- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জেলার ৭৪ স্লুইসগেটের বেশির ভাগই অকেজো- খাল ভরাটের কারণে কোন কোন হাওরের পানি নামছে না

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ১৫৪ টি হাওরের বেশিরভাগ হাওরই চাষাবাদের উপযোগী হয়নি। হাওরে বীজ বপনের সময় পার হয়ে গেলেও কোন কোন হাওরের পানি নিস্কাশনের খাল বা স্লুইসগেট, ভার্টিকেল গেট বা পাইপ স্লুইসগেট ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিস্কাশন হচ্ছে না। এই অবস্থায় বেশিরভাগ হাওরপাড়ের কৃষকরাই বেকায়দায় পড়েছেন। পাউবো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা স্লুইসগেট বা খাল পলিভরাটের কারণে কোন কোন হাওরে পানি নিস্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে স্বীকার করে বললেন, ‘ হাওরের পাশ দিয়ে বহমান নদীর পানির উচ্চতা হাওরের সমান সমান থাকায়ও কোথাও কোথাও পানি নিস্কাশনে বিলম্ব হচ্ছে।’
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা মিলে হালির হাওরের অবস্থান। হাওরে জমি রয়েছে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর। এই হাওরের নিচু এলাকা মাছুমপুর গ্রামের রাতলার খাল স্লুইসগেট। রাতলারখাল স্লুইসগেট দিয়ে পানি বৌলাই হয়ে সুরমা নদীতে নিস্কাশন হয়। সোমবার সরেজমিনে রাতলার খাল স্লুইসগেটে গিয়ে দেখা গেছে, স্লুইসগেটের কয়েকটি পলবোর্ড না তোলায় পলি আটকে গেছে এবং পলবোর্ডগুলো মাটির নিচে পড়ে গেছে। রাতলার খালের মুখও ভরাট হয়ে গেছে। স্থানীয়রা বললেন, খালের মুখ খনন করতে হবে, পলির নিচে পড়া পলবোর্ড তুলে মাটি ছাড়িয়ে দিতে হবে। পুরো খালই পরিস্কার রাখতে হবে। কেবল রাতলার খালের স্লুইসগেট নয়। আরো অনেক হাওরেরই পানি নিস্কাশনের খাল বা স্লুইসগেটের অবস্থা এমনই রয়েছে বলে জানালেন হাওরপাড়ের কৃষকরা।
হাওরপাড়ের মাছুমপুর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিন বললেন,‘হালির হাওরের পানি বৌলাই নদী থেকে প্রায় ৩ ফুট উঁচুতে রয়েছে। এই হাওরের পানি নামার একমাত্র পথও এটি। কিন্তু খালের মুখ ভরাট এবং স্লুইসগেটের নিচের পলবোর্ড পলির নিচে পড়ে পানি নিস্কাশনে বাধা সৃষ্টি করেছে, খালের ২-৩ স্থানে ঘন জাল পাতা রয়েছে, এসব প্রতিবন্ধকতায় পানি ধীর গতিতে নামছে।’
হাওরপাড়ের ঝুনুপুরের মুজিবুর রহমান বললেন,‘রাতলারখালের মুখের পলি কেটে দিলে এবং স্লুইসগেটের নিচের পলবোর্ড ওটানো গেলে পানি নিস্কাশনের গতি আরো বেড়ে যাবে। এটা করা না গেলে চাষাবাদে বিলম্ব হবে এবং আবার ফসল নিয়ে বিপদে পড়বো আমরা।’ তিনি জানালেন, ১৯৮৮ সালে এই স্লুইসগেট যখন হয়, তখন খাল অনেক গভীর ছিল, ভরাট হতে হতে এখন পানি নিস্কাশনে সমস্যা হয়ে গেছে। খাল খনন না করলে, এই স্লুইসগেট কাজে আসবে না।’
একই গ্রামের আব্দুর রহমান বলেন,‘পানি নিস্কাশন এখন যেভাবে হচ্ছে, হাওরে ১৫ দিনের আগে বীজ বপন করা সম্ভব হবে না। অথচ সামান্য কাজ করা গেলে এক সপ্তাহে পানি নামবে।’
এই হাওরের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিহার রঞ্জন দাস রাতলারখালে পলিভরাটের কথা স্বীকার করে বললেন,‘অন্যান্য বছর পানি নিস্কাশনে এতো সমস্যা দেখা দেয়নি। এজন্য কাজ করা হয়নি। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে পরামর্শ করে আমরা এই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করবো।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া (পওর-১) জানালেন,‘৫৬ টি স্লুইসগেট এবং ১৮ টি পাইপ স্লুইসগেটের ৯০ ভাগেই সমস্যাগ্রস্ত। হয় খাল ভরাট, না হয় স্লুইসগেটের ভার্টিকেল গেট বা পলবোর্ড ঠিকভাবে নেই। এটি মেরামত করার জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে, দ্রুত পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠন করে দেওয়া হবে এসব সমস্যা দূর করার জন্য।’

  • [১]