- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জামালগঞ্জে উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরতে বাধার অভিযোগ

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
জামালগঞ্জে উন্মুক্ত জলাশয় বল হাওরের নদীতে মাছ ধরতে জেলেদেরকে বাধা দেওয়ার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোন ধরনের অনুমতি, খাজনা বা দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয় নি প্রশাসনের পক্ষ থেকে অথচ জলমহালকে দখল করে নিয়েছে ইজারাদার ও তাদের লোকেরা । অবশ্য ইজারাদাররা দাবি করেছেন আমরা এখনো দখল পাইনি সত্য  তবে আমরাই জলমহাল পাবো।
জলমহালটিকে উন্মুক্ত দাবি নিয়ে গত বুধবার বিকেলে জামালগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত অভিযোগ দায়ের   করেছেন উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের শ্রীপুর  গ্রামের মৃত আব্দুল গনির পুত্র  সিরাজ মিয়া, মৌলিনগর গ্রামের আব্দুল আলীর পুত্র  জাকির হোসেন, হামিদুল ইসলামের পুত্র  ফখরুল ইসলাম ও পুরান চান্দবাড়ী  গ্রামের আব্দুল জলিলের পুত্র আকমল হোসেন।
লিখিত অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, ‘আমরা মধ্যবিত্ত কৃষক ও অধিকাংশই জেলে সম্প্রদায়ের লোক। গত বন্যায় আমাদের ফসল হানির কারণে আমরা অনেক কষ্টে জাল দড়ি খরিদ করিয়া নি¤œ তপশীল বর্ণিত বল হাওর অবমুক্ত নদী জলমহালে জাল দিয়া মাছ আহরণ করিয়া নিজেরা খাই এবং যৎসামান্য বাজারে বিক্রয় করিয়া তাহা দ্বারা জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করিয়া থাকি। আমরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়া জানিতে পারিলাম ১৪২৪ বাংলা সনের ৩০শে চৈত্র পর্যন্ত বর্ণিত জলমহালটি সর্ব সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।’
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ‘ বিবাদীগণ অন্যায় লাভের আশায় আমাদেরকে বিগত ২/৩ মাস যাবত নানা ভাবে নির্যাতন করিয়া আমাদের জাল দড়ি ছিনাইয়া নিয়া আমরা চার গ্রামের লোকজনের প্রায় ৫/৬ লক্ষ টাকার মারাত্মক ক্ষতিসাধন করিয়াছে।
শ্রীপুর গ্রামের আমির উদ্দিনের পুত্র ফয়জুল হক,সোনাহর আলীর পুত্র সরল মিয়া,মনর উদ্দিনের পুত্র শফিক মিয়া,মতছির আলীর পুত্র পন্ডিত ও রাহুল মিয়া,ইসলামপুরের রেজাউল করিমের পুত্র আক্কাছ আলী,আ: জলিলের পুত্র আবুল হোসেন উগ্র দাঙ্গাবাজ সন্ত্রাসী যাহার ফলে ভূয়া জলমহাল বন্দোবস্ত আনিয়াছে বলিয়া আমাদেরকে নানাভাবে নির্যাতন করিতেছে। এই ব্যাপারে আমরা এলাকা ভিত্তিক সালিশে বসিয়া বিবাদীগণকে কাগজপত্র দেখানোর ব্যাপারে আহ্বান করিলে বিবাদীগণ ইজারা কোন কাগজপত্র দেখাইতে পারে নাই।’
এ বিষয়ে জেলেদের বাধা প্রদানকারী ইসলামপুর গ্রামের আরজ আলী বলেন, ‘আমরা কাউকে মারধর করিনি, আমাদেরকে পাহাড়াদার রেখেছেন, আমরা মাসিক বেতনে থাকি, বিলের মালিক নোয়াগাওয়ের খোকন আর বাবুল মেম্বার।’
উন্মুক্ত জলাশয়ে কাটাবাঁশ ফেলা ও পাহাড়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন জানলাম খাজনা দেওয়া হয়নাই, বিল উন্মুক্ত,আমরা আর পাহাড়াদারিতে যাব না।’
জলমহালের মালিক দাবীদার খোকন মিয়া বলেন,পঞ্চগ্রাম মৎস্যজীবি সমিতির নামে বল-হাওর জলমহালের একক টেন্ডার অংশগ্রহণ করা হয়েছে, জেলার আগামী সভায় এবিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে আমরা খাজনা দেবো।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আল ইমরান বলেন, জেলেদের লিখিত অভিযোগের কপি পেয়েছি, বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে,তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • [১]