স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের একটি জলমহালে ইজারাদার ও তার লোকজনের মারধরে এক গ্রামবাসী মারা গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত আলিম তালুকদারের (৩০) বাড়ি সদর উপজেলার দরিয়াবাজ গ্রামে। শনিবার সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।
নিহতের বাবা হানিফ তালুকদার জানান, সদর উপজেলার বড়দই বিলের পাশেই তাদের নিজস্ব একটি ডোবা আছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই ডোবায় মাছ ধরতে গিয়েছিলেন তার ছেলে আলিম তালুকদার। সেখান থেকে বড়দই বিলের ইজারাদারের লোকজন তাকে ধরে বিলের খলায় নিয়ে গিয়ে ব্যাপক মারধর করেন। এতে তার একটি হাত ভেঙে যায়। রাতে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসাপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে ইজারাদারের লোকজন তাদের বাধা দেয়। পরে শুক্রবার সকালে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর রাতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে নেওয়া হয় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে শনিবার সকালে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় শনিবার সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়াডের্র সদস্য আবদুল্লাহপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জহুর আলী, একই গ্রামের মমিনুল ইসলাম এবং দরিয়াবাজ গ্রামের জসু মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।
বড়দই জলমহালের ইজাদারদার সৈয়দ মো. মনোয়ার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি ওইদিন বিলেই ছিলেন না। ঘটনার তিনদিন আগেই বিলে মাছ ধরা শেষ করে তারা সেখান থেকে চলে এসেছেন। তাদের বিলে এ ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় দুই পক্ষের বিরোধের জের ধরে বিলের বাইরে এ ঘটনা ঘটেছে। এখন একটি পক্ষ এ ঘটনায় তাদের জড়ানোর চেষ্টা করছে।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেছেন, নিহত আলিমদের সঙ্গে গ্রামের অন্য একটি পক্ষের পুর্ববিরোধ ও মামলা আছে। আলিম দাবী করছিল বড়দই বিলের একটি অংশে তার পৈত্রিক জমি আছে। কিন্তু সে আমাদের কখনো কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। পূর্ববিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে। আলিমের পরিবার দাবি করছে, বড়দইবিলের ইজারাদারসহ তার লোকজনের মারধরে আলীম মারা গেছে। পুলিশ এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে। মামলা হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিকালে আলিম তালুকদারের বিচারের দাবিতে এলাকার তরুণরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।