জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে একটি মাজার ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামীরা জামিনে এসে বাদিকে ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের শিবগঞ্জ বাজার এলাকার নিকটবর্তী রমাপতিপুর ও মুজাহিদপুর গ্রামের দক্ষিণ টিলায় শাহ গালিব (র.) মাজারে গত এপ্রিল মাসে ইয়াওর মিয়ার নেতৃত্বে ২০ -২৫ জন ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে ভাঙচুর করে। এতে মাজারের আসন ঘর, নামাজের ঘর, বাজারের গেইটসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় মাজারের খাদিম ও মোতাওয়াল্লি শাহ মো. আছলাম উদ্দিন জগন্নাথপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির জি আর-৬৩/২০২০ইং(জগন্নাথপুর) নম্বর ভুক্ত হয়ে বর্তমানে আমল গ্রহণকারী জুড়িশিয়ান ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জগন্নাথপুর জোন-এ বিচারাধীন রয়েছে। গত ৬ জুলাই এ মামলার আসামী ইয়াওর মিয়া, মাওলানা আবু বকর, শফিকুল হক, ছায়াদ আহমদ, জুবেল মিয়া, আলাউদ্দিন, নুর আলমগংরা জামিন নেন। জামিন পাওয়ার পর আসামীরা বাদিকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
শাহ গালিব (র.) মাজারের খালিম দাবি করে খাদিম শাহ আছলাম উদ্দিন জানান, ১৯৯৯ সাল থেকে মাজারের খাদিম ও মোতোওয়াল্লির দায়িত্ব পালন করে মাজারের উন্নয়নে কাজ করে আসছি। মাজারের ভূমি আত্মসাতের লক্ষ্যে ইয়াওর মিয়াগংরা মাজার দখল করতে ভাঙচুর করেছে। মাজারের দানবক্স অর্থ আত্মসাত ও গাছগাছালি লুটপাট করছে। হামলাকারীরা মাজারের আয় ব্যয়ের হিসেবের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।
এছাড়া আসামীরা মাজার উন্নয়নে মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী মহোদয়ের বরাদ্দকৃত বালি পাথর নিয়ে গেছে। তাদের ব্যাপক ভাংচুরে মাজারটি অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। এসব বিষয়ে গত ১৫ জুলাই আমি বাদি হয়ে মামলা দায়ের করি। আসামীকে জামিন নিয়ে এসে আবারও আমাকে ও পরিবার পরিবারের লোকজনকে ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিচ্ছি। এ কারণে আমি জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
এ ব্যাপারে ইয়াওর মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন, মাজারের বৈধ মোতোওয়াল্লি আমি। ১৯৯৫ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছি।