সিলেট অফিস
সিলেটের দেবোত্তর সম্পত্তির তারাপুর চা-বাগান বন্দোবস্ত নিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতির মামলায় রাগীব আলীর পক্ষে আদালতে সাফাই সাক্ষী দিয়েছেন তাঁর মালিকানাধীন সিলেটের মালনীছড়া চা-বাগানের দুই ব্যবস্থাপক।
মঙ্গলবার সিলেটের মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম মো. সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে দুজন সাফাই সাক্ষ্য দিলে আদালত তা গ্রহণ করে আগামী ২৬ জানুয়ারি মামলার যুক্তি তর্কের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
মহানগর হাকিম আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মাহফুজুর রহমান জানান, ২৬ জানুয়ারি যুক্তি তর্ক শেষ করে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করবেন আদালত।
আদালত সূত্র জানায়, আদালতে রাগীব আলীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিতে গত ৩ জানুয়ারি আবেদন করেন তাঁর পক্ষের আইনজীবী। আদালত ১১ জানুয়ারি সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করলে ওই দিন দুজন সাক্ষীর নাম আদালতে দাখিল করে সময় প্রার্থনা করা হয়। বিষয়টি সময়ক্ষেপণ হিসেবে সরকার পক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে
অবহিত করেন। ওই দিনই আদালত ১৭ জানুয়ারি সাফাই সাক্ষ্য দিতে আদেশ দেন। অন্যথায় ওই দিনই যুক্তি তর্ক শেষে মামলার রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করা হবে বলে আসামি পক্ষের আইনজীবীদের জানিয়ে দেওয়া হলে মঙ্গলবার আদালতে দুই সাফাই সাক্ষীকে হাজির করা হয়। রাগীব আলী ও আবদুল হাইয়ের উপস্থিতিতে সাফাই সাক্ষ্য দেন রাগীব আলীর মালিকানাধীন সিলেটের মালনীছড়া চা-বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক মাহমুদ হোসেন চৌধুরী ও আবদুল মুনিম।
সাফাই সাক্ষ্যে এ দুজন আদালতে রাগীব আলী ও তাঁর ছেলের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিচিতি তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, রাগীব আলী দেশে ও বিদেশে একজন দানশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। চা-বাগানে তাঁদের চাকরিজীবনের ১৮ বছর ধরে রাগীব আলীকে একজন দানশীল ব্যক্তি হিসেবে চেনেন ও জানেন। রাগীব আলীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তাঁরা কখনো শুনেননি, রাগীব আলীকে কোনো অপরাধ কাজে জড়িত হতে বা কোনো অভিযোগও শুনেননি।
এ সময় সরকার পক্ষের আইনজীবীরা নির্দ্দিষ্ট করে তারাপুর চা-বাগান বন্দোবস্ত নিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি, সরকারের হাজার কোটি টাকা আত্মসাতে সুনির্দ্দিষ্ট করা অভিযোগ এবং সিলেট নগরের কেন্দ্রস্থলে একটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের জায়গা জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করে রাগীব আলীর মধুবন সুপার মার্কেট নির্মাণের বিষয়টি তুলে ধরলে দুই সাক্ষী ’আমরা জানি না’ বলে এড়িয়ে যান। আদালত পরে মামলার যুক্তি তর্কের তারিখ নির্ধারণ করেন।
২০০৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আবদুল কাদের বাদী হয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি ও সরকারের এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুটো মামলা করলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে নিষ্পত্তি করে পুলিশ। ১৯ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ একটি বেঞ্চ রায়ে মামলা দুটো পুনরুজ্জীবিত করে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেন। গত ১০ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল হলে ১২ আগষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়।
আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির দিনই পালিয়ে ভারতের করিমগঞ্জ চলে গিয়েছিলেন রাগীব আলী ও তাঁর ছেলে। ২৩ নভেম্বর ভারতের করিমগঞ্জ ইমিগ্রেশন পুুলিশের হাতে রাগীব আলী এবং এর আগে ১২ নভেম্বর ভারত থেকে জকিগঞ্জ এসে আবদুল হাই গ্রেপ্তার হন। তাঁরা দুজনই বর্তমানে কারাবন্দী।