স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে ১৬ জন র্যাব সদস্যসহ নতুন করে ২১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অন্য আক্রান্তরা হলেন ছাতক উপজেলায় ২, জগন্নাথপুরে ১, সুনামগঞ্জ সদরে ১ এবং দোয়ারাবাজার উপজেলায় ১ জন।
রবিবার রাত সাড়ে ১০টায় সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন জানান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষা শেষে রবিবার রাত সাড়ে ১০ টায় র্যাব-৯’এর সুনামগঞ্জ ক্যাম্পের ১৬ জন র্যাব সদস্যসহ ২১ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানানো হয়। এ নিয়ে সুনামগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৬৫ জন।
এদিকে কোভিড ১৯ পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার জেলা প্রশাসনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়-সুনামগঞ্জে নতুন করে হোম কোয়ারেন্টাইনে গেছেন ২৩ জন। কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫১ জন। আইসোলেসনে নেয়া হয়েছে ২১ জনকে। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪১০ জন। এছাড়াও বিদেশ প্রত্যাগত আরও ১০ জন প্রবাসী সুনামগঞ্জে এসেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানা যায়, অদ্যাবদি মোট কোয়ারেন্টিনে এসেছেন ৫১৭৫ জন। পাশাপাশি কোয়ারেন্টিন সম্পন্ন করেছেন ৪৭৬৫ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ৬১ জন। বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৩০ জন এবং আইসোলেসনে আছেন ১৬৫ জন। গত ১ মার্চ থেকে বিদেশ থেকে জেলায় এসেছেন ২৫৩৬ জন। করোনাভাইরাস শনাক্তে সোমবার পর্যন্ত সুনামগঞ্জে ৩ হাজার ৯৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা করা হয়েছে ২ হাজার ৬৪৪টি নমুনা। সবচেয়ে বেশী ৫৪৯ টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে। এরমধ্যে রিপোর্ট পাওয়া গেছে ৪৯৬ জনের।
এছাড়াও দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ১৪৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ১২৩ জনের, দিরাই উপজেলায় ২২১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ১৮২ জনের, শাল্লা উপজেলায় ১৮০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ১৫৩ জনের, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলায় ২৮১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ২৩০ জনের, তাহিরপুর উপজেলায় ২০৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ১৬৭ জনের, জামালগঞ্জ উপজেলায় ২৩৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ২১৬ জনের, ধর্মপাশা উপজেলায় ২৩১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ২০০ জনের, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৩৫৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ২৮৬ জনের, ছাতক উপজেলায় ৪৬৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ৪১২ জনের, জগন্নাথপুর উপজেলায় ২৩০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ১৭৯ জনের নমুনার রিপোর্ট পাওয়া গেছে।
এই পর্যন্ত জেলায় করোনা ভাইরাসে শনাক্ত হওয়া ১৬৫ জনের মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৪৮ জন, দিরাই উপজেলায় ৭ জন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ১২ জন, ছাতক উপজেলায় ২৬ জন, জগন্নাথপুর উপজেলায় ৯ জন, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ১১ জন, শাল্লা উপজেলায় ৯ জন, জামালগঞ্জ উপজেলায় ৪ জন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ৯ জন, ধর্মপাশা উপজেলায় ১৬ জন, তাহিরপুর উপজেলায় ১৪ জন।
এদিকে আজ পর্যন্ত করোনা থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬১ জন। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ সদর ও হাসপাতাল থেকে ৩ জন, দোয়ারাবাজার উপজেলা থেকে ৫ জন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা থেকে ৮ জন, শাল্লা উপজেলা থেকে ৮ জন, জগন্নাথপুর উপজেলার ৬ জন, দিরাই উপজেলা থেকে ৫ জন, ছাতক উপজেলার ৫ জন, জামালগঞ্জ উপজেলা থেকে ৩ জন, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা থেকে ৬ জন, তাহিরপুর উপজেলা থেকে ৬ জন, ধর্মপাশা উপজেলা থেকে ৫ জন।
উল্লেখ্য, করোনা চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১০০টি বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়াও ২০ জন ডাক্তার ও ১৪৩ জন নার্সও রয়েছেন। ছাতক, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, জগন্নাথপুর, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লা উপজেলায় ৩টি করে বেড এবং সুনামগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও আনিছা হেলথ কেয়ারে ২টি করে বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য ১৩১ টি বেড রয়েছে। এছাড়াও ৮৬ জন ডাক্তার, ২৪৭ জন নার্স প্রস্তুত রয়েছেন। আক্রান্তদের জরুরী চিকিৎসায় স্থানান্তরের প্রয়োজনে ১ টি এম্বুলেন্স প্রস্তুত রয়েছে। জরুরী বিভাগে আইসোলেশনের ব্যবস্থাও রয়েছে।