- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জিতেশ, অনজিৎ ও অসিতের ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

বিশেষ প্রতিনিধি
জগন্নাথপুরে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নাকে (৩৫) গণধর্ষণ ও ৬ টুকরো করে লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামির ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার বেলা ২ টায় সুনামগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুর রহিম এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামীরা হলেন জগন্নাথপুরের অভি মেডিকেল হলের মালিক জিতেশ চন্দ্র গোপ, মুদি দোকানদার অনজিৎ গোপ ও অরূপ ফার্মেসির মালিক অসিত গোপ।
এর আগে তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড প্রার্থনা করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক লিটন দেওয়ান। রিমান্ড শুনানি শেষে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রত্যেক আসামির ৮ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশের সুনামগঞ্জ আদালত পরিদর্শক মো. বদরুল আলম তালুকদার। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর তিন আসামিকেই সিআইডি তাদের হেফাজতে নিয়েছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে তিন সন্তানের জননী শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নাকে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গভীর রাতে ফার্মেসির ভেতর এনার্জি ড্রিংকস খেয়ে তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের বিষয়টি প্রকাশ করার কথা বলায় শ্বাসরোধে শাহনাজকে হত্যা করে লাশ ৬ টুকরা করা হয়। পরে লাশ গুমেরও পরিকল্পনা করে ধর্ষকরা। শুক্রবার রাজধানী ঢাকা ও সুনামগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানতে পারে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টের মির্জা আব্দুল মতিন মার্কেটের তালাবদ্ধ অভি মেডিকেল হল থেকে শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নার খ-িত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের ভাই হেলালউদ্দিন বাদী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি জগন্নাথপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্না ২০১৩ সাল থেকে পৌর শহরের নিজ মালিকানাধীন বাসায় ২ ছেলে ও ১ মেয়েকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। তার স্বামী ছুরুক মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে চাকরি করেন। পরিবারের সব সদস্যদের ওষুধ ‘অভি মেডিকেল হল’ নামের ফার্মেসি থেকে কেনার সুবাদে জিতেশের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। শাহনাজ পারভীন কিছুদিন ধরে বেশ কিছু গোপনীয় শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এ সমস্যার সমাধানের জন্য গত বুধবার বিকালে জিতেশের ফার্মেসিতে যান। জিতেশ তাকে ফার্মেসির ভিতরে প্রাথমিক চিকিৎসা কক্ষে বসিয়ে রাখে। এক পর্যায়ে শাহনাজ পারভীনকে চিকিৎসার কথা বলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ালে তিনি ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। শেষে তাকে ফার্মেসির ভেতরে রেখেই জিতেশ বাইরে তালা দিয়ে চলে যায়। আশপাশের সব দোকান বন্ধ হলে গভীর রাতে ফার্মেসি খুলে শাহনাজ পারভীনকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের বিষয়টি শাহনাজ তার পরিবারের সদস্য ও অন্যদের কাছে প্রকাশ করার কথা বললে, আসামিরা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সে মোতাবেক তারা পরস্পর যোগসাজশে শাহনাজ পারভীনকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং বিশ্রাম কক্ষে থাকা বালিশ দিয়ে মুখ চেপে ধরে হত্যা করে।

  • [১]