- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জামালগঞ্জে স্কুল ছাত্রীর সাথে বখাটে শিক্ষকের উত্যক্তপনা

আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের আলহাজ ঝুনু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোস্তফা রকিব ভুইয়ার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের ছাত্রীর সাথে উত্যক্তপনাসহ অশালীন কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকের অশালীন কাজের বিচার চেয়ে ওই শিক্ষার্থী গতকাল সোমবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আলহাজ্ব ঝুনু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পিতৃ-মাতৃহীন দশম শ্রেণীর ওই ছাত্রী চাচার বাড়ীতে থেকে পড়ালেখা করছে। গত জুলাই মাসে মোস্তফা রকিব ভুইয়া নামের এক যুবক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই ওই ছাত্রীকে দেখলে আজে বাজে কথাসহ শরীরের নানা অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করতেন তিনি। প্রথমে ওই ছাত্রী বিষয়টি পরিবারের কাউকে জানায় নি। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষক তাকে কুপ্রস্তাব দিতে থাকে। তার ক্লাসের খাতায় এমনকি পরীক্ষার খাতায় নানান ধরনের ইঙ্গিতপূর্ণ কথা-বার্তা লিখে দেন। তাকে নানা ধরনের প্রলোভন দেখান।
উপায় না পেয়ে ওই ছাত্রী তার সাথে করা আচরণের বিষয়টি পরিবারকে জানায়। অভিভাবকরা অভিযুক্ত শিক্ষক মোস্তফা রকিব
ভুইয়ার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে উল্টো বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুল আলম তালুকদার ঝুনু মিয়ার দোয়াই দিয়ে আজেবাজে মন্তব্য ও তার পরিবারকে হুমকি দেন ওই শিক্ষক। ছাত্রীর চাচা শিক্ষক ও ঝুনু মিয়াকে পুনরায় এই বিষয়টির সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তাকে মারধর করেন তারা। নানা ধরনের হুমকি দিয়ে গ্রাম ছাড়া করার হুমকি দেয়া হয়। বর্তমানে ওই ছাত্রীর চাচা সুনামগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
ওই ছাত্রী গত রবিবার দুপুরে ইসলাম শিক্ষা পরীক্ষা দিতে গেলে অভিযুক্ত শিক্ষক রকিব তাকে স্কুল থেকে বের করে দেন। তকে কেন বের করে দেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে বলেন, এদিক সেদিক তাকানো তার অপরাধ।’  বর্তমানে ওই ছাত্রীকে অন্য শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়তে বাধা দেয়া হচ্ছে।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, শুধু তাকে একাই নয়, স্কুলের অনেক ছাত্রীকেই ওই শিক্ষক নানাভাবে কু-প্রস্তাব দেয়। গত কয়েক দিন আগে নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীর গায়ে হাত দেন বখাটে শিক্ষক মোস্তফা রকিব ভুইয়া।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মোস্তফা রকিব ভুইয়া বলেন,‘ওই ছাত্রীর সাথে আমি কোন অশালীন আচরণ করি নি। সে আমার ছাত্রী, যদিও আমি বিয়ে করি নি তবুও আমি তাকে মেয়ের মত দেখি। সে আমাদের স্কুলের ভালো ছাত্রী। সে কেন পরীক্ষায় অংশ নেয়নি তা আমার জানা নেই।’
বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আলম তালুকদার ঝুনু মিয়া বলেন,‘ওই ছাত্রীর সকল অভিযোগ স¤পূর্ণ মিথ্যা। তারা পরীক্ষার প্রশ্ন চেয়েছিল শিক্ষক দেয় নি। ৮-১০ গ্রামের লোকজন বসেছিলাম, সবাই বলেছে এই অভিযোগ মিথ্যা। ওই ছাত্রীর চাচাকে এলাকার লোকজন পিটুনি দিয়েছে।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফুল্লাহিল শাফি বলেন,‘বিষয়টি শুনেছি, তা অত্যন্ত দু:খজনক। স্কুলটি এখনো এমপিওভুক্ত হয় নি। বিদালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ঝুনু মিয়া কারো কথা শুনেন না। নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী স্কুল চালান। বিষয়টির তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তসলিমা আহমদ পলি বলেন,‘স্কুল ছাত্রীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • [১]