- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জামালগঞ্জ থানার পতিত জমিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
জামালগঞ্জ উপজেলায় থানার পতিত জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির আবাদ করেছেন থানার অফিসার ইন চার্জ মীর মো. আব্দুন নাসের। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিষমুক্ত সবজির বাগান করে আলোচিত হয়েছেন তিনি। তার উদ্যোগের ফলে থানায় অবস্থানরত পুলিশদের সবজির চাহিদা অনেকাংশে পুরণ হয়েছে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত থানার সামনে থাকা নদীর পাড়ে দুই বিঘা জায়গা পতিত অবস্থায় ছিল। পতিত থাকায় জায়গাটি দিন দিন ময়লার ভাগারে পরিণত হয়। ওসি মীর মো: আব্দুন নাসের এই থানায় যোগদান করার পর থানা কম্পাউন্ডে প্রতিরক্ষা দেওয়ালে আলোকসজ্জা, ডাইনিং রুম, থানার ভিতরে সুসজ্জিত ফুলের বাগান, পাখির নীড়ের জন্য থানা কম্পাউন্ডের গাছে ৩শত’ কলসসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে থানার দৃশ্যপট পরিবর্তন করেছেন। তাছাড়া থানার সামনে দুই বিঘা নদীর চরের পতিত জায়গায় সহকর্মীদের সহয়তায় এই জমিতে আট ধরনের শাকসবজি চাষ করেন। এই পতিত জমির সবজি থানার কর্মরত পুলিশ সদস্য ছাড়াও স্থানীয়দের খাবারের চাহিদা পূরণ করছে। একই সাথে থানায় সেবা নিতে আসা মানুষজনও নিজেদের বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরিচর্যায় এক সময়ের পতিত জমিটি এখন সবুজে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই বাগানে সূর্যমুখী, সরিষা, পেঁয়াজ, রসুন, লালশাখ, গোলআলু, মিষ্টি লাউ, চিনা বাদাম ও পাট শাখ সবজি চাষ করা হয়েছে।
থানায় অভিযোগ করতে আসা আব্দুর রহিম বলেন, থানার এই জায়গা একসময় ময়লার ভাগাড় ছিল। সেই জায়গায় সবজি বাগান করায় থানার রূপ বদলে গেছে। আমাদের বাড়ির পাশে অনেক পতিত জমি রয়েছে। আমি সেই জায়গায় এখন থেকে সবজি চাষ করবো।
সবজি বাগান পরিচর্যা থাকা কনেস্টেবল খালেক মিয়া বলেন, থানার ডিউটি শেষে অবসর সময়ে সবজি বাগান পরিচর্যার কাজ করি। বর্তমানে আমাদের শাক-সবজি অনেকটাই কম কিনতে হয়। বিষমুক্ত সবজি আমাদের খাদ্য ও ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করছে।
থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, প্রায় একবছর আগে এই জায়গাটি ছিল পতিত। এখানে থানাও উপজেলার বাসাবাড়ির ময়লা ফেলা হতো। বর্ষামৌসুমে এই জায়গায় পানি উঠে যায়। সেখানে বিভিন্ন পোকামাকড় ও মশার আশ্রয় স্থল গড়ে উঠে। এতে থানার কার্যক্রম পরিচালনায় বেগপেতে হতো।
তিনি বলেন, দুই বিঘা পতিত জমিতে আট ধরনের শাকসবজির চাষ করা হয়েছে। এই কাজে আমার সহকর্মীরা সহযোগিতা করেছে। তিনি আরও বলেন, ফর্মালিন ও বিষমুক্ত সবজি থানার পুলিশ সদস্যদের খাদ্যের চাহিদা কিছুটা হলেও পূরণ করছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলা উদ্দিন বলেন, থানা চত্তরে সবজির চাষ করে ওসি মীর মো. আব্দুন নাসের প্রসংশা কুড়িয়েছেন। উনার এই উদ্যোগে মানুষদের বাড়ির আঙ্গিনায় পতিত জমিতে চাষাবাদে উৎসাহ জোগাবে।

  • [১]