স্টাফ রিপোর্টার
জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ি চার্জশীটভুক্ত আসামীগণ সাজা না হলে নির্বাচন করতে পারবেন। তবে ফেরারী আসামী হলে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা চাইবেন জেলা রিটার্নিং অফিসার। সাজা না হলে চার্জশীটভুক্ত আসামীরা জেলে থেকেও নির্বাচন করতে পারবেন। এই প্রজ্ঞাপন চার্জশীটমুক্ত আসামীদের চিন্তামুক্ত
করেছে।
জানা যায়, জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, দিরাই-শাল্লাসহ জেলা পরিষদের কয়েকটি ওয়ার্ডে গত ৪ বছরে পুলিশের দায়ের করা মামলাসহ বিভিন্ন মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামীরা প্রচারণায় নেমেছেন। এরা জামিনে রয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই তারা চিন্তিত ছিলেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়া যাবে কী-না।
তাহিরপুর উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুনাব আলী বলেন,‘প্রচারণার শুরুতে আমি চিন্তিত ছিলাম। নির্বাচনে অংশ নিতে পারবো কী না, এই নিয়ে। বৃহস্পতিবার জেনেছি সাজা না হলে চার্জশীটভুক্ত আসামীরা নির্বাচন করতে পারবেন। আমি ফেরারী নই, জামিনে রয়েছি, সুতরাং নির্বাচন করতে আমার আইনী কোন অসুবিধা নেই’।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিধি বিধান অন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালার মতোই।
যেসব কারণ থাকলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা যাবে না, সেগুলো হচ্ছে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব না থাকলে, অপ্রকৃতিস্থ বা দেউলিয়া হলে, নৈতিক স্খলনজনিত কারণে ২ বছরের সাজা হলে, সরকারি কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকলে, ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বা সদস্য থাকলে (পদত্যাগ করে করা যাবে), পরিষদের কোন ঠিকাদার বা মালামাল সংগ্রহের জন্য ঠিকাদার নিযুক্ত হলে বা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হলে এবং সরকার কর্তৃক অত্যাবশ্যকীয় কোন দ্রব্যের দোকানদার হলে, ঋণ খেলাপি হলে।
নির্বাচনের অংশগ্রহণের যোগ্যতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় নাম থাকতে হবে। বয়স ২৫ হতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও নির্বাচন করতে পারবে। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করা হলে সর্বোচ্চ সনদ দিতে হবে।
জেলা নির্বাচন অফিসার মো. সাদেকুল ইসলাম বলেন,‘চার্জশীটভুক্ত কোন আসামী দোষী সাব্যস্ত না হলে কিংবা ফেরারী না হলে নির্বাচন করতে পারবেন। ফেরারী আসামী কেউ মনোনয়ন জমা দিলে তার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা চাওয়া হবে।’