বিশেষ প্রতিনিধি
জেলা আওয়ামী লীগের ২ সদস্যের কমিটির মেয়াদ প্রায় দুই বছর হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন সম্ভব হচ্ছে না। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রের দায়িত্বশীলদের কাছে আলাদা-আলাদা কমিটি দেওয়ায় এই প্রক্রিয়া আরো বিলম্বিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে এক হয়ে কমিটি দেবার নির্দেশ দিয়েছেন। এজন্য কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন (সিলেট বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত) সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবিরকে নিয়ে কয়েকদফা বৈঠকও করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ চাইছেন বৈঠকের মাধ্যমে ঐক্যমতের ভিত্তিতে কমিটি করতে। এজন্য গুরুত্বপূর্ণ পদে বিকল্প খোঁজার চেষ্টা হচ্ছে। অবশ্য. সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুইজনেই বলেছেন,‘আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই কমিটি চূড়ান্ত হবে।’
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনের ঘনিষ্টতা বেড়েছে। কিন্তু দুইজনেই কমিটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজেদের ঘনিষ্টদের রাখতে চাইছেন। এরমধ্যে জমা দেওয়া কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন নাম রেখেছেন মুহিবুর রহমান মানিক এমপি’র এবং সভাপতি মতিউর রহমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুটের নাম রেখেছেন।
প্রথম যুগ্মসম্পাদক পদে ব্যারিস্টার ইমন জেলা কমিটির সাবেক যুগ্মসম্পাদক অ্যাডভোকেট নান্টু রায়ের নাম দিয়েছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম শামীমের নাম রেখেছেন।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ইমন
প্রথম নাম রেখেছেন করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুলের। সভাপতি মতিউর রহমান রেখেছেন শংকর দাসের।
মূলত. এই তিন পদ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন নি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন গত কয়েকদিন রংপুরের নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সভাপতি ও সম্পাদককে নিয়ে বসতে পারেন নি।
দলের একটি সূত্র জানায়, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে দলীয় সংসদ সদস্যরা তাঁদের মনোনীত একজনকে চাইছেন। এক্ষেত্রে মুহিবুর রহমান মানিক যেহেতু আগে সহ-সভাপতি ছিলেন, তাঁর নামই তাঁরা প্রস্তাব করেছিলেন।
অন্যদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান এবং তাঁর বলয়ের নেতা-কর্মীরা মনে করছেন সংগঠনের জেলা সম্মেলনে নুরুল হুদা মুকুট ছিলেন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। তিনি প্রায় ১৮ বছর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক যেহেতু তাঁকে করা হয়নি, এখন যেন সিনিয়র সহ-সভাপতি করা হয়। এই পদের আরেক আগ্রহী নেতা সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য আয়ুব বখ্ত জগলুল।
কিন্তু জগলুলকে না রাখার পক্ষে সভাপতি মতিউর এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ইমন দুজনেই একমত বলে জানা গেছে।
দলের একজন নেতা জানান, সিনিয়র সহ-সভাপতি, প্রথম যুগ্মসম্পাদক ও প্রথম সাংগঠনিক সম্পাদকের বিষয়ে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক অটল অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছেন। এক্ষেত্রে দুয়েকটি পদে তাঁরা যে নামগুলো দিয়েছেন, এর বিকল্পও খোঁজছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বলেন,‘আমরা দুজনেই দুটি কমিটি কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও দপ্তর সম্পাদকের কাছে দিয়েছি। তাঁরা বলেছেন, ঐক্যমতের ভিত্তিতে একটি কমিটি জমা দিতে। এখন ইমনকে নিয়ে আধাঘণ্টা বসলেই কমিটি করা যাবে। সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন রংপুরে থাকায় বসা হয়নি। শীঘ্রই বসে কমিটি চূড়ান্ত করবো।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন,‘সপ্তাহ্ খানেকের মধ্যেই জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি চূড়ান্ত হবে। জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেনকে নিয়ে আরেকটি বৈঠক করলেই কমিটি চূড়ান্ত করা সম্ভব।’
প্রসঙ্গত. সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ প্রায় ২০ বছর কেটেছে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সম্পাদক দিয়ে। এই দীর্ঘ সময়ে জেলার বেশিরভাগ উপজেলায়ই সংগঠন ছিল দ্বিধাবিভক্ত। ২০ বছর পর ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঘটা করে সম্মেলন করে সভাপতি ও সম্পাদকের দুই পদ ঘোষণা হয়। সম্মেলনের প্রায় ১০ মাস পরই সভাপতি ও সম্পাদক দুজনেই উল্টোপথে হেঁটেছেন। দুজনের দুরত্ব ছিল অনেক বেশি। সম্প্রতি. তাঁদের সম্পর্কের উন্নতি ঘটলেও যার যার ঘনিষ্টদের দায়িত্বশীল পদে রাখতে চাইছেন দুজনেই।