- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জলাশয় উচ্ছেদ অভিযানের সফলতা কামনা করি

সরকারের নদী, খাল ও জলাশয় উদ্ধার অভিযান শুরুর দিন অর্থাৎ ২৩ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জে বেশ ভাল সাড়া ফেলেছে। এই দিন জেলা সদরসহ ৫ উপজেলায় অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে অভিযান শুরু হয়। উপজেলাগুলোর চাইতে জেলা সদরে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানটি ছিল উল্লেখ করার মত। এদিন শহরের বড়পাড়া এলাকায় নদীর পাড় দখল করে গড়ে উঠা কয়েকটি দোকান, মার্কেট, বাসা ও অন্যান্য স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। আশা করা যায়, সামনের দিনগুলোতে এই অভিযানের মাত্রা ও কার্যকারিতা আরও বাড়বে। অসহনীয় দখলদারিত্বের কারণে আমাদের জলাশয়গুলো হারিয়ে গেছে। এর ফলে জনপদে তৈরি হয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে এখন যে অসহ্য জলাবদ্ধতা তৈরি হয় তার অন্যতম কারণ হল, শহরের পানি প্রবাহের প্রাকৃতিক খালগুলো দখল হয়ে পড়া। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে বিভিন্ন এলাকায় দেখা দেয় অকাল বন্যা। সরকার নদীমাতৃক বাংলাদেশের দখল হয়ে যাওয়া জলাশয়গুলো উদ্ধারের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছেন। তাই দখল হয়ে যাওয়া বিভিন্ন জলাশয় উদ্ধারে ২৩ ডিসেম্বর থেকে অভিযান শুরু করেছেন। দেশবাসীসহ আমরা এই অভিযানের মাধ্যমে জলাশয়গুলোকে পূর্বাবস্থায় দেখার আশা পোষণ করি।
জলাশয় পুনরুদ্ধার করা বেশ কষ্টসাধ্য কাজ নিঃসন্দেহে। দখলদারিত্বের ইতিহাস অনেক পুরোনো। অনেক জায়গায় গড়ে উঠেছে স্থায়ী স্থাপনা। দখলদাররা নানাভাবে প্রভাবশালী। প্রভাবের জোরে বার বারই এদের দ্বারা উচ্ছেদ অভিযানকে অকার্যকর করে ফেলতে দেখেছি। তাই সত্যিই যদি সরকার উচ্ছেদ অভিযানকে ফলপ্রসূ করতে চান তাহলে এজন্য তাদের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে হবে। অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। আজকের উচ্ছেদের পর যদি কালকেই সেখানে আবারো দখল প্রক্রিয়া শুরু হয় তাহলে কোনো লাভ হবে না। সড়ক ও জনপথ কিংবা রেল বিভাগের দখল হয়ে যাওয়া জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের খবর আমরা মাঝেমধ্যে দেখতে পাই। বেশ ঘটা করে এসব উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই আবার জায়গাগুলো পুনর্দখল হয়ে পড়ারও খবর পাওয়া যায় নিয়মিত। তাই একই জায়গায় সময়ের ব্যবধানে একাধিকবার অভিযান পরিচালিত হতে দেখি আমরা। এমন নামসর্বস্ব অভিযান থেকে মূলত কোনো স্থায়ী সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। দখলদারদের এমন বার্তা দিতে হবে যে, তারা যদি দখলদারিত্ব স্থায়ীভাবে না ছাড়েন তাহলে কঠোর সাজার সম্মুখীন হতে হবে। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত আরেকটি সংবাদ থেকে জানা যায়, জগন্নাথপুরের নলজুর নদীর অনেক জায়গা লোকজন রীতিমত বন্দোবস্ত গ্রহণ করে ভোগ দখল করছেন। অথচ আইন মোতাবেক নদী বন্দোবস্ত দেয়ার বিধান নেই। কীভাবে এসব বন্দোবস্ত সম্পাদিত হল, কারা এর জন্য দায়ী তাদেরকেও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
প্রশাসন আরেকটি কাজ করতে পারেন। দখলদারদের তালিকা নিশ্চয়ই তারা করেছেন। তালিকা ছাড়া উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এই দখলদারদের তালিকা গণমাধ্যমে ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় গণবিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করে তাদেরকে নিজ দায়িত্বে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেয়া যেতে পারে। এতে দখলদাররা এক ধরনের সামাজিক চাপ অনুভব করবেন। মানুষও দখলদারদের চিনতে পারবে।
সুনামগঞ্জের জেলা ও উপজেলা প্রশাসন জলাশয় উদ্ধারে যে অভিযান শুরু করেছেন আমরা তার সর্বতো সফলতা কামনা করি। আমরা জানি সরকারের এই কাজে ব্যাপক নাগরিক সমাজের রয়েছে পূর্ণ সমর্থন। তাই এই অভিযানের পর আমরা এমন একটি পরিবেশ দেখতে চাই যেখানে প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো নিজের চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে বাংলাদেশের জলবায়ু ও প্রকৃতিকে রক্ষা করতে সহায়ক হবে।

  • [১]