স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২৫ বছর পূর্তি উৎসবকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য স্মৃতিভাস্কর্য নির্মাণের স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে স্মৃতিভাস্কর্য নির্মাণের স্থান চিহ্নিত করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান। বিদ্যালয়ের পুরো ক্যাম্পাস ঘুরে দেখেন তিনি। আজ বুধবার থেকে স্মৃতিভাস্কর্যের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ফলকের ডিজাইন সম্পর্কে প্রখ্যাত স্থপতি হামিদুজ্জামান খান বলেন, বিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাইকেল রাখার সেডের জায়গায় স্মৃতি ভাষ্কর্য নির্মাণ করা হবে। যাতে বিদ্যালয়ে প্রবেশের সাথে সাথে সকলের দৃষ্টি পড়ে। সিম্বোলাইজ করে ফলকটি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে সহজে বুঝতে পারে। বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের ১৫ ফুট ভেতরে এটি নির্মাণ করা হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সিলেট সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান খান, জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল হাকিম, সহকারী প্রকৌশলী উজ্জ্বল বখত, সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল কদ্দুছ, শিক্ষক একেএম আজাদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, সুখেন্দু সেন, বিটিভির জেলা প্রতিনিধি অ্যাড. আইনুল ইসলাম বাবলু প্রমুখ।
২০১২ সালের ২১ ও ২২ ডিসেম্বর বর্ণাঢ্য আয়োজনে জেলার সবচেয়ে প্রাচীন বিদ্যাপীঠ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২৫ বছর পূর্তি উৎসব হয়। ২১ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ১০ টায় স্কুলঘন্টা বাজিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। পরে কোরআন, বাইবেল ও গীতা পাঠ শেষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়ানো হয়।
প্রবীন জুবিলিয়ান ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ফারুক চৌধুরী জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বিদ্যালয়ের কৃতী প্রাক্তন ছাত্ররা শান্তির প্রতীক পায়রা উড়ান।
শোক প্রস্তাব গ্রহণ শেষে বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মু. আব্দুর রহিম কর্তৃক নৈতিকতা ও আদর্শের উপর ক্লাস গ্রহণ করা হয়। এরপর ১২৫ তম বর্ষপূর্তির স্মৃতিফলক উন্মেচন করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমিন চৌধুরী। পরে হয় অন্যান্য অনুষ্ঠান। উৎসবকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভাস্কর্য শিল্পী হামিদুজ্জামান খানকে দিয়ে একটি স্মৃতিভাস্কর্যের নকশাও তৈরি হয়। কিন্তু অর্থাভাবে গত প্রায় ৭ বছর হয় সেটি করা যায়নি।
সম্প্রতি বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সাবেক শিক্ষা সচিব, পিএসসি’র চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক’র প্রচেষ্টায় সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২৫ বছরকে স্মরণীয় করে রাখতে স্মৃতিভাস্কর্য নির্মাণের জন্য ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর।