আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূরুল আলম ভুইয়ার বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অর্থ) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন উপজেলার ৪ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
প্রধান শিক্ষক আব্দুল গাফফার, তোফাজ্জল হোসেন, বরুন কুমার দাস প্রমুখ স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জামালগঞ্জে যোগদানের পর থেকে শিক্ষা অফিসকে দুর্নীতির একটি অভয় আশ্রমে পরিণত করেছেন। তিনি অপকর্মগুলোকে সামাল দিতে স্থানীয় কয়েকজন নেতা ও সাংবাদিককে মাসোহারা প্রদান করে নির্ভয়ে সকল অনিয়ম ও দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। কোন শিক্ষক এ ব্যাপারে কথা বললে সুযোগমত বিদ্যালয় পরির্দশন করে অনুপস্থিত শিক্ষকের কাছ থেকে ৫ হাজার হতে ১০ হাজার টাকা আদায়, বেতন বন্ধ বা ডেপুটেশন সহ অন্যান্য হয়রানি করেন। তিনি নতুন পে স্কেলের কথা বলে উপজেলায় কর্মরত ৬শত শিক্ষকের কাছ থেকে ৩ শত টাকা করে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। যে শিক্ষক টাকার ব্যাপারে কথা বলেছিলেন তাদের প্রথম দফায় ফিক্সেশন হয়নি। এভাবে টাকা আদায় করে ৪/৫ ধাপে ফিক্সেশন করেন। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়,শিক্ষা কর্মকর্তা উনার পছন্দমত শিক্ষকদেরকে ৫ শত টাকা থেকে ১ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ, আইসিটি প্রশিক্ষণ, ল্যাপটপ প্রদান ইত্যাদি সুযোগের জন্য মনোনীত করেন। যারা এর প্রতিবাদ করে সরকারি নীতিমালার উল্লেখ করেন তাদেরকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। তিনি বদলীর নীতিমালা লংঘন করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বদলী বাণিজ্য করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরুল আলম ভুইয়া জানান, উপজেলা শিক্ষক সমিতিকে পাশ কাটিয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল গাফ্ফার কাজ করতে চাইলে আমি উনাকে বারণ করি। তিনি সংরক্ষিত ছুটি না নিয়ে ছুটি কাটালে আমি উনাকে কৈয়িফত তলব করি। এর পর থেকে উনি আমার পেছনে উঠে পড়ে লেগেছেন।
টাকা আতœসাতের বিষয়ে তিনি জানান, গাফফার সাব কোন সময় আমাকে টাকা দিয়েছেন কিনা আপনারা উনাকে প্রশ্ন করেন।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হজরত আলী জানান, জামালগঞ্জের শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে বলে আমি শুনেছি। আমি এখনো অভিযোগের কপি পাইনি। কপি পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।