বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ
ধর্মপাশা উপজেলার মুক্তারপুর খেয়া ঘাটের ইজারাদারের লোকজন বুধবার মালিকসহ গরু-বাছুরের খেয়া পারাপারের ভাড়া দাবি করলেন ১৫০ টাকা। খেয়াঘাটে ভাড়া আদায় করতে বসা মো. আজহারুল ইসলাম এই ভাড়া দাবি করেন। এমন অস্বাভাবিক ভাড়া শোনে গরুর মালিক মো. উসমান গনি ভড়কে যান। একপর্যায়ে দু’জনের মাঝে মৃদু তর্কবিতর্ক শুরু হয়। পরে একজন গণমাধ্যম কর্মীর অনুরোধে গরু-বাছুরের ভাড়া ৯০ টাকায় গিয়ে ঠেকে। খেয়া পার হয়ে বিপরীত পারে আসা অনেকে এভাবে যাচ্ছেতাই ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। মঙ্গলবার ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড়-রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের মুক্তারপুর অংশের সুরমা নদীর খেয়া পার হওয়ার সময় এই বাস্তবতা চোখে পড়ে।
সরজমিনে জানা যায়, মোহনগঞ্জের জোয়ালভাঙ্গা গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে মো. উসমান গনি তার গরু-বাছুর নিয়ে সুখাইড়-রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের বিনোদপুর যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সুরমা নদীর মুক্তারপুর অংশ পার হতে গিয়ে ভাড়া বিড়ম্বনায় পড়েন তিনি। সেখানকার খেয়াঘাটে ভাড়া উত্তোলন করা আজহারুল ইসলামের কাছে গরু-বাছুরসহ নিজের ভাড়া কত জিজ্ঞেস করলে ভাড়াটে ১৫০ টাকা দাবি করে। এই অস্বাভাবিক ভাড়া শোনে গরুর মালিক প্রথমে কিছু না বললেও পরে এত ভাড়ার কারণ জানতে চান তিনি। পরে একজন গণমাধ্যম কর্মী (পরিচয় গোপন রেখে) ভাড়া আদায়ের চার্ট কোথায় জানতে চান। এ ব্যাপারে সন্তোষজনক কোন উত্তর দিতে পারেননি খেয়াওয়ালা। শেষ পর্যন্ত উপস্থিত সকলের অনুরোধে গরুর মালিক ১০০ টাকার একটি নোট দিলে তাকে ১০ টাকা ফেরৎ দেওয়া হয়। এ নিয়ে যাত্রীসাধারণকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এভাবেই যার কাছ থেকে যত পারছে, ভাড়া আদায় করছে তারা। কোন নিয়ম-নীতি মানা হচ্ছে না। অপরিচিত হলে তো আর কথা নেই। মুখে যত আসে ততই চাওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ না জেনেই অধিক ভাড়া দিয়ে যাচ্ছেন। আর কেউ কিছু বলতে চাইলেই তর্ক-বিতর্ক বেঁধে যাচ্ছে। অনেক সময় যাত্রীদের সাথে রূঢ় আচরণও করা হচ্ছে।
গরুসহ মানুষের নির্ধারিত ভাড়া এতো বেশি কেন জানতে চাইলেন যাত্রীদের মধ্যে কেউ কেউ এমন প্রশ্ন করলে ভাড়া আদায়কারী আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘দেড়শ’ কইলে ৫০ টাকা দিব। এইডার লাগি দেড়শ’ টাকা চাইছি।’
গরুওয়ালা মো. উসমান গনি বলেন, ‘এইডা কোন কথা হইল। গরু আর মানুষে মিইল্যা দেড়শ টাকা। যেখানে বিশ-ত্রিশ টাকা হইলেও যথেষ্ট সেখানে আমার কাছে দেড়’শ টাকা চাওয়া হইছে। এইভাবেই চলছে সবকিছু। যে যেভাবে পারছে লুটপাট কইরা খাইতাছে।’
যেমন খুশি খেয়া ভাড়া আদায়ের ঘটনা পুরো জেলাজুড়েই আছে। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও জেলা পরিষদের ইজারা দেওয়া খেয়াঘাটগুলোয় এমন নৈরাজ্য। কোথাও কর্তৃপক্ষের খেয়া ভাড়ার চার্ট টাঙানো নেই। যাত্রীরা এজন্য আরও বেশি প্রতারণা বা জুলুমের শিকার হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে সুখাইড়-রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমানুর রাজা চৌধুরী বলেন, এদের ভাড়া আদায়ের নির্ধারিত একটা চার্ট আছে। এই চার্টের বাইরে ১ টাকা বেশি ভাড়া আদায় করার নিয়ম নেই। গরু-বাছুর বাবদ যে ভাড়া চাওয়া হয়েছে, সেটা অবশ্যই বেশি। আমি এ ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি এবং কেন বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে তাদেরকে জিজ্ঞেস করবো।
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী সৈয়দা শমসাদ বেগম বলেন, খেয়াঘাটে ভাড়া আদায়ের চার্ট টাঙানোর জন্য বারে বারে বলে দেওয়া হয়। এরপরও কেউ কেউ নির্দেশ মানেন না। এরকম অবস্থা যাতে না হয় সেই চেষ্টা সকল ইজারা কর্তৃপক্ষেরই করতে হবে। আমরা সকল ঘাটে ভাড়ার চার্ট আছে কী না খোঁজ নিয়ে দেখবো। মুক্তারপুর খেয়াঘাটের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।