- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জামালগঞ্জের শিশু ধর্ষণ বিচারের পাশাপাশি সমাজকে পরিশুদ্ধ করার প্রয়াস শুরু করুন

জামালগঞ্জে এক স্কুল ছাত্রীকে নৌকাভ্রমণে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ এবং ধর্ষণদৃশ্যের ভিডিও ধারণ পরবর্তীতে ওই ভিডিও দেখিয়ে তাকে আবারও ভোগ করার চেষ্টা শেষতক এনিয়ে মামলা এবং দুইজন গ্রেফতার হওয়ার খবর আমাদের সমাজ বাস্তবতার একটি কুৎসিত চিত্র। সমাজ মানসে কী পরিমাণ কুপ্রবৃত্তি দানা বেঁধেছে এটি তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। ধর্ষণের শিকার মেয়েটির নাম পরিচয় সংবাদে সংগত কারণেই গোপন রাখা হয়েছে। তবে এটুকু তথ্য পাওয়া গেছে যে মেয়েটি ৭ম শ্রেণির ছাত্রী। সুতরাং ধরে নেয়া অসংগত হবে না যে মেয়েটি নিতান্তই বালিকা ছিল। ৭ম শ্রেণিতে পড়লে যে বয়স হয় সেই বয়সটিকে বয়সন্ধিকাল বলা হয়। এসময়ে শরীর ও মনের নানাবিধ পরিবর্তন ঘটার সূত্রপাত হয় । বয়সন্ধিকালকে তাই ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে পথ-স্খলনের বিপদসংকেত হিসাবে দেখা হয় আমাদের রক্ষণশীল ও নিয়ন্ত্রিত সমাজে। সকল পরিবারের অভিভাবকরা তাদের এ বয়সী সন্তানদের চলাফেরা নজরদারিতে রাখেন। জামালগঞ্জের একটি মেয়ে যখন ওই বয়সে তথাকথিত প্রেমের প্রলোভনে পড়ে গিয়ে ছেলেদের সাথে নৌকায় ভ্রমণ পর্যন্ত করে ফেলতে পারে তখন বুঝা যায় মেয়েটির পরিবার এসব বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন ছিলেন না। সচেতন না থাকার খেসারত এখন তাদেরকে দিতে হচ্ছে কড়ায়-গ-ায়। একই কথা সমান সত্য অপরাধী ছেলেগুলোর ক্ষেত্রেও।  পারিবারিক অসচেতনতার কারণে ছেলে-মেয়েদের এই বিপথগামিতা এখন আমাদের সমাজ ব্যবস্থার একটি অন্যতম সমস্যা। এরসাথে যুক্ত হয় সামাজিক কু-প্রবণতা। সকলেরই জানা রয়েছে যে, ব্যক্তি তার চারপাশের সমাজ দ্বারা বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রিত। সমাজে যদি খারাপের প্রাবল্য থাকে তখন ভাল প্রপঞ্চগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে নতুবা খারাপের সাথে মিশে যায়। সুতরাং জামালগঞ্জের এক নাবালিকা মেয়ের প্রেমের ফাঁদে আটকে পড়ে ধর্ষিত হওয়ার বিষয়টিকে ব্যক্তিক-পারিবারিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে বিচার করতে হবে। এবং সমাধানের জন্য আইনি প্রতিকারের পাশাপাশি সামাজিক অনুশাসনগুলো পরিবর্তনের ব্যাপারেও সজাগ হতে হবে। জামালগঞ্জের কথিত ধর্ষণ ঘটনায় একাধিক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে প্রেমের নামে প্রতারণা, তাকে ফুসলিয়ে নৌভ্রমণে নিয়ে যাওয়া, ধর্ষণ, ধর্ষণ দৃশ্যের ভিডিও ধারণ, ভিডিও দেখিয়ে তাকে আবারও প্রতারণার চেষ্টা এবং সব শেষে জঘন্য ভিডিও দৃশ্য ইন্টারনেটে প্রচার করা; এরকম বেশ কতগুলো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়েছে এখানে। সুতরাং এই ঘটনাকে কোনভাবেই হালকা করে দেখার উপায় নেই। প্রতিটি অপরাধকর্মের সাথে যুক্ত দুস্কৃতিকারীদের এখন উপযুক্ত বিচার করা রাষ্ট্রকাঠামোর অপরিহার্য কর্তব্য। আশাব্যঞ্জক খবর হলো অপরাধ ঘটনায় জড়িত দুই ব্যক্তি ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে। আমরা কামনা করি, মূল অপরাধীও শীঘ্রই ধরা পড়বে। এবং সকল অপরাধীর ক্ষেত্রে আইনের দ্রুত প্রয়োগ ঘটবে।
তথ্যপ্রযুক্তিকে বর্তমান আধুনিক সময়ের সবচাইতে কার্যকর ও প্রয়োজনীয় উপকরণ বিবেচনা করা হয়। পৃথিবীর যাবতীয় উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করেছে এই প্রযুক্তি। মানুষের জীবনকে অনেক বেশি আকর্ষণীয় ও উপভোগ্য করেছে বিজ্ঞানের এই উপহারটি। কিন্তু মানুষের জীবনে অপরিহার্য এই প্রযুক্তিটি একই সাথে মানব সভ্যতার জন্য কতখানি বিপর্যয়কর তাও আমরা প্রতি মুহূর্তে টের পাচ্ছি।  এই প্রযুক্তির অপব্যবহারের শিকার অসংখ্য মানুষ একে অভিসম্পাত দিচ্ছে। সম্ভবত দৃনিয়ার কোন জিনিসই শেষপর্যন্ত নিজে নিজে খারাপ বা ভাল হতে পারে না। এর সাথে জড়িত ব্যক্তির উদ্দেশ্যের উপরই একই জিনিস মহত্তম আবার সেটিই নিকৃষ্ট আখ্যায় অভিষিক্ত হয়। সুতরাং কোন আবিষ্কার কিংবা প্রযুক্তিকে দোষ দিয়ে আসলে লাভ নেই। আসল কথা হলো মানুষকে সংশোধন করা তার ভিতরকার কুপ্রবৃত্তিকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করা। এই প্রয়াস শুরু না হওয়া পর্যন্ত জামালগঞ্জের মতো দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

  • [১]