মো. ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ
শ্রমিক সংকটে জামালগঞ্জ উপজেলায় কৃষকদের মাঝে আশার আলো হয়ে উঠেছে সরকারের ভর্তুকির ধান কাটা ও মাড়াই মেশিন কম্বাইন্ড হারভেস্টার। চলতি বোরো মৌসুমে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হওয়ায় পর শ্রমিক সংকটে বিপাকে পড়েন কৃষকরা। অতিরিক্ত মূল্য দিয়েও মিলছে না শ্রমিক। তার উপর হাওরের জমিতে পাকা ধান। কিছু শ্রমিক পাওয়া গেলেও বিঘা প্রতি ২ হাজার ৫শত’ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা মজুরি চাচ্ছে। অবশেষে হারভেস্টার মেশিনের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকেরা। তারা এখন রাত দিন এই মেশিন দিয়ে ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে তুলছেন। এতে ধান উৎপাদন খরচ অনেকটাই কমে এসেছে।
জানা যায়, প্রতি বছর ইরি বোরো ধান কাটার মৌসুমে টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, গৌড়িপুর, বিশ^ম্ভরপুর থেকে এক সময় শ্রমিক ধান কাটার জন্য আসতো। তাদেরকে ফসল উঠার আগেই অগ্রিম টাকা দিয়ে আসতে হতো। ধান কাটার আগে তারা নৌকা ও গাড়িতে করে হাওরের ধান কাটতে আসতো। বৈশাখী শেষে তারা আবার চলে যেত। সে সব অঞ্চলের শ্রমিকরা এখন আর আসে না। আর আসলে অতি নগন্য।
কৃষকের দুশ্চিন্তা লাগবে সরকার ৫০ পার্সেন্ট ভর্তুকিতে কৃষকদের মাঝে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন বিতরণ করে। এতে কৃষকদের শ্রমিকের সমস্যা অনেকটাই কমে এসেছে। এতে ধান কাটা মাড়াই একসাথে হয়। শুধু ধান শুকিয়ে কৃষকের গোলায় তুলতে হয়। তবে সমস্যা হলো জমিতে পানি থাকলে এই মেশিন কাজ করে না, এজন্য পানিযুক্ত জমিতে অধিক অর্থে শ্রমিক দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে কৃষকদের।
কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিনের চালক জামাল মিয়া বলেন, এই মেশিন দিয়ে খুব সহজেই এখন ধান ঘরে তুলতে পারছেন কৃষক। প্রতি ঘন্টায় ২ থেকে ৩ বিঘা জমির ধান কাটা যায়। এতে ঘন্টায় ৭ থেকে ৮ লিটার তেল খরচ হয়। ১ বিঘা জমির ধান কাটতে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা থেকে ১২শত’ টাকা লাগে। অথচ শ্রমিক দিয়ে ১ বিঘা জমির ধান কাটতে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা লাগবে। আবার ধান মাড়াই করতে প্রতি বিঘা জন্য ১ হাজার টাকা লাগবে।
বেহেলী ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের কৃষক খোকন মিয়া বলেন, সরকারে ভর্তুকি দেওয়া এই মেশিন না থাকলে আমরা এখন ফসল ঘরে তুলতে পারতাম না। তার উপর এখন আর আগের মতো শ্রমিক পাওয়া যায় না। যদিও পাওয়া যায় প্রতিজন শ্রমিক ৫শত টাকা করে ৬-৭ জনে একবিঘা ধান কাটতে পারে। তার পর মাড়াই দিতে আবার তাদের টাকা দিতে হয়। এতে বিঘা প্রতি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা লাগে। যার কারণে কৃষক কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিনের দিকে ঝুঁকছে। মেশিন দিয়ে ধান কেটে মাড়াই করে বস্তায় অথবা ট্রলিতে করে খলায় এনে রোদে শুকিয়ে গোলায় তোলা যায়।
রামপুর গ্রামের কৃষক ফজলুল হক বলেন, প্রতি বছরই ধান কাটার সময় শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। আগে বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিকরা আসতো, এখন তারা আসে না। সময় মতো ফসল তুলতে না পারলে বৃষ্টি ও অকাল বন্যায় আমাদের ধান নষ্ট হয়ে যায়।
জামালগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলা উদ্দিন বলেন, এই উপজেলায় ১৩০টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন ভর্তুকির মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মেশিনের দাম ৩০ থেকে ৩২ লক্ষ টাকা। সরকার প্রতিটি মেশিনে ১৪ লাখ টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। এই মেশিনের সাহায্যে ধান কাটা ও মাড়াই করা যায়। এরপর রোদে শুকিয়ে কৃষক ধান গোলায় তুলতে পারছে।
তিনি বলেন, প্রতি বছরই ধান কাটার সময় শ্রমিক সংকট তীব্র আকার ধারন করে। যার কারণে সময় মতো ধান ঘরে তুলতে না পেরে বৃষ্টি ও অকাল বন্যায় কৃষকের ধান নষ্ট হয়ে যায়। এখন কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে সল্প সময়ে, স্বল্প খরচে কৃষক ধান ঘরে তুলতে পারছেন।
তিনি আরও বলেন, আগামী ২৪ শে এপ্রিল থেকে ভারতের চেড়াপঞ্জিতে এক নাগারে ১৫দিন ভারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনার কথা আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছেন। এজন্য কৃষকের ধান ৮০ ভাগ পাকলেই কেটে ফেলার জন্য অনুরোধ জানানো যাচেছ।