- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জাল নোট ঠেকাতে তৎপরতা- ২৬ হাটেই থাকছে সনাক্তকরণ মেশিন

বিশেষ প্রতিনিধি
জেলার ২৬ টি গরুর হাটকে টার্গেট করে প্রতিবছরই জাল নোট সিন্ডিকেট চক্র সক্রিয় হয়। এবারও সেটি হতে পারে। এই আশংকা থেকে পুলিশসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে নানাভাবে সচেতন করা হচ্ছে গরু বিক্রেতাদের। জেলার সকল হাটবাজারে মাইকে প্রচারণা এবং প্রতিটি গরুর হাটে এবার জাল টাকার মেশিনসহ ব্যাংকবুথ বসানো হবে। একাধিক ব্যাংক ব্যবস্থাপক বলেছেন, ‘সুনামগঞ্জের ১২০ কিলোমিটার জুড়ে সীমান্ত, পূর্ব অভিজ্ঞতায় বলা যায়- এখানে জাল টাকা রয়েছে এবং ছড়ানো হতে পারে, বিশেষ করে কোরবানির ঈদে এটি হয়ে থাকে। সুতরাং সংশ্লিষ্ট সকলকে এ বিষয়ে সাবধান থাকতে হবে’।
প্রসঙ্গত. কেনা কাটা বাড়লেই সুনামগঞ্জে জাল টাকার ব্যবহার বাড়ে। এটি সুনামগঞ্জের হাট-বাজারে হয়ে আসছে বহু বছর থেকেই। ২০১৫  
সালের রমজান শুরুর কয়েকদিন আগে জামালঞ্জ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকার জালনোটসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব। সুনামগঞ্জের বিভিন্ন দোকানী ও ব্যাংকের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে কোরবানির ঈদের আগে জাল টাকার ব্যবসায়ীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। এবারও এমন আশংকায় জাল টাকা ঠেকাতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পুলিশ প্রশাসন। জেলার ১৯ টি ব্যাংক এ ব্যাপারে সহায়তা দিতে উদ্যোগি হয়েছে।
মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সুনামগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক জাহেদ হোসেন বলেন,‘গত বছরেও প্রায়ই জাল টাকা পাওয়া গেছে। আমাদের ব্যাংকে জাল টাকার মেশিন রয়েছে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে জাল টাকা নষ্ট করে দেওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। তারা এখন দেখে শুনে টাকা রাখায় জাল নোট কম পাওয়া যায়। ব্যাংকে জাল টাকার জোগান দাতারা আসেন না। হঠাৎ করে যাদের বান্ডিলে জাল টাকা পাওয়া যায়, তারা মূলত অসচেতনতার শিকার’। তিনি জানান, সুনামগঞ্জ সীমান্ত জেলা, এই জেলায় জাল টাকা রয়েছে এবং কোরবানির ঈদকে টার্গেট করে জাল টাকার জোগান দাতারা সক্রিয় হতেই পারে।
প্রাইম ব্যাংক লি.’এর ব্যবস্থাপক আবু সুফিয়ান বলেন,‘আল্লায় ক্ষমা করুক, ৬ মাস আগেও আমরা জাল টাকা পেয়েছি, এখন আর দেখা যায় না। আমরা এসব টাকা পেলেই নষ্ট করে দেই। সকলকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে’।
ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপক সালা উদ্দিন আহমদ বলেন,‘জাল নোট সনাক্তকরণের মেশিন রয়েছে আমাদের ব্যাংকে। আমরা জাল নোট পাই না, সেটি বলা যাবে না। পেলে সঙ্গে সঙ্গে নষ্ট করে দেওয়া হয়। তবে অনেক দিন হয় জাল টাকা পাওয়া যায়নি’।
ডাচ বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জ্যোতি লাল গোস্বামী বলেন,‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় সুনামগঞ্জে জাল টাকার তৎপরতা কমেছে। তবে জাল টাকা নেই, সেটা বলা যাবে না। সতর্ক থাকতে হবে সকলকে। এবারের কোরবানির হাটে যাতে কোন ভাবেই জাল টাকা না ঢুকতে পারে বা কোন বিক্রেতা এর শিকার না হন এজন্য ১০, ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর জেলার ২৬ টি গরুর হাটে আইন-শৃঙ্খরা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি ব্যাংকের বুথ থাকবে। ৩ জন করে ব্যাংক কর্মকর্তা দুই শিফটে দায়িত্ব পালন করবেন। সকাল ১১ টা থেকে ৪ টা এবং বিকাল ৪ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত এরা গরুর হাটে বসবেন। বাজার কমিটি যেখানে ভাল মনে করবে, সেখানেই বুথ বসানো হবে। বুথে ব্যাংকের সাইন বোর্ড থাকবে জাল টাকা সনাক্তকরণের মেশিন থাকবে। আমরা আশা করছি ক্রেতা-বিক্রেতা ও বাজার কমিটি সকলে এ বিষয়ে সচেতন থাকবেন এবং কেউ যাতে না ঠকেন এ বিষয়ে তৎপর থাকবেন’।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন,‘জেলার ২৬ টি গরুর হাটসহ সকল উপজেলা সদরে জাল নোটের বিষয়ে সতর্ক থাকতে প্রচারণা দেওয়া হবে। বিক্রেতারা যাতে হাটে থাকা জাল নোট সনাক্তকরণ মেশিনের সহায়তা নেন এবং কোন ভাবেই না ঠকেন, এ বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে’।

  • [১]