মো. ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ
দুই দশক আগেও জামালগঞ্জের হাওরাঞ্চলে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। এখন পাওয়া যাচ্ছে সামান্য। হাওরের অনেক মাছ ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে বিলুপ্তির পথে রয়েছে অনেক প্রজাতির মাছ। শুকনা মৌসুমে জনমহাল পানি শূন্য করে রাসায়নিক বিষ দিয়ে মাছ ধরা, জমিতে মাত্রাতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহার, জলমহালে ইজারা নীতিমালা না মেনে মাছ ধরা, প্রকৃত জেলেদের হাতে জলমহাল না থাকা, অভয়াশ্রমের অভাব, হাওরের বনজ সম্পদ ধ্বংস, প্রজনন মৌসুমে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ মারা সহ নানা কারণে হাওরের মাছ বিলুপ্ত হচ্ছে।
জানা যায়, বর্তমানে শোল, খালন, নানিদ, রিটা, বামাস, দেশীয় পাঙ্গাস, চিতল, দেশী পুটি, রানী, চেলাসহ অনেক প্রজাতির হাওরের মাছ বিলুপ্ত হওয়ার পথে। উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের আমানীপুর গ্রামের সুবোধ বর্মন জানান, ২০ বছর আগে সুরমা বৌলাই নদীতে চিতল, আইড় সহ বড় বড় মাছ পাওয়া যেত। গেল ১০ বছর ধরে পাওয়া যায় না। কবে চিতল ধরে ছিলাম মনেই নেই।
তিনি আরও জানান, জেলেরা জলমহালের মালিক না থাকায় ইজারাদাররা বেশী টাকা দিয়ে জলমহাল ইজারা নেয়। কিন্তু পাইল দেওয়ার কথা থাকলেও তা না করে বছর বছর জলমহাল থেকে মাছ ধরে। তাই দেশী মাছের সংখ্যা আগের তুলনায় কমে গেছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুনন্দা রাণী মোদক জানান, নানা কারণে দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হচ্ছে। এর মধ্যে জলমহাল পানি শূন্য করে রাসায়নিক কিটনাশক দিয়ে মাছ ধরা, জমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার, নদীর গভীরতা কমে যাওয়া, এবং জলমহাল পানি শূন্য করে রাসায়নিক কীটনাশক দিয়ে মাছ ধরা, জলমহাল ইজারা নীতিমালা না মানা, হাওরের বনজ সম্পদ ধংস্য করা এবং হাওরের বেড়ী বাঁধের কারণে মাছের চলাচলে বিঘ্ন হওয়ায় প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। অধিকাংশ জলমহালে পলি ভরাট হয়ে মাছের আবাসস্থল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় হাওরের মাছ বিলুপ্ত হচ্ছে। পাশাপাশী চাষের মাছ এখন ভরসা হয়ে যাচ্ছে।