- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জেলাজুড়ে সড়কের বেহাল অবস্থা

বিশেষ প্রতিনিধি ও আকরাম উদ্দিন
আফালের ঢেউ এবং বন্যায় সুনামগঞ্জ জেলা সদর থেকে উপজেলার সংযোগ সড়কসহ ইউনিয়ন ও গ্রামীণ সড়কের বেহাল অবস্থা। কোন কোন সড়ক দিয়ে যান চলাচল দূরের কথা, সড়কের উপর দিয়ে এখন নৌকা চলছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বশীলরা বলছেন, এই বিভাগের তত্বাবধানে থাকা ৯০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর সড়কের উপর দিয়ে এখন আর যানবাহন চলাচল করছে না। হেঁটে চলাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
জেলার দিরাই থেকে শাল্লার যোগাযোগ রক্ষা করছে দিরাই-শ্যামারচর সড়ক। এই বিশ কিলোমিটার সড়কের কোথাও কোথাও এমনভাবে ভেঙেছে কাছে যেতে ভয় হয় বলে জানালেন, সড়কের পাশের লছিমপুর গ্রামের কৃষ্ণ বিলাস দাস। কৃষ্ণ বিলাস বললে, এই সড়কের হাসিমপুর থেকে চাকুয়া নয়হাটি পর্যন্ত সড়কের উপর দিয়ে এখন আর যানবাহন চলবে না। সড়কের নিচের মাটি আফালের ঢেউয়ে কেটে নিয়ে গেছে। তিন দিন আগেও যেভাবে আফালের ঢেউ ছিল, এইভাবে ঢেউ থাকলে এই সড়কের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেত। কেবল দিরাই-শ্যামারচর সড়ক নয়। কাঠইর-জয়নগর, জাউয়াবাজার-আন্দারগাঁও, দোয়ারাবাজার-হরিনাপাটি, সুনামগঞ্জ-ধারারগাঁও-কাইমতর সড়কেরও এমন বেহাল অবস্থা। জেলার ১১ উপজেলায় ৯০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সড়কের এমন বেহাল দশা।
ঢলের পানির প্রবল ¯্রােতে শহরতলির নবীনগর-ধারারগাঁও বিটুমিনাস সড়ক উড়িয়ে নিয়ে গেছে । এই সড়কের ৩ স্থানে বড় আকারের ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এই সড়কের আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা জানান, সুরমা ভ্যালী পার্ক এবং সুমন ‘স’ মিল এলাকা দিয়ে নদীর পানি প্রবেশ করেছে হাওরে। এবার সুরমা নদীরপাড়ের বেরীবাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করে নবীনগর-ধারারগাঁও সড়ক ভেঙেছে। এই সড়কের বড় ভাঙন এলাকায় প্রায় ১০ বছর আগে একটি সেতু ছিল। এই সেতু দিয়ে নদীর পানি হাওরে প্রবেশ করতো। সেতু ভেঙে সড়ক করা হয়েছে। এরপর থেকে প্রতি বছর বানের পানিতে নবীনগর-ধারারগাঁও সড়ক ভাঙছে। এবারের বন্যায় ধোপাখালি স্লুইসগেইটের উভয় পার্শ্বের মাটি সরে গেছে। পরে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আমেনা বিবি (৭০) বলেন, বন্যা আসলেই নবীনগর-ধারারগাঁও সড়ক ভাঙে, আর সকলে দেখতে আসেন আমাদের ভোগান্তি।
নবীনগর এলাকার বাসিন্দা দুলন মিয়া বলেন, পরিকল্পিত ও ভালমানের কাজ না হলে সড়কতো ভাঙবেই। যেখানে যেমন কাজের প্রয়োজন, সেটা হয় না।
নবীনগরের স্যানক্রেড হাসপাতালের ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম বলেন, নবীনগর-ধারারগাঁও সড়ক ভাঙায় সুরমার উত্তরপাড়ের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ শহরে আসা-যাওয়া করতে পারছেন না।
সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবুল বরকত বলেন, নবীনগর-ধারারগাঁও সড়ক রক্ষা করতে সুরমা নদীরপাড়ের বেরীবাঁধ মেরামত করতে হবে এবং পুরো বেরীবাঁধ আরও ৩ ফুট উঁচু করতে হবে। নবীনগর-ধারারগাঁও সড়কে আরসিসি ঢালাই, সাইটে মানসম্পন্ন গার্ডওয়াল, ১ মিটার উঁচু করে পুরো সড়কের টেকসই উন্নয়ন জরুরি প্রয়োজন।
জেলার বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমীর বিশ^াস বললেন, তিন দফা বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে যোগাযোগ সড়কের। গ্রামীণ অনেক সড়ক দিয়ে এখন আর পায়ে হেঁটেও চলাচল করা যাবে না।
সুনামগঞ্জ এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী হরজিৎ রায় বলেন, তিন দফা বন্যায় ৯০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে যোগাযোগ সড়কের বেহাল অবস্থা। টাকার অংকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, বন্যায় ৩৫ কিলোমিটার সড়ক ভেঙেছে। টাকার অংকে ক্ষতি হয়েছে ৪০ কোটি টাকা।
দুজনেই জানালেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এসব বিষয় অবহিত করা হয়েছে।

  • [১]