- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জেলার এমপিওভুক্ত ৪৬ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়- প্রহরী না থাকায় রাতে অরক্ষিত থাকে

বিশেষ প্রতিনিধি
১১ উপজেলার ৪৬ টি এমপিওভুক্ত নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় রাতে নিরাপত্তাহীনতায় থাকছে। এসব বিদ্যালয়ে রাতের প্রহরী না থাকায় মূল্যবান আইসিটি সামগ্রী চুরি হওয়ার আশংকায় থাকেন প্রধান শিক্ষকরা। ৪৬টি বিদ্যালয়ের ২টি বিদ্যালয়ে ল্যাব রয়েছে। এই দুই বিদ্যালয়ের মধ্যে সদর উপজেলার শান্তিগঞ্জ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ল্যাব ২০১১ সালে দিয়েছিলেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ। সোমবার রাতে এই ল্যাবটি চুরি হয়েছে। চোরেরা ৩ টি পিসিসহ প্রায় ২ লাখ টাকার কম্পিউটার সামগ্রী চুরি করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জের ৪৬ টি এমপিওভুক্ত নি¤œমাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এই বিদ্যালয়গুলোর বেশিরভাগেই প্রহরী নেই। কোন   কোন বিদ্যালয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে প্রহরী নিয়োগ হলেও নিয়মিত বেতন না পাওয়ায় নামেই কেবল প্রহরী রয়েছে। নিয়মিত পাহাড়া দেবার কাজ করেন না প্রহরীরা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সব সময়ই মূল্যবান বিশেষ করে আইসিটি সামগ্রী চুরি হবার ভয়ে থাকতে হয়।
জেলার এমন বিদ্যালয়গুলো হলো- সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার অষ্টগ্রাম রাসগোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয় ও শান্তিগঞ্জ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। দক্ষিণ সুনামগঞ্জের বীরগাঁও ইমদাদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়, পূর্বপাগলা উচ্চ বিদ্যালয়, নোয়াখালী সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, জয়সিদ্ধি বসিয়া খাউরী উচ্চ বিদ্যালয় ও পঞ্চগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়। জামালগঞ্জের হাজী আছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও আব্দুল মুকিত উচ্চ বিদ্যালয়। ছাতকের ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয়, এলপি উচ্চ বিদ্যালয়, জাহিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়, পালপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সিবিপি উচ্চ বিদ্যালয়, জালালাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়, হাজী আব্দুল খালিক উচ্চ বিদ্যালয়, চরমহল্লা বাজার উচ্চ বিদ্যালয়, হায়দরপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও জনতা উচ্চ বিদ্যালয়। জগন্নাথপুরের আব্দুস সোবহান উচ্চ বিদ্যালয়, পল্লবী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, ও গুলবাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। দোয়ারাবাজারের মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন হেলাল-খসরু উচ্চ বিদ্যালয় ও সোনালী চেলা উচ্চ বিদ্যালয়। তাহিরপুর উপজেলার জনতা উচ্চ বিদ্যালয়, মোয়াজ্জেমপুর উচ্চ বিদ্যালয়, বড়দল উচ্চ বিদ্যালয়, কাউকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁনপুর উচ্চ বিদ্যালয়, বাগলী উচ্চ বিদ্যালয়, আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও হাজী এম এ জাহের উচ্চ বিদ্যালয়। দিরাই উপজেলার মাতারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়, আলহাজ্ব আব্দুল মতলিব উচ্চ বিদ্যালয় ও আলহাজ্ব আব্দুল্লা উচ্চ বিদ্যালয়। ধর্মপাশা উপজেলার আবিদনগর উচ্চ বিদ্যালয়, একতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গলহা উচ্চ বিদ্যালয়, মধ্যনগর পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ভোলাগঞ্জ সার্বজনীন উচ্চ বিদ্যালয়। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিশ্বম্ভরপুর বালিকা বিদ্যালয়। শাল্লা উপজেলার মাহমুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়, আফিজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়, বলরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সরলা উচ্চ বিদ্যালয় ও চাকুয়া নি¤œমাধ্যমিক বিদ্যালয়।
এই বিদ্যালয়গুলোর ১৫ টিতে ল্যাপটপ, মাল্টিপ্রজেক্ট, স্কীন, স্পীকার এবং মডেম রয়েছে এবং ২ টিতে রয়েছে ল্যাব।
সদর উপজেলার শান্তিগঞ্জ নি¤œমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ল্যাবটি হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের অনুদানে। ২০১১ সালে মনমোহন সিংহ বাংলাদেশ সফরকালে দেশের ৬৪ জেলায় ৬৪ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ল্যাব করার জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে ১০ টি করে কম্পিউটার টেবিলসহ কম্পিউটার সামগ্রী এবং মাল্টি মিডিয়া প্রজেক্টর দিয়েছিলেন। সুনামগঞ্জে এই ল্যাবটি পেয়েছিল শান্তিগঞ্জ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়।
সোমবার রাতে এই বিদ্যালয়ের ল্যাবের পাশের কক্ষের সিলিং ভেঙে প্রবেশ করে চোরেরা ৩ টি পিসি, ২ টি আইপিএস এবং ১ টি মনিটরি চুরি করে নিয়ে গেছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন,‘আমাদের স্কুল এমপিওভুক্ত নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রহরী নেই আমাদের। প্রহরী নিয়োগ দিতে চাইলে নিজেরা বেতন পরিশোধ করতে হবে, বিদ্যালয়ে এমনিতেই আর্থিক সংকট রয়েছে, একারণে প্রহরীও নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না, এভাবে চুরিও হয়ে যাবে, এটিও আমরা চিন্তা করিনি, বিষয়টি মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ সদর থানায় লিখিতভাবে জানিয়েছি আমরা’।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পঞ্চগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন,‘বিদ্যালয়ে আর্থিক সংকট লেগেই আছে, তবুও একজন নৈশ প্রহরী আমরা নিয়োগ দিয়েছি, কিন্তু বেশিরভাগ এমপিওভুক্ত নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো নৈশ প্রহরী নিয়োগ দিতে পারছে না’।
তাহিরপুর উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিবাহুল আলম বলেন,‘আমরা একজন নৈশ প্রহরী রাখার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু ঠিকমত বেতন দিতে পারি না, এজন্য সে ডিউটিতেও আসে না। প্রতি রাতেই বিদ্যালয়ে চুরির আতংক থাকে’।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন বলেন,‘এমপিওভুক্ত নি¤œমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো এখন মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্যাটার্নেই জনবলসহ সবকিছু করতে পারে, তবে এমপিওভুক্ত নি¤œমাধ্যমিক গুলোতে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সকল জনবল কাঠামোর বেতন এখনো সরকার কর্তৃক দেওয়া হয়নি। এখন এই বিদ্যালয়গুলোয় নৈশ প্রহরী নিয়োগ দিলে সরকারিভাবে বেতন পাবে না, বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে দিতে হবে, এজন্য অনেক স্কুলই প্রহরী নিয়োগ দিচ্ছে না, আবার নিয়োগ দিতে চাইলেও বেতন পাওয়ার অনিশ্চয়তায় আগ্রহী লোক পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে রাতে এসব বিদ্যালয়গুলো অরক্ষিত থাকে এই বিষটিও সত্য’।

  • [১]