দক্ষিণ সুনামগঞ্জে প্রস্তাবিত টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপনের বাস্তব কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারি পর্যায়ে এই প্রকল্প অনুমোদনের পর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এখন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করে জনবল পদায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে সরকার ৯৭ কোটি ২১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করেছেন। অর্থাৎ দেশের সর্ববৃহৎ শিল্পখাত তথা রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ অর্জনকারী গার্মেন্টস সেক্টরে দক্ষ জনবল সরবরাহের লক্ষে সুনামগঞ্জে স্থাপিতব্য এই ইনস্টিটিউট নির্মাণ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। গার্মেন্টস শিল্পে সুনামগঞ্জ জেলার বহু মানুষ বিশেষ করে মহিলারা নিয়োজিত রয়েছেন। এই ইনস্টিটিউট স্থাপন হলে এই জেলার লোকজন দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে গার্মেন্টস সেক্টরে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পাবেন। এখানে গার্মেন্টেস শিল্পের উৎপাদন, বিপণন, ব্যবস্থাপনা খাতে ডিপ্লোমা গ্রহণের সুযোগ পাবেন বহু লোক। ধান চাষ, মাছ ধরা ও বালি-পাথর আহরণের বাইরে এখন জেলার অন্যতম প্রধান জীবিকা খাত হলো গার্মেন্টস শিল্প। আমরা আশা করছি ইন্সিটিটিউটটি স্থাপনের মাধ্যমে জীবিকার এই খাতটি আরও মজবুত অবস্থানে পৌঁছতে পারবে।
এই ইন্সিটিটিউট স্থাপনের সংবাদে আরেকটি বিষয় এই জেলার সকলের চিন্তার মধ্যে কাজ করতে শুরু করেছে। সেটি হলো জেলায় গার্মেন্টস শিল্প স্থাপনের। গার্মেন্টস শিল্পস্থাপনের প্রধান উপাদান দক্ষ জনবলের ব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়ায় এই চিন্তাটি অবাস্তব কিছু নয় বলেই ধারণা করা সংগত। জেলার বহু প্রবাসী রয়েছেন যারা এই শিল্পে বিনিয়োগ করার মতো সামর্থবান। এছাড়াও রয়েছেন সামর্থবান ব্যবসায়ী যারা বিনিয়োগ সক্ষম। তারা যদি জেলায় গার্মেন্টস শিল্প স্থাপনে এগিয়ে আসেন তাহলে সুনামগঞ্জের অর্থনৈতিক অবস্থা যে বিশেষভাবে পরিবর্তিত হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। একটি প্রতিবন্ধকতা অবশ্য আছে। সেটি হলো সুনামগঞ্জ থেকে সিলেট পর্যন্ত যে সড়কটি রয়েছে সেটিকে অন্তত চার লেনে উন্নীত করতে হবে। গার্মেন্টস শিল্পের কাঁচামাল আমদানী ও উৎপাদিত পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত নিয়ে যেতে এখন এই রাস্তাটি একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। রাস্তাটি চারলেনে উন্নীত হলে বিনিয়োগে উৎসাহী লোকের তেমন অভাব হবে না বলেই আমাদের মনে হয়। এছাড়া নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করাটাও আরেকটি বড় চাহিদা শিল্পস্থাপনের জন্য।
সুনামগঞ্জে টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট স্থাপনে যার অবদান সবচাইতে বেশি তিনি হলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। মূলত তাঁর ইচ্ছা ও উদ্যোগের কারণেই এটি এখানে হচ্ছে। শুধু এটিই নয়। তাঁর উদ্যোগে সুনামগঞ্জে আরও বহুবিধ উন্নয়ন কর্মকা- বাস্তবায়িত হওয়ার পথে। দেশের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মতো দুইটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকায় জেলার সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি সকল কিছুই অবগত আছেন। একইভাবে সমস্যার বিষয়টিও তাঁর অজানা নয়। তিনি নিশ্চয়ই জানেন এই জেলায় গার্মেন্টস শিল্প গড়ে উঠার বাস্তব সম্ভাবনা উজ্জ্বল। এখন এই সম্ভাবনাকে বাধাহীন করতে যা যা করা দরকার তিনি নিশ্চয়ই করবেন। এই বিশ্বাস আমাদের রয়েছে। এই বিশ্বাসের জায়গা থেকেই আমরা সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কটিকে চারলেনে উন্নীত করা এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতিকরণসহ প্রবাসীদের এই খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে সম্ভাব্য পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আমরা আহ্বান জানাই।