- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জেলায় মাধ্যমিক শিক্ষায় ঝড়ে পড়ার হার কমছে

বিন্দু তালুকদার
হাওর অধ্যুষিত সীমান্তবর্তী জেলা সুনামগঞ্জ। যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক অবস্থায় পিছিয়ে থাকা এই জেলায় শিক্ষায়ও পিছিয়ে ছিল। সারা দেশের শিক্ষার হার ৬১ হলেও সুনামগঞ্জ জেলার শিক্ষার হার ৩৫ ভাগ (২০১১ সালের আদমশুমারীর তথ্য)। এ জেলার শিক্ষার্থীরা অঙ্কুরেই ঝড়ে পড়ত। বিশেষ করে মাধ্যমিক স্তরে ঝড়ে পড়ত অনেক ছাত্র-ছাত্রী।
তবে বর্তমান সরকারের আমলে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ার সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে ও শিক্ষার হার বাড়ছে বলে জানিয়েছেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ। গত বছরে জেলার মাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ার হার ৭ ভাগ কমেছে।  
শিক্ষার হার বাড়াতে সরকারের নানা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের পাশাপাশি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন বর্তমান জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম। তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভাগের শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক নির্বাচিত হয়েছেন। বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি রাস্তার আশপাশে বিদ্যালয় আকস্মিক পরিদর্শন করছেন ও ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান দেন। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বেশী বরাদ্দ ব্যায় করার অনুরোধ করছেন।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২০১০ সালে জেলায় মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়েছিল ২০ হাজার ৭৫৭ জন। ২০১২ সালে জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১৮ হাজার ৭৮০ জন। ২০১৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ১৪ হাজার ৯৪৪ জন। ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে ঝড়ে পড়ে ৫ হাজার ৮১৩ জন ছাত্র-ছাত্রী। ঝড়ে পড়ার হার ২৮ ভাগ। এদিকে ২০১১ সালে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়েছিল ২২ হাজার ৭১০ জন। ২০১৩ সালে জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১৯ হাজার ৩৯৫ জন। ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ১৭ হাজার ৯৩৯ জন। ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে কিছু হ্রাস পেয়ে   ঝড়ে পড়ে ৪ হাজার ৭৭১ জন ছাত্র-ছাত্রী। যা ঝড়ে পড়ার হার ২১ ভাগ। এই ঝড়ে পড়ার হার হ্রাস পাওয়ায় জেলার শিক্ষা ব্যবস্থায় জেলার হার বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন জেলা শিক্ষা ব্যবস্থার সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাগণ।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন বলেন,‘সুনামগঞ্জ এটি হাওর প্রধান অঞ্চল। এই এলাকায় বাহিরের কোন শিক্ষক আসতে ও থাকতে চায় না। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বার বার শিক্ষক নিয়োগ দিয়েও শিক্ষক পাওয়া যায় না। পরিবারের অসচেতনতা, দারিদ্রতাসহ বিভিন্ন কারণে শিক্ষার্থীরা ঝড়ে পড়ে। তবে আস্তে আস্তে ঝড়ে পড়ার সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি ঝড়ে পড়ার রোধ করা ও শিক্ষার হার বাড়াতে।’  
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্য প্রযুক্তি) আইনুর আক্তার পান্না বলেন,‘ সরকার শিক্ষার হার বাড়ানো ও ঝড়ে পড়া রোধ করতে নানান উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন। ছাত্রীদের উপবৃত্তি দিচ্ছে ও অনেক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মিড ডে মিল (দুপুরের খাবার) চালু করেছে। হাওর এলাকায় বর্ষাকালে বিদ্যালয়ে যেতে না পারার কারণে অনেকেই ঝড়ে যেত। এখন সরকারি-বেসরকারিভাবে হাওর এলাকার শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মূখি ও নিরাপদে যাতায়াতের জন্য নৌকা প্রদান করছে। ব্র্যাক বিভিন্ন গ্রামে শিক্ষাতরীর মাধ্যমে শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান দিচ্ছে।’
জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন,‘ সুনামগঞ্জ শিল্প-সংস্কৃতিতে সারা দেশে অনেক এগিয়ে রয়েছে। তবে শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেকটা পিছিয়ে ছিল। বর্তমানে আমরা আর পিছিয়ে থাকতে চাই না। শিক্ষার হার বাড়ানোর জন্য শিক্ষা বিভাগকে নিয়ে দিনরাত কাজ করছি। কাঙ্খিত অর্জন না হলেও গত কয়েক বছরে ঝড়ে পড়ার সংখ্যা কমছে এবং শিক্ষার হার কিছু বেড়েছে। ’

  • [১]