- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জেলা কমিটি গঠনের কাজ শেষ

স্টাফ রিপোর্টার
হাওর রক্ষা বাঁধের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী কাবিটা স্কিম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি গঠনের কাজ শেষ। আগামী ২-১ দিনের মধ্যেই কমিটি প্রকাশ করা হবে। কমিটির সভাপতি (পদাধিকার বলে) জেলা প্রশাসক এবং সদস্য সচিব (পদাধিকার বলে) পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী এই তথ্য জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেছেন, ‘হাওরের বাঁধ নির্মাণকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছি আমরা, এই নিয়ে সময় ক্ষেপণ, গাফিলতি, দুর্নীতি কোনটাই সহ্য করা হবে না।’
পাউবো সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জের বোরো ফসল রক্ষায় জেলার বৃহৎ ৩৬ টি হাওরসহ ছোট বড় সকল হাওরের বাঁধ নির্মাণের জন্য কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পে এবার ৮৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকার বরাদ্দ দিয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।
জানা যায়,         হাওর এলাকায় ফসল রক্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত, নদী / খাল পুনঃখননের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নতুন কাবিটা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি) নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।
পাউবোর নতুন কাবিটার নীতিমালা অনুযায়ী কাবিটা স্কিম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি গঠন হবে। ১২ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটিতে জেলা প্রশাসক সভাপতি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সদস্য সচিব, কমিটিতে সদস্য হিসেবে পুলিশ সুপার,  জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী, সংশ্লিষ্ট সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, হাওর এলাকার হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের একজন প্রতিনিধি, সভাপতি (জেলা প্রশাসক) কর্তৃক স্থানীয় একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি, গণমাধ্যমের একজন প্রতিনিধি এবং একজন এনজিও প্রতিনিধি থাকবেন।
একইভাবে ১২ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সভাপতি, পাউবোর শাখা কর্মকর্তা সদস্য সচিব, সদস্য হিসেবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী,  সংশ্লিষ্ট থানার ওসি, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), সভাপতি (উপজেলা নির্বাহী অফিসার) কর্তৃক স্থানীয় একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি, গণমাধ্যমের একজন প্রতিনিধি, একজন এনজিও প্রতিনিধি, একজন কৃষক প্রতিনিধি ও একজন মৎস্যজীবী প্রতিনিধি থাকবেন।
উভয় কমিটি প্রয়োজনে কো-অপ্ট করে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারবে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসক জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কাবিটা কাজ পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করতে পারবেন। নীতিমালায় সংসদ সদস্য ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে দিয়ে উপদেষ্টা কমিটি করা হয়েছে। উপদেষ্টা কমিটি প্রয়োজনমতে জেলা-উপজেলা কমিটিকে পরামর্শ প্রদান করবেন। কমিটির এক তৃতীয়াংশ  সদস্যের উপস্থিতিতে কোরামপূর্ণ হইবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে। উপজেলা কমিটি কাজের সার্বিক বাস্তবায়ন কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করিবে এবং জেলা কমিটি সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। উপজেলা কমিটি ১৫ দিন পর পর জেলা কমিটির নিকট কাজের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করবে এবং জেলা কমিটির নিকট দায়বদ্ধ থাকবে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বলেছেন,‘নীতিমালা অনুযায়ী জেলা কমিটি গঠনের কাজ শেষ। ২-১ দিনের মধ্যে সেটি প্রকাশ করা হবে। ২-১ টি উপজেলা কমিটিও গঠন করা হয়েছে। অন্যগুলোও দ্রুতই গঠন করা হবে।’
জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন,‘সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, কাজ হবে না, মুখে বলা হবে একটি, করার সময় আরেকটি, হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে এবার সেটি হবে না। সকল বাঁধের কাজে সাইনবোর্ড থাকবে। শতভাগ কাজ করতে হবে। ইউনিয়ন তথ্য কেন্দ্র, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ওয়েবসাইট এবং জেলা প্রশাসকের ওয়েভসাইটে প্রতি সপ্তাহের কাজের অগ্রগতির আপডেট হাওরবাসীসহ সকলকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’

  • [১]