আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জে মৎস্য সপ্তাহের পাশাপাশি পোনা মাছ নিধনের মহোৎসব শুরু হয়েছে। অবাধে মৎস্য নিধনের কাজে উৎসাহিত ও অসৎ উপায়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মৎস্য অফিসের একজন সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
অবশ্য উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা এই বিষয়গুলোর সাথে কোনভাবেই জড়িত নন বলে জানিয়েছেন।
হাওর পাড়ের মানুষ যখন টানা ক’দিনের বন্যার সময় পার করছিলেন ঠিক সেই সময়ে মৎস্য সপ্তাহ পালন চলছিলো। সরকারিভাবে যে নিয়ম অনুযায়ী মৎস্য সপ্তাহ পালন করার কথা ঠিক সেই নিয়মে পালন না করে শুধু মাত্র একটি র্যালি ও আলোচনা সভা করা হয়েছে এখানে।
উপজেলার হালির,পাকনার, ছন্নার, আইলা, দিরাই চাতল, ভান্ডা বিল ও আশপাশের জলাশয়ে প্রকাশ্যে শত শত কোনা জাল ও কারেন্টের জাল ব্যবহার হচ্ছে। অধিকাংশ মৎস্যজীবির একই বক্তব্য, ‘আমরার ফিসারী সাব জানওইন তাইনের সাথে আলাপ কইরাই আমরা জাল পাতি, তাইন সবতাই জানওইন’ ।
সরেজমিনে মঙ্গলবার পাকনার হাওরের লক্ষীপুর, হঠামারা, উদয়পুর, নাজিমনগর, ছয়হারা, গঙ্গাধর পুর, রাজাপুর, তেরানগর এমনকি লালবাজার ও কারেন্টের বাজারের আশপাশে প্রকাশ্যে কোনা জাল দিয়ে অবাধে মাছের পোনা ধরতে দেখা গেছে। একইভাবে গেল সোমবার ছন্নার হাওর, হালির হাওরের বন্যা দুর্গত এলাকা পরির্দশনের সময় কুকড়াপশী, ভরতপুর, চানপুর, হরিয়ারপুর গ্রামের সামনে জেলেদেরকে কোনা জাল দিয়ে মৎস্য নিধন করতে দেখা গেছে। ব্যতিক্রম হয়নি বেহেলী ইউনিয়নের ক্ষেত্রেও রাজাপুর, বদরপুর, ইনাতনগর, হাওরিয়া আলীপুর, গোপালপুর, নিতাইপুর, হরিনাকান্দি, আছানপুর, উলুকান্দি, যতীন্দ্রপুর গ্রামের সামনে ও পেছনে জেলেরা অবাধে পোনা ও ছোট আকারের মাছ নিধন করছে। স্থানীয়দের দাবি হাওরগুলোতে বর্ষাকালে যেভাবে পোনা মাছ নিধন ও শীত মৌসুমে বিলের পানি শুকিয়ে সেচ দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে আর কয়েক বছর পর হাওর এলাকাতে অনেক দেশী প্রজাতির মাছ আর দেখা যাবেনা। হাওর এলাকার পরিচিত রুই, কাতলা, চিতল, রানী, টেংরা, গুলসাইয়া, শিং, মাগুর, কই, পুটি, তিতলা, কটকটি, বাইম, বোয়াল, শোল, গজার, মখা,চাপিলা, কাইক্কা, লাডি, চিংড়ি, বইছা, তারা বাইম, গুতুম. বেদা, কালি বাউস, গইন্না হারিয়ে যাচ্ছে।
নাম না বলার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রায় রাতেই মৎস্য অফিসের লোকজনের সাথে অবৈধ কোনাজাল ও কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকারীদের সাথে চলে গোপন বৈঠক। আর রাতের বেলা ওই কার্যালয়ে চলে লেনদেন। এবার মৎস্যসপ্তাহে উপজেলার কোন হাট-বাজারে মৎস্য নীতিমালার বা অপরাধ দমনের কোন প্রচারাভিযান করতে দেখা যায়নি।
এব্যাপারে জামলগঞ্জের সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন,‘আমি আগে ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলাম। এখন সহকারী, আমার সাথে কোনাজাল ব্যবহারকারীদের সাথে যোগাযোগ নেই। হাওরে গেলে যাচাই করলে কোনভাবেই আমার জড়িত থাকার বিষয় পাবেন না।
জামালগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেফাউল আলম বলেন,‘আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি । ১৮জুলাই শুরু হয়ে ২৫ জুলাই মৎস্য সপ্তাহ শেষ হয়েছে। অতীতে কেউ কোন অনিয়ম করে থাকলে এখন আর কোন অনিয়ম হবে না। আমি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসা বলেন,‘মৎস্য সপ্তাহে আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছি। নিয়মিতভাবে কোনা জাল কারেন্ট জালসহ সকল অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’