মুশাহিদ রাহাত
কয়েকদিন আগে সুনামগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যক্তি উদ্যোগে বা পৌরসভার উদ্যোগে জেব্রা ক্রসিং অঙ্কন করা হলেও এখন সেগুলোর কোনো অস্থিত্ব নেই। নি¤œমানের রং থাকায় বৃষ্টির পানিতে জেব্রা ক্রসিংয়ের সকল রেখা মিটে গিয়ে পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে আসায় পৌর শহরে বাড়ছে দুঘর্টনা। সড়ক পারাপার হতে গিয়ে নানা বিড়াম্বনায় পড়ছেন সাধারণ নাগরিগ তথা স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
সরজমিনে, সুনামগঞ্জ পৌর শহরের হোসেন বখত চত্বর সংলগ্ন সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা বিদ্যালয় এলাকা, বিহারী পয়েন্ট, কাজির পয়েন্ট, সুনামগঞ্জ ট্যাকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এলাকা, জেলা পরিষদ কার্যালয় ও এলজিইডির সামনের অংশে নেই কোন জেব্রা ক্রসিং।
সড়কে চলাচলকারি পরিবহনগুলো গতিবেগ না কমিয়ে চলাচল করায় এবং ট্রাফিক আইন না মেনে দ্রুত গতিতে মোটর সাইকেল, সিএনজি, অটোরিকশা চলাচল করায় বাড়ছে দুঘর্টনা।
সুনামগঞ্জ সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, বিদ্যালয় ছুটির সময় এই সড়কে যানবাহন সংখ্যা বেড়ে যায়। তাছাড়া অনেক ছেলেরা ওই সময়ে অনেক দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেল চালায়। এ কারণে সড়ক পারাপারে সমস্যা হয়। কয়েকদিন আগে জেব্রা ক্রসিং করে দেওয়া হলেও তা এক সপ্তাহ পরই বৃষ্টির পানিতে মুছে গিয়েছে।
শহরের মল্লিকপুর এলাকার বাসিন্দা হৃদয় চৌধুরী হাসান বলেন, মল্লিকপুরে আব্দুর জহুর সেতু হওয়ায় এখানে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার গাড়ি চলাচল করে। বিশেষ করে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও এলজিইডি’র সামনের অংশে মানুষের আনাগোনা বেশি হওয়ায় এই অংশে পারাপারে সমস্যা হয়। এখানে অনেক সময় দুঘর্টনারও শিকার হতে হয়েছে অনেককে। তাই ভালো মানের জেব্রা ক্রসিং তৈরি করা প্রয়োজন যা বৃষ্টির পানিতেও মুছে যাবে না।
সুনামগঞ্জ যাত্রী কল্যাণ পরিষদের সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান তারেক বলেন, প্রতিটি স্কুল কলেজের সামনে স্পিড ব্রেকারের বদলে জেব্রা ক্রসিং দেওয়া উচিত। যাতে শিক্ষার্থীরা সহজেই সড়ক পারা-পার করতে পারে।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে সুনামগঞ্জ পৌরসভাকে অন্যরকমভাবে সাজানোর পরিকল্পনা আমাদের হাতে রয়েছে। যার মধ্যে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সড়ক পারপারের জন্য জেব্রাক্রসিং অন্যতম। আমরা খুব শীঘ্রই এই কাজগুলোতে হাত দিবো।