জামালগঞ্জ সংবাদদাতা
জামালগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দোয়ারাবাজারের সোনারতরী, দ্বিতীয় শান্তিগঞ্জের বীরপ্রবণ ও তৃতীয় ছাতকের উড়ালপঙ্কি। রবিবার বিকালে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
বাউল স¤্রাট শাহ্ আব্দুল করিমের ‘ঝিল মিল, ঝিল মিল করেরে ময়ূর পঙ্খী নায়’ এমন গান আর মাঝিমাল্লার বৈঠার ছন্দ ও ঢাকঢোলের তালে তালে মেতে ওঠে আটগাঁও লালবাজারের শান্ত নদী। সেই তালে তালে তাল মেলাতে নৌকা বাইচ দেখতে বিস্তৃত জামালগঞ্জের হাওরপাড়ের হাজারও মানুষ জড়ো হন। আবহমান বাঙালি জাতির ঐতিহ্য ও শতবর্ষের প্রাচীন সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ নৌকা বাইচ। নদীমাতৃক দেশের গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির সেই ঐতিহ্যকে বুকে ধারণ করে দেশের বিভিন্ন নদনদী ও হাওরে আয়োজন করা হয় নৌকা বাইচ। এই ধারাবাহিকতায় জামালগঞ্জের দিগন্ত বিস্তৃত জলভরা দৃষ্টিনন্দন আটগাঁও লালবাজারে উৎসবমুখর পরিবেশে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি রেজাউল করিম শামীম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সাধারণ সম্পাদক এম নবী হোসেন, ভীমখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান তালুকদার। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আশরাফুজ্জামান, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মিসবাহ উদ্দিন, সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জীতেন্দ্র তালুকদার পিন্টু, আওয়ামী লীগ নেতা আসাদ আল আজাদ প্রমুখ।
প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৫টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। দোয়ারাবাজারের সোনার তরী, শান্তিগঞ্জের বীরগাঁওয়ের বীরপ্রবণ, ছাতকের উড়ালপঙ্কি, জামালগঞ্জের গজারিয়ার উত্তরপাড়া যুব কল্যাণ সমিতি ও বিনাজুড়া গ্রামের ২টি নৌকা ছিল। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সোনার তরী, দ্বিতীয় হয়েছে বীরপ্রবণ ও তৃতীয় উড়ালপঙ্কি।
বিজয়ী ১ম প্রতিযোগীর মাঝে ফ্রিজ, ২য় ও ৩য় প্রতিযোগীদের হাতে টেলিভিশন তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া অন্যদের সান্ত¦না পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।