- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জেলায় প্রায় ৯২ হাজার পরিবার পাবেন ১০ টাকা কেজির চাল

স্টাফ রিপোর্টার
করোনাভাইরাসজনিত কারণে শহরের নিম্ন আয়ের মানুষের হাতে ১০ টাকা কেজি দরে চাল তুলে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা বাস্তবায়ন করছে সরকার। সারাদেশে একযোগে রোববার থেকে ওএমএসের আওতায় সাশ্রয়ী দামে এই চাল বিক্রি শুরু হবে। তবে যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড আছে, শুধু তারাই এই সুবিধা পাবেন। সুনামগঞ্জ জেলার ১১ উপজেলার ৮৮ ইউনিয়নে ১৮০ জন ডিলারের মাধ্যমে ৯১ হাজার ৯ শত ৫০ জন কার্ডধারী এই সুবিধা পাবেন। একটি হতদরিদ্র পরিবার প্রতিমাসে ১০ টাকা দরে সর্বোচ্চ ৩০ কেজি চাল নিতে পারবেন।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ২৪ জন ডিলার ১৪ হাজার ৫ শত ২২ জনকে, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ১৭ জন ডিলার ৬ হাজার ৩শত ৩৭ জনকে, দোয়ারাবার উপজেলায় ১৮ জন ডিলার ৭ হাজার ৫শত ৪৫ জনকে, ছাতক উপজেলায় ২৬ জন ডিলার ১৪ হাজার ৫১জনকে, জগন্নাথপুর উপজেলায় ১৬ জন ডিলার ৯ হাজার ৫শত ৪ জনকে, দিরাই উপজেলায় ১৮ জন ডিলার ৮ হাজার ২শত ৭৬ জনকে, শাল্লা উপজেলায় ৮ জন ডিলার ৩ হাজার ৮শত ৫৬ জনকে, ধর্মপাশা উপজেলায় ২০ জন ডিলার ৮ হাজার ১শত ৭৬ জনকে, জামালগঞ্জ উপজেলায় ১০ জন ডিলার ৬ হাজার ৩ শত ৮০ জনকে, তাহিরপুর উপজেলায় ১৪ জন ডিলার ৬ হাজার ৮শত ৫৫ জনকে এবং বিশ^ম্ভরপুর উপজেলায় ৯ জন ডিলার ৫ হাজার ৭ শত ৮৮ জন এই চাল ক্রয় করবেন।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, করোনাভাইরাসের কারণে দেশে যতদিন সংকট থাকবে, ততদিন শহর এলাকায় এই কর্মসূচি চালু থাকবে। সুবিধাবঞ্চিতরা যাতে সরকারের দেওয়া সুফল পান, সে জন্য প্রশাসনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যৌথ সহযোগিতায় বিশেষ এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’ খাদ্য অধিদপ্তর এ বিষয়ে তদারকি জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি। বর্তমানে গ্রামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি চালু আছে। ৫০ লাখ কার্ডধারী এই সুবিধা পাচ্ছেন। আপাৎকালীন সংকট মোকাবিলায় এ কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৬ মার্চ তার ভাষণে।
সূত্র জানায়, সরকার প্রতি কেজি চাল কিনছে ৪৩ টাকা ৫০ পয়সায়। বিক্রি করছে ১০ টাকা। ফলে প্রতি কেজিতে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে ৩৩ টাকা ৫০ পয়সায়। এ চাল যাতে কালোবাজারে যেতে না পারে সে জন্য বিশেষ নীতিমালা তৈরি করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়, যা ইতিপূর্বে পরিপত্র আকারে জারি করা হয়েছে। সে অনুযায়ী কাজ করতে সংশ্নিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিকালীন জনগণ ঘরে থাকা অবস্থান শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ফলে তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, পরিবহন শ্রমিক, ফেরিওয়ালা, চায়ের দোকানদার, ভিক্ষুক, ভবঘুরে, তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) সম্প্রদায়সহ অন্যসব কর্মহীন মানুষকে ওএমএসের আওতায় এনে সহায়তা দেওয়া হবে। একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তিকে ভোক্তা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এছাড়া ওই পরিবারের কেউ যদি বিদ্যমান খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি অথবা ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় সুবিধা নিয়ে থাকেন, তারা বিশেষ এ সুবিধা পাবেন না।
এতে আরও বলা হয়, শহরের জন্য চালু হওয়া এ কর্মসূচির আওতায় নিম্ন আয়ের এক পরিবারের জন্য সপ্তাহে সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি করে চাল কিনতে পারবেন। এর জন্য ভোক্তা বা সুবিধাভোগীকে তার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। সপ্তাহে রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতি- এ তিন দিন চাল বিক্রি হবে। সে হিসাবে একজন ভোক্তা মাসে সর্বোচ্চ ২০ কেজি চাল কিনতে পারবেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত শহরের নির্ধারিত স্পটে চাল বিক্রি করা হবে। এতে আরও বলা হয়, শুধু ঢাকা শহরে প্রতিদিন সর্বোচ্চ তিন টন এবং ঢাকার বাইরে অন্য জেলা শহরে নির্ধারিত স্পট বা কেন্দ্রে সর্বোচ্চ দুই টন চাল বিক্রি করা যাবে। স্পট নির্বাচনের ক্ষেত্রে নীতিমালায় বলা হয়েছে, যেসব জায়গায় নিম্ন আয়ের লোকজন বেশি বাস করেন, বিশেষত বস্তি এলাকায় বা পর্যাপ্ত খালি জায়গা আছে এমন স্থানকে স্পট বা বিক্রয় কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, মানুষকে ঘরে রাখা নিশ্চিত করতে ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এই ওএমএস চালু করা হয়েছে। এতে কোন অনিময় সহ্য করা হবে না। ডিলারা যথাযথভাবে বিক্রয় না করলে নীতিমালা আইনানুগ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ওএমএস’এর তালিকাসহ সকল কার্যক্রমের তথ্য তথ্য বাতায়নসহ সকল স্থাণে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। গণমাধ্যম কর্মীরা চাওয়ার আগেই তথ্য পেয়ে যাবেন। কোন রকমের দুর্নীতির সুযোগ দায়িত্বশীল কেউ যাতে না দেন। সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতি হলে কেউই ছাড় পাবেন না।

  • [১]