- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জামখলা হাওরে ঝুঁকিপূর্ণ বেরিবাঁধ, আতংকে কৃষক

কাজী জমিরুল ইসলাম মমতাজ, শান্তিগঞ্জ
শান্তিগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের জামখলা হাওরের ৬নং বাঁধের কাজ নিয়ে বেকায়দায় রয়েছেন পিআইসি সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা যায়, জামখলা হাওরের উত্তর পাশে ও বাগেরকোনা গ্রামের পশ্চিমের পাশে ছয়হাড়া টু সলফ এলজিইডি সড়কের প্রায় ৪শত ফুট নদী ভাঙ্গন এলাকায় কাজ চলছে। এই জায়গাটুকু মহাসিং নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে গত বছর বন্যার সময় পাকা সড়কসহ ভেঙ্গে যায়। ফলে এক বছর যাবৎ ছয়হাড়া থেকে লালপুর, সলফ ও ধরমপুরের জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র সড়ক দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাঁধটি নদী ভাঙ্গন এলাকায় হওয়ায় এবং আগাম বন্যায় পানি প্রবেশ করে জামখলা হাওর তলিয়ে যাওয়ার আশংকা থাকায় সড়কটিকে বেরিবাঁধের প্রকল্পের আওতায় এনে বরাদ্দ দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বাঁধটির উত্তর পাশ নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ায় বাঁধের মাটি এবং বাঁশের আড় মহাসিং নদীর দিকে দেবে যাচ্ছে।
জামখলা হাওরের কৃষক খালিক মিয়া বলেন, জামখলা হাওরের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বেরিবাঁধ হচ্ছে এটি। এই বাঁধটিকে সময় থাকতে যদি টেকসইভাবে নির্মাণ করা না যায়, তাহলে হাওরে পানি ঢোকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাগেরকোনা গ্রামের কৃষক নফিছ মিয়া বলেন, আমরা এই বাঁধটি নিয়ে আতংকের মাঝে আছি। মেঘ বৃষ্টি হলেই বাঁধ ভেঙ্গে হাওরে পানি প্রবেশ করতে পারে।
এ ব্যাপারে জামখলা হাওরের ৬ নং পিআইসির সভাপতি আবু খালেদ চৌধুরী জানান, আমি শতভাগ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি বাঁধের কাজ কিভাবে টেকসই করা যায়। কিন্তু জায়গাটি নদী ভাঙ্গনের এলাকায় হওয়ায় বাঁশের আড় ও মাটি নদীর দিকে হেলে যাচ্ছে। বাঁধে আরও বরাদ্দ বাড়িয়ে প্রায় ৪০ফুট লম্বা বল্লী ও ব্লক লাগানো প্রয়োজন, না হয় বাঁধ টিকানো কঠিন হয়ে যাবে।
এ ব্যাপারে দরগাপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও দরগাপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির উদ্দিন বলেন, নদী ভাঙ্গন এলাকার বেরিবাঁধটি এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ তত্বাবধানে স্থায়ীভাবে গাইড ওয়াল অথবা বল্লী ও ব্লক স্থাপন করে টেকসইভাবে নির্মাণ করা প্রয়োজন। না হলে আগাম বন্যায় এই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে জামখলা হাওর তলিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মাহবুর রহমান জানান, এই বাঁধটি নদী ভাঙ্গনে কবলিত হওয়ায় বল্লী ও ব্লক লাগানোর জন্য চেষ্টা করেছি, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আনোয়ার উজ জামান বলেন, এই বাঁধটি আসলেই ঝুঁকিপূর্ণ। এই বাঁধের দিকে আমাদের সার্বক্ষণিক নজর থাকবে।

  • [১]