- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জেলাজুড়ে অসন্তুষ্টি- বিপাকে নিম্ন আয়ের লোকজন

বিশেষ প্রতিনিধি
ওএমএস’র চাল হঠাৎ করেই প্রতি কেজির মূল্য সরকারিভাবে ১৫ টাকার স্থলে ৩০ টাকা করায় রোববার হাওরাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জের ১১০ টি কেন্দ্রেই ক্রেতা ও ডিলারদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি ও কথা কাটাকাটি হয়েছে। ক্রেতাদের অনেকে চাল না নিয়েই বাড়ি ফিরেছেন, কেউ কেউ অর্ধেক চাল কিনে বাড়ি ফিরেছেন। শাল্লায় ওএমএস’র চালের ক্রেতারা সংঘবদ্ধ হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গিয়েছেন চালের দাম কমানোর দাবি জানাতে।
সুনামগঞ্জের ফসলহারা কৃষকসহ দরিদ্র মানুষদের খাদ্য সহায়তা দেবার জন্য গত ৯ এপ্রিল থেকে জেলাব্যাপি ওএমএস’র চাল বিক্রি শুরু হয়। ১৫ টাকা কেজি’র এই চাল কেনার জন্য প্রতিদিন শত শত মানুষ ডিলারদের বিক্রয় কেন্দ্রে ভোর থেকে গিয়ে ভিড় করে আসছেন। শুরু থেকেই ওএমএস চালের ক্রয় কেন্দ্র বাড়ানোর দাবি জানানো হচ্ছে। শুরুতে পুরো জেলায় ওএমএস কেন্দ্র ছিল ৪৫ টি। পর্যায়ক্রমে বাড়তে বাড়তে এখন জেলায় ১১০ টি কেন্দ্রে ওএমএস’র চাল বিক্রি হচ্ছে।
শুক্রবার পর্যন্ত ওএমএস’র চাল ১৫ টাকা কেজিতে কিনেছেন ক্রেতারা। শনিবার চাল বিক্রি বন্ধ থাকে। রোববার সকালে ওএমএস কেন্দ্রে এসে চাল কেনার জন্য লাইনে দাঁড়ান ক্রেতারা। চালের মূল্য পরিশোধের সময় ক্রেতারা জানতে পারেন কেজি প্রতি মূল্য বেড়েছে ১৫ টাকা। অর্থাৎ ১৫ টাকার স্থলে ৩০ টাকা হয়েছে। এমন চড়া দাম শুনে অনেক ক্রেতা চাল না কিনেই ফেরৎ চলে যান। কেউ কেউ অর্ধেক চাল নিয়ে ফেরেন।
শাল্লার হরিপুরের জ্যোতির্ময় চক্রবর্তী বলেন,‘৫ কেজি চাল কিনতে একজন মানুষের দিন চলে যায়, লাইনে দাঁড়াতে হয় দীর্ঘক্ষণ, যে চাল আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে কিনি  (মোটা চাল), এই চাল বাজারেই ৩৫-৪০ টাকায় কেনা যায়। আমি আর ওএমএস’র চাল কিনতে লাইনে দাঁড়াবো না।’
সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আব্দুল কাইয়ুম বলেন,‘লাইনে দাঁড়িয়ে ১৫ টাকা কেজিতে  চাল কিনতাম, আজ (রোববার) থেকে ৩০ টাকা কেজি হওয়ায় অনেকে কিনেছেন, অনেকে ফেরৎ চলে গেছেন।’
হঠাৎ করে চালের দাম বাড়ানোয় বিপাকে পড়েন ওএমএস’র ডিলাররাও।
শাল্লা উপজেলার ওএমএস ডিলার বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু বলেন, ‘হাওরাঞ্চলে দরিদ্র-প্রান্তিক কৃষকদের কাছে টাকা নেই। কাজও নেই। কাজ পেলে ১৫০-২০০ টাকার বেশি দিনে রোজগার করতে পারে না মানুষ। সকালে চাল নিতে আসা মানুষকে যখন ১৫ টাকা’র স্থলে ৩০ টাকা বলা হয়েছে, তারা অনেকে বিশ্বাসই করেননি। চিঠি-পত্র দেখানোর পরও দল বেঁধে অনেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গেছেন, ওখানে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে গিয়ে পাননি তারা। পরে ফিরে এসে কেউ চাল নিয়েছেন, কেউ নেননি।’
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাকারিয়া মোস্তফা বলেন,‘শনিবার সন্ধ্যার পর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানান ১৫ টাকার স্থলে ৩০ টাকা কেজি নির্ধারণ করা হয়েছে চালের মূল্য। রাতে যেখানে যেখানে সম্ভব মাইকিং করা হয়েছে। আজ ক্রয় কেন্দ্রগুলোর ব্যানার পরিবর্তন করা হবে।’ তিনি দাবি করেন, ওএমএস কেন্দ্রে যেসব চাল দেওয়া হচ্ছে, বাজারে ঐ চালের কেজি ৪০ থেকে ৪২ টাকার নীচে নয়।

  • [১]