- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জেলার যোগাযোগ সড়ক/ বানের পানিতে ভাঙা ২০ অংশে সেতু করতে হবে

বিশেষ প্রতিনিধি
‘ইকানো উঁচু সড়ক দিলে ভাঙতোই পারে, কারণ পানির চাপ বেশি ইবায়, বৈশাখের পানি আটকানির ব্যবস্থা কইরা, নিচা (নিচু) সড়ক দিলেই ভালা অয়, ২০২০ সালেও বন্যায় ইবায়দি ভাঙছে, ইবার আরেকবার ভাইঙ্গা উড়াইয়া নিছে গি।’
সুনামগঞ্জ—জামালগঞ্জ সড়কের উজ্জ্বলপুরের পাশ^র্বর্তী বড়গাগটিয়া গ্রামের নুরুল আমিনের মন্তব্য এটি। সুনামগঞ্জ—জামালগঞ্জ সড়কের উজ্জ্বলপুরের পাশা মিয়ার বাড়ীর পাশ থেকে উজ্জ্বলপুর মোড় পর্যন্ত সড়ক এলাকা এবারের বন্যায় ভাঙার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এখনো ওখানে ১৪—১৫ ফুট পানি। এবারের বন্যায় পুরোপুরি খাল হয়ে আছে এই সড়কের ৩০০ মিটার অংশ। এর আগে ২০২০ সালের বন্যায়ও এই সড়কের ১৪০ মিটার অংশ ভেসে যায়। পরে প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে সুরমা নদীর তীরের এই সড়ক অংশে ব্লক বিছিয়ে পাকা করে সড়ক নির্মাণ করা হয়।
বানের পানির সঙ্গে চ্যালেঞ্জ করে করা এই সড়ক অংশ এবারও টিকে নি। এবার এই অংশের সামান্য অংশসহ অন্য অংশের ৩০০ মিটার ভাসিয়ে ভাটির মানুষকে প্লাবিত করেছে।
এই সড়কে চলাচলকারী অনেকেই বলেছেন, ২০২০ সালেই উজ্জ্বলপুরের এই ভাঙন অংশে সড়ক করা ঠিক হয় নি। ভাঙনের পাশের দুর্লভপুরের বাসিন্দা জাকির হোসেন বললেন, ব্লক বিছিয়ে ঢালাই করে সড়ক করতে যে টাকা ব্যয় হয়েছে, এই টাকা ব্যয়ে এই অংশে সেতু করা যেত। যেহেতু নদীরপাড়ের এই অংশে হাওররক্ষা বাঁধ করাই হয়, তাহলে সড়ক না করে সেতু বা স্লুইসগেট কাম সেতু করা যেত।
জামালগঞ্জ উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী আনিছুর রহমানকে উজ্জ্বলপুরের এই ভাঙন অংশে সেতু না করে ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে কেন সড়ক করা হয়েছিল, জানতে চাইলে, তাঁর উত্তর ‘আমরা ওখানে সেতু করতে চাই নি, স্থানীয় লোকজন সেতু করতে দেন নি।
পাগনার হাওরের ফসল রক্ষার জন্য ওখানে বাঁধই হয়, পরে বাঁধ কেটে দেওয়া হয়। তাহলে আপনারা সড়ক করার প্রয়োজন ছিল কি, এমন প্রশ্নের উত্তরে ওই প্রকৌশলী বললেন, ওখানকার বাসিন্দারাই এর জবাব দিতে হবে।
পানির চাপে জামালগঞ্জ—সুনামগঞ্জ সড়কের পাঁচ অংশে এবং জামালগঞ্জ—সেলিমগঞ্জ সড়কের ছয় অংশ এবার ভেঙেছে। এই প্রকৌশলী জানালেন, এবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন আছে, যেখানে সড়ক ভেঙেছে, সেখানে সড়ক নয়, সেতু হবে। মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নানেরও কঠোর নির্দেশনা আছে, ভাঙনে আর সড়ক নয়, সেতু, কালভার্ট বা কজওয়ে হবে। এবার তাহলে কি করবেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রকৌশলী আনিছুর রহমান বললেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বাইরে যাবার কোন সুযোগ নেই, ওখানে সেতুই করতে হবে।’
কেবল জামালগঞ্জের এই সড়ক নয়, অপরিকল্পিতভাবে সেতুর স্থলে সড়ক করায় সুনামগঞ্জের কমপক্ষে ২০ টি ভাঙন অংশে এবার সেতু, কালভার্ট বা কজওয়ে নির্মাণ করতে হবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি বন্যার পর সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বলেছেন, ‘ভয়াবহ বন্যয় সুনামগঞ্জের বিভিন্ন সড়কের যে অংশ ভেঙেছে, কোথাও আর সড়ক নয়, সেতু বা কালভার্ট করতে হবে।’
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশ্মির রেজা বললেন,‘সুনামগঞ্জ—জামালগঞ্জ—সেলিমগঞ্জ পর্যন্ত সড়কের ১১ অংশ ভেঙেছে, বন্যার সময় সড়ক ভাঙার পর প্রবল বেগে পানি ঢুকে ভাটি অঞ্চলকে প্লাবিত করেছে। সড়ক না হয়ে সেতু বা কালভার্ট থাকলে এসব অংশ দিয়ে উজানের পানি সহজে নামতো। ভাটি অঞ্চলের বাসিন্দারাও তখন প্রস্তুত থাকতেন। ভাটি অঞ্চলের প্রত্যেকটি সড়কের ক্ষেত্রেই যেখানে যেখানে সেতু প্রয়োজন, সেখানে সেতু করতেই হবে। অন্যতায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে। উজানের মানুষকে বন্যার ভোগান্তি পোহাতে হবে।
জামালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ওয়ালি উল্লাহ্ সরকার বললেন, সুনামগঞ্জ—জামালগঞ্জ—সেলিমগঞ্জ সড়কের সকল ভাঙন অংশেই সেতু করতে হবে।
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম বললেন, সুনামগঞ্জ—জামালগঞ্জ—সেলিমগঞ্জ সড়ক, সুনামগঞ্জ— দোয়ারা—ছাতক সড়কসহ অনেক সড়কে বন্যায় বড় বড় ভাঙন হয়েছে। এসব স্থানে সেতু, কালভার্ট বা কজওয়ে (অপেক্ষাকৃত নীচু সড়ক, বেশি পানি হলে যাতে উপর দিয়ে যেতে পারে) নির্মাণ করতে হবে। ২০ টিরও বেশি অংশে বিপদজনক ভাঙন হয়েছে। এসব অংশের ডিপিপি (ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) তৈরির প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

  • [১]