- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জলমহালে পানি শুকিয়ে মাছ শিকার, হুমকির মুখে স্লুইসগেট

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুরে জলমহালের পানি শুকিয়ে মাছ শিকার করতে গিয়ে হাওরের ফসল রক্ষার একটি স্লুইসগেট হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ফসলডুবি ঘটতে পারে এমন শঙ্কায় উদ্বিগ্ন হাওরপাড়ের লোকজন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, জগন্নাথপুরের সর্ববৃহৎ নলুয়া হাওরের ফসলরক্ষার জন্য ভুরাখালি গ্রামের নিকটবর্তী এলাকায় স্থাপিত হয় একটি স্লুইটগেট। এই স্লুইটগেট দিয়ে বয়ে গেছে সরকারি হামহামি জলমহাল। ইজাদাররা মাছ ধরার জন্য পানির মেশিন লাগিয়ে শুকিয়ে ফেলছে। এতে করে স্লুইসগেটটি হুমকির মুখে পড়েছে। এরমধ্যেই স্লুইসগেটের ব্লক নিচের দিকে পড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, স্লুইসগেটের ক্ষতি হবে এজন্য কখন পানি শুকিয়ে মাছ ধরা হয়নি অন্যান্য বছর। কিন্তু এবার ইজাদারা কৃষকদের বাধা উপেক্ষা করে বিল শুকিয়ে অসময়ে মাছ ধরছে। এ কারণে স্লুইসগেটটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ভুরাখালি গ্রামের কৃষক আকিক মিয়া জানান, হামহামি জলমহালের ইজারাদাররা মাছ ধরার জন্য পানি শুকিয়ে ফেলছে। এজন্য স্লুইসগেটটি ঝুঁকিতে পড়েছে। এরমধ্যেই স্লুইসগেটের ব্লক ভেঙে পড়া শুরু হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে হাওরের ফসলডুবির শঙ্কা রয়েছে।
দাসনোওয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা কৃষক নগেন্দ্র দাস জানান, নলুয়ার হাওরে জগন্নাথপুর ও দিরাই উপজেলার একাংশের কৃষকরা বোরো আবাদ করে আসছেন। ফসলরক্ষার জন্য নির্মিত স্লুইসগেট এলাকায় হামহামি জলমহালের মাছ শিকার করতে স্লইসগেটটি এখন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের রনধীর দাস নান্টু বলেন, একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে জলমহালের ইজাদারদের বারবার বলেছি, পানি শুকিয়ে মাছ না করার জন্য। তারা শুনছেন না। এ কারণে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে ফসল রক্ষা জলগেটটি। বিষয়টি আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করেছি।
এ বিষয়ে জানতে হামহামি জলমহালের ইজারাদার উপেন্দ্র দাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জগন্নাথপুর উপজেলার মাঠ কর্মকর্তা উপসহকারী প্রকৌশলী হাসান গাজী বলেন, বিলে মাছ ধরার সময় শেষ। ইজাদারদের আমরা নিষেধ দিয়েছি পানি না শুকানোর জন্য। তারা কথা শুনে নি।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

  • [১]