স্টাফ রিপোর্টার
পৌষের শুরুতেই সারাদেশে জেঁকে বসেছে শীত। গেল তিনদিনে সকাল ও রাতে হিমেল হাওয়া আর কুয়াশায় মধ্যেই চলছে হাওরাঞ্চল খ্যাত সুনামগঞ্জের জীবন-যাপন। ঠান্ডা থেকে মুক্তি পেতে কেউবা আগুন পোহাচ্ছেন আবার কেউ যাচ্ছেন দোকানে বা ফুটপাতে গরম কাপড় কিনতে। পৌষের শুরুতেই এমন শৈত্য প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নি¤œ আয়ের মানুষজন ও হাওরে কাজ করা কৃষকরা। কোন রকমে গায়ে একটি চাদর বা অনেক পুরোনো ছিড়া গরম কাপড় গায়ে দিয়েই মাঠে কাজ করছেন তারা।
সরজমিনে, সুনামগঞ্জ শহরের আলফাত স্কয়ার রোড এলাকার ফুটপাতে দেখা যায়, সারি সারি করে ব্যবসায়ীরা সাজিয়ে রেখেছেন গরম কাপড়। দামে কম হওয়ায় হাওরের বেশিরভাগ মানুষই শীতবস্ত্র ক্রয় করছেন ফুটপাত থেকেই। তাছাড়া মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে নি¤œ আয়ের মানুষের শীতবস্ত্র ক্রয়ের প্রথম পছন্দ এখন ফুটপাত। সুনামগঞ্জের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশের ফুটপাতে বসেই গরম কাপড় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। ২০০ টাকা থেকে শুরু করে হাজার টাকার গরম কাপড়ও রয়েছে তাদের কাছে। তাছাড়া বড় বড় দোকানের চেয়ে ফুটপাতেই কম মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে কম্বল।
ফুটপাতের গরম কাপড় বিক্রেতা জহুর হোসেন বলেন, দুইদিন ধরে যে পরিমাণ শীত বাড়ছে, ঠিক তেমনি আমাদের বেচা-বিকিও বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের এখানে মধ্যবিত্ত, হাওরের মানুষ থেকে শুরু করে ধনীরা এসেও কাপড় কিনে যায়। আমাদের এখানে খুব কম দামে ভালো জিনিস পাওয়া যায়।
ব্যবসায়ী আল-আমিন বলেন, মোটামোটি বিকিকিনি ভালো। কাস্টমাররা আসছেন দেখছেন কিনছেন। বড় বড় মার্কেটে গিয়ে যাদের গরম কাপড় কিনার সামর্থ নাই আমরা তাদের জন্য এই গরম কাপড়গুলো বিক্রি করি। শীত যতো বাড়বে আমাদের কাস্টমার তত বৃদ্ধি পাবে।
ফুটপাতে শীতের কাপড় কিনতে আসা লোকমান মিয়া বলেন, আমরা মাঠে কাজ করে জীবন চালাই। এখন যে শীত বাড়ছে গরম কাপড় না পড়লে মাঠে কাজ করা যায় না। আগে যা আছিল তা ছিড়ি গেছে তাই ফুটপাতেই আইছি কাপড় কিনতে। ফুটপাতও বড় মার্কেট থাকি দাম কম। গরীবের একমাত্র ভরসা ফুটপাত।
এদিকে শীতের শুরুতে শিশুদের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শুরু হয়েছে। চিকিৎসকরা বর্তমানে শিশু রোগে আক্রান্ত রোগির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম বলা হলেও যদি শিশুর সঠিক পরিচর্যা না করা হয় তাহলে তা বৃদ্ধি হবে বলে জানিয়েছেন ।
সরেজমিনে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বরসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। শীতের শুরুতে অর্ধশতাধিক শিশু ভর্তি হওয়াকে স্বাভাবিক হিসাবেই দেখছেন হাসাপাতালে চিকিৎসক ও নার্সরা।
জামালগঞ্জ থেকে আসা ডলি বেগম বলেন, তিনদিন ধরে আমার বাচ্চার শ্বাসকষ্ট। আমরা সদর হাসপাতালে নিয়া আসছি, সেখানে চিকিৎসক আমার ছেলেকে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। এখন কিছুটা কমলেও আবার বেড়ে গেছে। নার্সরা একবার এসে দেখে গিয়েছিলেন এবং ওষুধ দিয়েছেন।
শাহজান চৌধুরী বলেন, আমার ছেলের বয়স ৬ মাস, বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে জ্বর উঠে। পরে ডাক্তারের কাছে নিয়ে আসলে চিকিৎসক পরীক্ষা দেন পরে নিউমোনিয়া ধরা পরে। এখন ডাক্তারের পরামর্শে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছি।
সুনামগঞ্জ সদর হাসাপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. কামরুল হাসান বলেন, শীতের সময়ে শিশুদের মাটিতে খেলতে দেওয়া যাবে না। সম্ভব হলে বাচ্চাকে কোলে বা বিছানায় রাখতে হবে, তাছাড়া বাচ্চার কোন অসুবিধা হলে বা জ্বর হলে সাথে সাথে রেজিস্টার্ড কোনো চিকিৎসককে দেখাতে হবে এবং সম্ভব হলে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।