- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জেলার ৮ টি পূজা মন্ডপে বৈচিত্র্য

বিন্দু তালুকদার
সুনামগঞ্জে এবার সর্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসবকে বর্ণাঢ্যভাবে উদযাপন করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। প্রতিটি পূজাম-প নানাভাবে সাজানো হয়েছে। এবার জেলায় ৩৫১টি ম-পে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে সার্বজনীয় পূজা ৩২৭টি, ব্যক্তিগত পূজা ২৪টি।
তবে জেলার চার উপজেলা সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নতুনপাড়ায় ১টি, দিরাই পৌর শহরের মজলিসপুরে ১টি, ছাতক পৌর শহর এলাকায় ৪টি ও দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরে ৩টিসহ মোট ৮ টি পূজা ম-প ব্যতিক্রমভাবে সাজানো হয়েছে। এসব পূজা ম-পে উল্লেখযোগ্য বৈচিত্র্য ফুটে উঠেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ব্যতিক্রমী ওই ৮ পূজাম-প দেখতে আশপাশসহ দূর দূরান্ত থেকে লোকজন আসছেন।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, গতবার জেলায় পূজামন্ডপের সংখ্যা ছিল ৩২৫টি। এবার জেলার ১১ উপজেলার ৩৫১টি পূজামন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ২২টি, পৌরসভার বাইরে সদর উপজেলায় ১৭টি, জগন্নাথপুর উপজেলায় ২২ টি, জগন্নাথপুর পৌরসভা এলাকায় ৫টি, দিরাই উপজেলায় ৫১ টি, দিরাই পৌরসভা এলাকায় ৫ টি, ছাতক উপজেলায় ১৮টি, ছাতক পৌরসভায় ১২ টি, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ২৩টি, জামালগঞ্জ উপজেলায় ৪৫টি, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ২২টি, শাল্লা উপজেলায় ২৯টি, তাহিরপুর উপজেলায় ২০টি, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ১৭টি, ধর্মপাশা উপজেলায় ১৬টি, মধ্যনগর থানায় ২৭টিসহ জেলায় মোট ৩৫০টি পূজামন্ডপ দুর্গাা পূজা উদযাপিত হচ্ছে।
ছাতকে প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও পূজা মন্ডপগুলোতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করার চেষ্টা  করেছেন উৎসব কমিটিগুলো। রকেট, স্বর্ণমন্দির, রাজপ্রাসাদের আদলে সজ্জ্বিত করা হয়েছে এ বছরের তিনটি পূজা মন্ডপ। গত কয়েক বছর ধরে ছাতকে পূজা মন্ডপ তাজমহল, রাজবাড়ি, টাইটানিক, বাংলাদেশ বিমান, সেভেন ষ্টার আল-ব্রজ টাওয়ারসহ অনেক নামী-দামী ও পৌরাণিক নিদর্শনের আদলে সজ্জিত করে দর্শনার্থীদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় শহরের কালীবাড়ি সার্বজর্নীন পূজা মন্ডপ সজ্জিত করা হয়েছে পৌরাণিক রাজপ্রাসাদের আদলে। সুউচ্চ প্রাসাদকে অপরূপ আলোকসজ্জায় সজ্জিত করে অনেকটা জীবন্ত করে তুলা হয়েছে রাজপ্রাসাদকে। প্রতিদিন রাজপ্রাসাদ পূজামন্ডপ দেখতে দূর দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন একনজর দেখার জন্য।
কালীবাড়ি পূজা উৎযাপন কমিটির সভাপতি অলক চৌধুরী বলেন, তাদের নিজস্ব চিন্তা-চেতনা থেকে মন্ডপ তৈরী করে থাকেন। এ বছর আমরা রাজপ্রাসাদের আদলে মন্ডপ তৈরী করেছি। মাগুরার শিল্পীরা এ মন্ডপ তৈরি করেছেন।
শহরের মন্ডলীভোগ পূজা মন্ডপকে সজ্জ্বিত করা হয়েছে রকেটের আদলে। এ মন্ডপেও সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে থাকে। রকেটাকৃতি পূজামন্ডপ ও মন্ডপের আলোকসজ্জায় আগত পূণ্যার্থীদের মুগ্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন পরিকল্পনাকারীরা। সু-বিশাল পরিসরে তৈরি মহামায়া যুবসংঘের পূজামন্ডপ বহুদুর থেকে দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করে থাকে।ra-1
শহরের রেল গেইট এলাকার এক ঝাঁক যুবক মিলে মহামায়া যুব সংঘের নামে প্রতি বছর শারদীয় উৎসব পালনকারীরা এ বছর পূজামন্ডপ সাজিয়েছেন স্বর্ণমন্দিরের আদলে। কয়েক বছর ধরে তারা শান্তিপূর্ণভাবে ব্যয়বহুল এ উৎসব পালন করে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন।
শহরের হাসপাতাল রোডের ত্রি-নয়নী সংঘের রয়েছে আরেক বিশেষ আয়োজন। বিশাল পুকুর বেষ্টনী করে নির্মিত হয়েছে পূজামন্ডপ। পুকুরের মধ্যে দিনেই দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও মূর্তি দর্শনের ব্যবস্থা করে তারা এ বছর সম্পূর্ণ নতুনত্ব এনেছেন। পুকুরের কোনায়-কোনায় স্থাপন করা হয়েছ ছোট-ছোট মন্দির। পূজা মন্ডপ বিশাল পুকুরকে অপরূপ সাজে সজ্জ্বিত করা হয়েছে।
ত্রি-নয়নী পূজা কমিটির সভাপতি রানা চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সুজিত পাল জানান, পূজাকে আকর্ষণীয় ও উৎসবমুখর করতেই তাদের এ আয়োজন বলে জানান।
দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরে স্থানীয় বিদ্যাজননী যুব ফোরামের সদস্যরা বাজারের পশ্চিম অংশের সন্তোষ রায়ের বাসায় সার্বজনীন পূজার আয়োজন করেছে। এই পূজার আয়োজকরা টিস্যু কাপড় ও ককসিট দিয়ে ম-প তৈরি এবং রাস্তার শুরুতে মন্দিরের আদলে কাঠ দিয়ে দ্বিতীয় তলার সমান উচ্চতা করে একটি বিশাল গেইট নির্মাণ করেছেন।
একই এলাকার ত্রিনয়নী যুব সংঘ বাজারের আখড়ার সামনের খোলা মাঠে ২০ শতক জায়গার উপর দৃষ্টিনন্দন ম-প ও গেইট নির্মাণ করেছেন। কাঠ, টিস্যু পেপার ও ককসিট দিয়ে ব্যতিক্রমভাবে পূজা ম-প তৈরি করা হয়েছে। পূজা ম-পকে আকর্ষণীয় করতে পূজার গেইটটি শিব মন্দিরের আদলে তৃতীয়তলা ভবনের সমান উচ্চতায় গেইট নির্মাণ করা হয়েছে।
ত্রিনয়নী যুব সংঘ সার্বজনীন পূজা পরিচালনা কমিটির সভাপতি দিপ্ত দে নিটু বলেন,‘ আমরা প্রতি বছরই ব্যতিক্রম কিছু করার চেষ্টা করি এবং তা বাস্তবে রূপ দেই। সুন্দর ও উল্লেখযোগ্য বৈচিত্র থাকায় আমরা প্রতি বছরই উপজেলার সকল পূজার মধ্যে প্রথম হই। প্রতি বছরের ন্যায় এবারো অত্যন্ত সুন্দর করে আমরা পূজা ম-প ও গেইট নির্মাণ করেছি।
দোয়ারাবাজার বিদ্যাজননী যুব ফোরাম সার্বজনীন পূজা পরিচালনা কমিটির সভাপতি পিপলু রায় বলেন,‘ আমরা গত ৭ বছর ধরে দুর্গা পূজা করে আসছি। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার আমরা সবকিছুতেই ব্যতিক্রমী করার চেষ্টা করেছি। সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে কাঠ দিয়ে ২য় তলার সমান করে দৃষ্টিনন্দন একটি গেইট নির্মাণ করেছি। এলাকার লোকজন আমাদের পূজা দেখতে আসছেন।’
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পূর্ব নতুন পাড়ার সার্বজনীন দুর্গা পূজা ম-প প্রতি বছরের ন্যায় ব্যতিক্রমভাবে সাজানো হয়েছে। ম-পের প্রতীমা মাটি দিয়েই তৈরি করা হয়েছে। তবে এই ম-পের ভেতর, আশপাশ এলাকা ও সামনের রাস্তায় চোখ ধাধানো লাইটিং করা হয়েছে। টিস্যু কাপড়, বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় রঙ্গিন বাতি দিয়ে পুরো রাস্তা সাজানো হয়েছে। ব্যতিক্রমী সাজসজ্জার আয়োজন করতে এই পূজা পরিচালনা কমিটি আলোক সজ্জার সরঞ্জামাদি সিলেট থেকে এনেছেন।
পূর্ব নতুন পাড়ার সার্বজনীন দুর্গা পূজা পরিচলনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত রায় বলেন,‘ প্রতি বছরের ন্যায় এবারো আমরা মানুষকে আনন্দ দেয়ার জন্য এবং শহরের অন্যান্য পূজা ম-প থেকে একটি অন্য ধরনের করতে সকল সাজসজ্জার উপকরণ সিলেট থেকে এনেছি। আমাদের পূজা ম-প ও আশপাশ এলাকা আমরা নানা রং ও নানা ডিজাইনে সাজিয়েছি। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকার লোকজন আমাদের পূজা দেখতে আসছেন।’
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নৃপেশ তালুকদার নানু বলেন,‘ দুর্গাপূজার ম-প সুন্দর ও ব্যতিক্রম করে তোলার লক্ষ্যে সবাই চেষ্টা করেন। পূজার ম-পগুলো সাধারণত সুন্দরই হয়ে থাকে। এর মধ্যে কিছু ম-প সুন্দর ও বৈচিত্রে ভরপুর থাকে। যা সবার আকর্ষণে পরিণত হয়। প্রতিবছরের ন্যায় এবারো সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পূর্ব নতুন পাড়ায় খুব সুন্দর করে ম-প তৈরি ও সাজানো হয়েছে। এছাড়া ছাতকে তিনটি, দোয়ারাবাজারে দুইটি ও দিরাই পৌর শহরে একটি পূজা ম-প সুন্দর করে সাজানো হয়েছে।’

  • [১]