জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে জায়ের ওপর প্রতিশোধ নিতে দেড় বছরের এক শিশুকন্যাকে পানিতে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে এক চাচির বিরুদ্ধে। এঘটনায় অভিযুক্ত চাচিকে গ্রেপ্তার করে শনিবার সুনামগঞ্জ কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
জানা যায়, উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের তেলিকোনা (নতুনপাড়া) গ্রামের রুমেন মিয়ার স্ত্রী সাজেদা বেগমের সঙ্গে গত দুই/তিন পূর্বে দেবর পাবেল মিয়ার স্ত্রী সুবিনা আক্তারের তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে
বিষয়টির নিস্পত্তি ঘটলেও বড় জায়ের ওপর প্রতিশোধ নিতে ছোট জা সুবিনা আক্তার বড় জায়ের ১৮ মাসের শিশু কন্যা সাদিয়া বেগমকে শুক্রবার ভোরে বাড়ির নিকটবর্তী একটি ডোবার পানিতে ফেলে দেয়। এসময় প্রতিবেশী এক নারী বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের জানান। পরে ডোবা থেকে শিশুর মৃত মরদেহ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ খবর পেয়ে পুলিশ শুক্রবার বিকেলে মরদেহ উদ্ধার করে গতকাল ময়না তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ মর্গে পাঠিয়েছে। এদিকে পুলিশ শিশুর পিতার লিখিত অভিযোগে ওই দিন সন্ধ্যার দিকে অভিযুক্ত চাচি সুবিনা আক্তার (২৫) কে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।
শিশুর বাবা রুমেন মিয়া জানান, দুই/তিন পূর্বে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আমার স্ত্রীর সঙ্গে আমার ছোট ভাইয়ের বৌয়ের কথা কাটাকাটি হয়। এই সামান্য বিষয়কে কেন্দ্রে করে আমার স্ত্রীর ওপর প্রতিশোধ নিতে শিশুকন্যাকে পানিতে ফেলে হত্যা করেছে। এঘটনায় আমি লিখিতভাবে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।
তিনি জানান, ঘটনারদিন ফজরের আজানের পর আমি কাজের জন্য বাড়ি থেকে বের হই। এসময় আমার স্ত্রী শিশুকন্যাকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। সকালের দিকে আমি খবর পাই আমার শিশুকন্যাকে পানিতে ফেলে দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বর আশ্বাদুল হক বলেন, ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে জানতে পারি, শিশুটিকে তার চাচি সুবিনা আক্তার ভোরে পরিবারের লোকজনের অগোচরে পানিতে ফেলে দিয়েছে। প্রতিবেশী এক নারী এঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন। পরে লোকজন ডোবার পানি থেকে শিশুর মৃত দেহ উদ্ধার করেন।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, শিশুর পিতার অভিযোগে আমরা এক নারীকে আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছি। এঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে।