- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জেলায় সুস্থতার হার বেড়েছে

সজীব দে
সুনামগঞ্জ জেলায় সোমবার দুপুর পর্যন্ত করোনা সন্দেহে ১১ হাজার ২শত’৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১৬১৬ জন। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় আক্রান্তের হার ১৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আক্রান্তদের মধ্যে আরোগ্য লাভ করেছেন ১২৩৬ জন। আক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার হার ৭৬.৪৮ শতাংশ। গত জুলাই মাসে জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫০৩ জন। যা মোট আক্রান্তের ৩১.১২ শতাংশ। ১ জুন থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৭২৪ জন। অর্থাৎ আক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার হার বেড়েছে। যা জেলায় মোট সুস্থতার ৫৮.৫৭ শতাংশ। উপজেলা ভিত্তিক হিসাবে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় আক্রান্তের হার বেশি। জেলায় মোট আক্রান্তের ৫৬.৬৬ শতাংশই সদর উপজেলার।
জেলায় করোনা আক্রান্ত ১৬১৬ জনের মধ্যে ৬১৬ জনই সদর উপজেলার। ৩ হাজার ৩শত’ ৩৩ জনের নমুনা টেস্ট করে রিপোর্ট পাওয়া গেছে ৩ হাজার ১শত’ ৬০ জনের। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৯.৪৩ শতাংশ। আক্রান্তের বেশীরভাগই সুনামগঞ্জ পৌর শহরের। সর্বশেষ গত রোববার সুনামগঞ্জ সদরের ৪৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৭ জন। এরমধ্যে আরোগ্য লাভ করেছেন ৩৫২ জন। আক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার হার ৫৭.১৪ শতাংশ। করোনায় আক্রান্ত হয়ে সদরে মৃত্যুবরণ করেছেন ৩ জন। বর্তমানে আইসোলেসনে আছেন ২৬১ জন।
৩০ জুন পর্যন্ত সদরে করোনা আক্রান্ত ছিলেন ২৫৪ জন। গত ১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সদরে আক্রান্ত হয়েছেন ২৮৫ জন। আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছায় ৫৩৯ জনে। অর্থাৎ সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় মোট আক্রান্তের ৪৬.২৬ শতাংশই আক্রান্ত হয়েছেন জুলাই মাসে। আর জেলায় মোট আক্রান্তের ৫৬.৬৬ শতাংশই সদর উপজেলার।
মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যায় মানুষজন শঙ্কিত। সংক্রমণ ক্রমাগত বেড়ে চলা বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, অধিকাংশ স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় নি। এর ফলেই সংক্রমণের উর্ধ্বগতি। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। অন্যথায় করোনা নিয়ন্ত্রণে আসবে না।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী বলেন, পরপর কয়েকদফা বন্যা ও ঘন বসতির কারণে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। বন্যার আগে অবস্থা এত খারাপ ছিল না। তবে উপজেলার গ্রামগুলোর অবস্থা ভালো।
তিনি জানান, পৌর শহরের মধ্যে নতুন পাড়ায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেশী। ইতোমধ্যে এই মহল্লায় ২ জন মারাও গেছেন। করোনাভাইরাস আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে ষোলঘর ও বড়পাড়া। এছাড়াও পৌর শহরের অন্যান্য পাড়ায়ও কমবেশী করোনা আক্রান্ত রয়েছেন।
করোনা পরিস্থিতি বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, গত ১২ এপ্রিল দোয়ারাবাজার উপজেলায় প্রথম একজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। প্রথম সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্তের ৪৩ তম দিনে গত ২৫ মে করোনা আক্রান্ত শনাক্তের সংখ্যা ১০০ অতিক্রম করে। ২ জুন করোনা সংক্রমণের ৫১ তম দিনে ৩৯ জন আক্রান্ত নিয়ে ২০০ পার করে শনাক্তের সংখ্যা। ৫ জুন ২৫০ অতিক্রম করে করোনা শনাক্ত। ৭ জুন করোনা শনাক্তের ৫৬ তম দিনে ৩৪ জন আক্রান্ত নিয়ে ৩০০ ছাড়ায় আক্রান্তের সংখ্যা। ৯ জুন ২১ জন আক্রান্ত নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৫০ জনে। ১১ জুন করোনা সংক্রমণের ৬০ তম দিনে ২২ জন আক্রান্ত নিয়ে ৪০০ অতিক্রম করে শনাক্ত সংখ্যা দাঁড়ায় ৪১৮ জন। ১৩ জুন সংক্রমণের ৬২ তম দিনে ৫০০ অতিক্রম করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। ১৫ জুন সংক্রমণের ৬৪ তম দিনে আক্রান্ত হন ৭৮ জন। শনাক্ত সংখ্যা পৌঁছায় ৬৪১ জনে। ১৭ জুন সংক্রমণের ৬৬ তম দিনে আক্রান্ত হন ১২ জন। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৭০০ অতিক্রম করে দাঁড়ায় ৭৭১ জনে। ২২ জুন আক্রান্ত হন ২৮ জন। আক্রান্তের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়ে পৌঁছায় ৮২৩ জনে। ২৫ জুন আক্রান্ত হন ১৫ জন। আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯১০ জনে। ১ জুলাই ২৪ জন আক্রান্ত নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০১৪ জনে। এরপর ৬ জুলাই আক্রান্তের সংখ্যা ১১০০, ১৪ জুলাই ১২০০, ১৯ জুলাই ১৩০০, ২৬ জুলাই ১৪০০, ২ আগস্ট ১৫০০ এবং ৮ আগস্ট ১৬০০ অতিক্রম করে আক্রান্তের সংখ্যা।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে জেলায় এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১৭ জন। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৩ জন, ছাতক উপজেলার ৭ জন, তাহিরপুর উপজেলার ১ জন, দিরাই উপজেলার ২ জন, জামালগঞ্জ উপজলার ১ জন, দোয়ারাবাজার উপজেলার ১ জন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ১ জন এবং ধর্মপাশা উপজেলার ১ জন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দিরাই উপজেলায় ৬৫৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে রিপোর্ট পাওয়া গেছে ৬২১ জনের। এরমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৯ জন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। সুস্থ হয়েছেন ৭৬। আক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার হার ৮৫.৩৯ শতাংশ। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২ জন। বর্তমানে আইসোলেসনে আছেন ১১ জন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা থেকে ৬৫৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে রিপোর্ট পাওয়া গেছে ৬৩১ জনের। এরমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৭ জন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। সুস্থ হয়েছেন ৭১ জন। আক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার হার ৮১.৬০ শতাংশ। করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ১ জন। বর্তমানে আইসোলেসনে আছেন ১৫ জন।
শাল্লা উপজেলায় ৬১১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে রিপোর্ট পাওয়া গেছে ৫৬৯ জনের। এরমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৪০ জন। আক্রান্তদের সকলেই সুস্থ হয়েছেন।
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলায় ৬৮১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে রিপোর্ট পাওয়া গেছে ৬৬৩ জনের। এরমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৭১ জন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ। সুস্থ হয়েছেন ৬১ জন। আক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার হার ৮৫.৯১ শতাংশ। বর্তমানে আইসোলেসনে আছেন ১০ জন।
তাহিরপুর উপজেলায় ৩৯৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করে রিপোর্ট পাওয়া গেছে ৩৭১ জনের। এরমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৪০ জন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১০ দশমিক ৭৮ শতাংশ। সুস্থ হয়েছেন ৩৮ জন। বর্তমানে আইসোলেসনে আছেন ১ জন।
জামালগঞ্জ উপজেলায় ৭৩৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে ৭০৭ জনের। এরমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৩ জন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১০ দশমিক ৩২ শতাংশ। সুস্থ হয়েছেন ৬৮ জন। করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ১ জন। বর্তমানে আইসোলেসনে আছেন ৪ জন।
ধর্মপাশা উপজেলায় ৪১৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ২৭ জন। সুস্থ হয়েছেন ২৪ জন। বর্তমানে আইসোলেসনে আছেন ২ জন। করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ১ জন।
দোয়ারাবাজার উপজেলায় ১১৩৩ জনের জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে ১১০০ জনের। এরমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১০৯ জন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ। সুস্থ হয়েছেন ১০৪ জন। করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ১ জন। বর্তমানে আইসোলেসনে আছেন ৪ জন।
ছাতক উপজেলায় ২২৭০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে ২২০৪ জনের। এরমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪৮ জন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ। সুস্থ হয়েছেন ২৯২ জন। করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৭ জন। বর্তমানে আইসোলেসনে আছেন ৪৯ জন।
জগন্নাথপুর উপজেলায় ৮৬১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে ৮১৫ জনের। এরমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১১৬ জন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। সুস্থ হয়েছেন ১১০ জন। বর্তমানে আইসোলেসনে আছেন ৬ জন।

  • [১]