- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়ক/ বৃষ্টি হলেই কাদায় ডুবে গাড়ির চাকা

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জের সড়কের বেহাল দশা। দেড় দশক আগে কাঁচা সড়ক পাকা করা হয়েছিল। এরপর থেকে আর সংস্কার হয়নি। সড়কের পিচ ভেঙে ছোট খানাখন্দ হয়েছে। প্রতিনিয়ত এসব গর্তে পড়ে যানবাহন বিকল হয়। গত বন্যায় জামালগঞ্জ সদরের তেলিয়া শাহপুর, উজ্জলপুর ও জাল্লাবাজ গ্রামের পাশের সড়কে বড় ধরনের ভাঙনের সৃষ্টি হয়। পরে সড়কে মাটি ফেলা ঠিক করা হয়। তবে পাকা না করায় সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে গাড়ির চাকা বসে যায়। ছোট খাট যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে সড়কের মাঝখানে। তখন যাত্রীদের গাড়ি থেকে নেমে ধাক্কা দিয়ে যানবাহন পারাপার করতে হয়।
জামালগঞ্জ থেকে সুনামগঞ্জ জেলা শহরে সরাসরি যাতায়াতের মাধ্যম জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জের সড়ক। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থায় দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও জেলা সদরের সাথে জামালগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ নির্বিঘœ হয়নি। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙা, খানাখন্দ ও বেহাল দশায় মুমূর্ষ রোগীরা অন্তহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। জামালগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সুনামগঞ্জ কিংবা সিলেটে কোন জরুরী রোগী নিয়ে যেতে পারে না এ্যাম্বুলেন্স। এই সড়ক দিয়ে জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধ্যনগর, ও মোহনগঞ্জ উপজেলার লাখো যাত্রী সড়ক পথে চলাচল করেন। সড়কের ভাঙাচোরা, কাদা আর গর্তে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
জাল্লাবাজ গ্রামের আমির হোসেন বলেন, প্রতিদিনই সড়কে গাড়ি ঠেলে নিতে হয়। এই দুর্ভোগ কবে শেষ হবে জানি না। দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করি।
সিএনজি ড্রাইভার মকবুল হোসেন বলেন, প্রায়ই গাড়ি খারাপ হয়। ভাঙা সড়ক ও কাদায় গত কয়েকদিনে তিনবার আমার গাড়ি খারাপ হয়েছে। এই লাইনের অনেক ড্রাইভার সাচনা-সুনামগঞ্জ সড়কে গাড়ি নিয়ে চলে গেছে।
জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউপি চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান তালুকদার বলেন, জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কে ধর্মপাশা, মধ্যনগর ও জামালগঞ্জের যাত্রীরা প্রতিদিন যাতায়াত করে থাকেন। গত বন্যায় সড়কের ৪ জায়গায় ভেঙে বড় গর্ত তৈরি হয়। আমরা জনগণের চলাচলের স্বার্থে দ্রুত মাটির কাজ সম্পূর্ণ করেছি। ইতোমধ্যেই ইট সলিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। স্থায়ীভাবে টেকসই উন্নয়নের জন্য এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে মেগা প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প পাস হয়ে আসলে দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাবে।
জামালগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আব্দুল মালেক মিয়া বলেন, বর্তমানে ইমার্জেন্সী মেইনটিনেন্সে চারটি বড় ভাঙায় কাজ চলমান আছে। যা এই সপ্তাহের মধ্যে সমাপ্ত হবে। পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে সড়ক সংস্কার করার জন্য এডিপিতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে বড় আকারে টেন্ডার হবে।

  • [১]