জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় গ্রাম্য সড়ক থেকে শুরু করে উপজেলার সড়ক এখন ইজি বাইকের দখলে। শিশু এবং অদক্ষ চালকরা কোন নিয়মনীতি না মেনেমফ উপজেলার সড়কে যেখানে সেখানে ইজি বাইক থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করাচ্ছে। এসব যানবাহনে লাগানো হয় চোখ জলসানো এলইডি লাইট। চলাচলরত অংসখ্য ইজি বাইকের কারণে জামালগঞ্জ সদর, সাচনাবাজার, মন্নানঘাট, নোয়াগাও বাজার, সাচনা বেহেলী রোড, সিএনবি রোড এলাকায় প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও চালকদের মধ্যে অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালক না হওয়ায় প্রায়ই ঘটছে যানজট ও দুর্ঘটনা।
ভোক্তভোগীরা জানান, তারা প্রতিনিয়তই যানজটের স্বীকার হচ্ছেন। তাদের অভিযোগ উপজেলায় চলাচলরত ইজিবাইক চালকরা কোন নিয়মশৃংখলার তোয়াক্ষা না করে সড়কে ইচ্ছামত ইজি বাইক ঘুরিয়ে ফেলতে চায়। আবার সড়কের ভাঙ্গাচুড়া অংশ পরিহার করে ভাল অংশ দিয়ে যেতে চায়। একারণে ঘন ঘন সড়কের এপাশ ওপাশ করে পথ চলে। এমন অবস্থায় মোটর সাইকেল সিএনজি সহ দ্রুতগতির পরিবহন পেছন থেকে আগে উঠতে গেলেই ইজিবাইকের ধাক্কা লেগে প্রতিনিয়তই ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। ইজিবাইক চালকদের খামখেয়ালীতে উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে এখন যানজটের প্রতিদিনের চিত্র।
আট বছর আগেও জামালগঞ্জ উপজেলায় অল্প কয়েকটা ইজিবাইক দেখা গেলেও বর্তমানে প্রায় ছয়শতাধিক ইজিবাইক চলাচল করছে।
সরজমিনে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, যারা ইজি বাইক চালকদের মধ্যে ১০ থেকে ১২ বছরের কম বয়সের কিশোর প্রায় ১০ ভাগের এক ভাগ। প্রতিদিন নতুন নতুন ইজি বাইক সড়কে নামানো হচ্ছে। এসব ইজিবাইক যে কোন সড়কে চালানোর অনুমতি না থাকলেও যাত্রী নিয়ে দ্রুত গতিতে চলছে এরা।
ইজিবাইক চালকদের মাঝে কেউ মাঠের কৃষক, শ্রমিক অথবা আগে রিক্সা ভ্যান চালাতেন। আবার কেউ বয়সে কিশোর। শতকরা আশি ভাগ চালকেই জানে না কিভাবে ইজিবাইক চালাতে হয়। এরাই নিয়মিত সড়ক ছাড়াও গ্রামের সড়কেও আট থেকে দশজন যাত্রী নিয়ে দ্রুতগ্রতিতে চলছে। এছাড়াও চোখ ঝলসানো এলইডি লাইট লাগাচ্ছেন প্রায় চালকই। যখন এসব যানবাহনে এলইডি লাইট জালিয়ে দ্রুত গতিতে চলাচল করে তখন বিপরীত দিক থেকে আসা পথচারী অথবা মোটরবাইক, চালকরা সামনে কিছুই দেখতে পারেন না। এ কারণে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা।
জামালগঞ্জ ইজি বাইক চালক রিক্সা মালিক ও শ্রমিক কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, পাঁচ বছর যাবত ইজিবাইক চালাচ্ছেন। এটা চালিয়ে সাত সদস্যের সংসারের জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, প্রতিদিন নতুন নতুন ইজিবাইক নামছে সড়কে। এ কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। তার অভিযোগ নতুন ইজিবাইক চালকরা আইন-কানুন মানে না। কে কতবেশী আয় করতে পারে কার আগে কে যাবে সে প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত থাকে। এর কারণে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা।
আরও কয়েকজন ইজিবাইক চালক জানান, আগে ভাল রোজগার হতো, কিন্তু এখন ইজি বাইক বেড়ে যাওয়ায় রোজগার কমে গেছে। বর্তমানে এমন অবস্থা হয়েছে যেন যাত্রীর চেয়ে ইজি বাইকের সংখ্যা বেশি।
জামালগঞ্জের এক যাত্রী মো. আজগর আলী জানান, উপজেলার ভিতরে চলাচলরত ইজিবাইক দেখলে মনে হয়, এটা যেন ইজি বাইকের উপজেলা। যেখানে সেখানে ইজি বাইক থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করছে। থামানোর আগে কোন সংকেত না দেওয়ার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ব্যপারে জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মো. আব্দুন নাসের জানান, যানজট নিরসনে উপজেলা আইন শৃংখলা সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদেরকে বার বার সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। মাঝে মধ্যে তাদের ইজিবাইক আটকে রেখে যানজট সৃষ্টি না করার জন্য অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি সড়কে অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।