের লোকসংখ্যা ৩১ হাজার। যাতায়াত ব্যবস্থা খারাপ থাকায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র ভরসা। কিন্তু লোকবল সংকটের কারণে ইউনিয়নবাসীকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তিনি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি ২০ শয্যা হাসপাতালে রুপান্তরের দাবি জানিয়ে জনবল নিয়োগের আহ্বান জানান।
নয়াবন্দর বাজার তদারক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কদ্দুস জানান, জগন্নাথপুরের শেষ সীমান্ত ও সিলেটের গোয়ালাবাজার এলাকার পাশে আশারকান্দি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও কল্যাণ কেন্দ্রটির অবস্থান। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে এটি এলাকার ৫০ হাজার মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল। কিন্তু দুঃখের বিষয় লোকবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্য সেবা থেকে আমরা বঞ্চিত।
স্বাস্থ্য সহকারী গিরিন্দ্র দাশ জানান, গত ২৪ জুন তিনি করোনা পজিটিভ শনাক্ত হলে বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসাধীন ছিলেন। যে কারণে কয়েক দিন ছিলেন না। এখন তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। সোমবার ইপিআই থাকায় মাঠে ছিলেন।
স্বাস্থ্য পরিদর্শক বকুল চন্দ্র দাশ বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পা ভেঙে ছুটিতে আছেন।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা মেডিকেল অফিসার জাহিদুল ইসলাম জানান, করোনা সংক্রমনের কারণে সংযুক্তি আদেশে তিনি সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে করোনা ইউনিটে দায়িত্ব পালন করছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাকে আবারো আশারকান্দি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে এসে দায়িত্ব পালন করবেন।
আশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আবু ঈমানী বলেন, লোকবল সংকটে প্রায়ই এটি বন্ধ থাকে এতে ইউনিয়নবাসী চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। আমরা জনবল নিয়োগের মাধ্যমে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে বাস্তবায়নের দাবি জানাই।
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মধু সূদন ধর বলেন, লোকবল সংকটের মধ্যেও আমরা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো চালু রাখতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সোমবার কেন বন্ধ ছিল খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।