- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জেলা পরিষদের আগে হচ্ছে না ৩ ইউপির নির্বাচন ভোটার থাকবেন বর্তমান প্রতিনিধিরাই

বিশেষ প্রতিনিধি
জেলা পরিষদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন হচ্ছে না জেলার জামালগঞ্জের নতুন দুই ইউনিয়ন ও জগন্নাথপুরের মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভোট। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে সাবেক জামালগঞ্জ সদর ও মিরপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও সদস্যরা ভোটার থাকবেন।  জেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচন না হওয়া ইউনিয়নগুলোর ভোটার নিয়ে বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাদেকুল
ইসলাম বুধবার এই তথ্য জানান। একই সঙ্গে জামালগঞ্জ উপজেলা সদরের দুই ইউনিয়নের নির্বাচন জানুয়ারি’র শেষের দিকে হওয়ার কথাও জানান তিনি।
১৪ বছর ধরে নির্বাচন হচ্ছে না সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নে। মিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এখন জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। এই ইউনিয়নে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন একজন ইউপি সদস্য।
জগন্নাথপুর উপজেলার লহরি মৌজার ঈশবদাউদ’এর ভোটাররা অনেক আগে থেকেই ছিলেন জগন্নাথপুরের ভোটার। বিশ্বনাথের দশঘর ইউনিয়নের ২০০৩’এর নির্বাচনের পর ঈশবদাউদ’এর চেয়ারম্যান প্রার্থী মানিক মিয়া লহরি মৌজার ঈশবদাউদ’র ৩১০ জন ভোটারকে বিশ্বনাথের দশঘর ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় সেনা বাহিনীর তত্বাবধানে নতুন ভোটার তালিকা করার সময় মিরপুর ইউনিয়নের ভোটাররা আপত্তি তুলেন লহরি মৌজা পড়েছে জগন্নাথপুরের মিরপুর ইউনিয়নে। অথচ এই মৌজার ঈশবদাউদ’র ভোটারদের ভোট নিয়ে যাওয়া হয়েছে দশঘর ইউনিয়নে। পরে সেনা বাহিনীর ভোট তোলার দায়িত্বে নিয়োজিতরা আবার ঈশবদাউদ’র ভোটারদের জগন্নাথপুরের মিরপুর ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করেন।
এর পর পরই (২০০৭ ইংরেজি সনে) ঈশবদাউদ গ্রামের মানিক মিয়া হাইকোর্টে মিরপুর ও দশঘর ইউনিয়নের সীমানা নিয়ে মামলা দায়ের করেন। এই মামলা দায়েরের পর ২০১১’এর ইউপি নির্বাচনের সময়ও এই দুই ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। একই মামলার কারণে ২০১৬ ইংরেজি সনেও এই দুই ইউনিয়নে নির্বাচন হয়নি।
এর মধ্যেই ২০০৯’এর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকমল হোসেন জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। এই ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নসির মিয়া। বয়স্ক এই ইউপি সদস্য দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করায় ২০১০ ইংরেজিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জমির উদ্দিন।
জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামরুজ্জামান বলেন,‘মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় মিরপুর ইউনিয়নের মামলার সর্বশেষ অবস্থা জানার জন্য এবং এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ঐ চিঠির উত্তর পাওয়া গেলে সর্বশেষ অবস্থা জানা যাবে। জামালগঞ্জ সদরের দুই ইউনিয়নের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন’।
জেলা নির্বাচন অফিসার মো. সাদেকুল ইসলাম বলেন,‘জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভেঙে দুটি ইউনিয়ন (জামালগঞ্জ সদর উত্তর ও দক্ষিণ) হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন করা যায়নি। ভোটার তালিকা যাচাই-বাছাই ও সংশোধনীর কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন বিভাগে ভোটার চূড়ান্ত করণের জন্য পাঠানো হবে। চূড়ান্ত তালিকা পেলেই তফসিল ঘোষণার জন্য নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠানো হবে। সকল কাজ শেষে ডিসেম্বরে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে এবং জানুয়ারির শেষ দিকে নির্বাচন হতে পারে’।
নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, জেলা পরিষদ নির্বাচনের আগে যেহেতু নির্বাচন করা যাচ্ছে না। সেহেতু ঐ ৩ ইউনিয়নের পুরোনো পরিষদ অর্থাৎ সাবেক জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যানসহ পরিষদ এবং মিরপুর ইউনিয়নের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সদস্যরাই জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটার থাকবেন।

  • [১]