- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জৈব সার তৈরি করে স্বাবলম্বী

জামালগঞ্জ সংবাদদাতা
জৈব সার তৈরি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের ২৬ জন। প্রতি কেজি জৈব সার কৃষকের মাঝে ৩০ টাকা করে বিক্রি করা হয়। বাড়ির আঙিনায়ই এই সার তৈরি করা হয়। সারের গুণগত মান অত্যন্ত ভালো হওয়ায় দিনদিন এর কদর বেড়েই চলছে। প্রতি মাসে জৈব সার বিক্রি করে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা আয় করছেন ঐ নারীরা। অভাবকে বিদায় দিয়ে স্বচ্ছলতার মুখ দেখেছেন তাঁরা। এছাড়াও ফসলের ক্ষেতে রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে জৈব সার দিয়ে শাক-সবব্জি চাষাবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধও করেছেন তারা।
বলছিলাম জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের ‘কৃষিচর্চা মাধবীলতা কৃষক-কৃষাণী সংগঠন’ এর ২৬ জনের কথা। শুরুতে তারা গোবর ও কেঁচো দিয়ে সার উৎপাদন বিষয়ে বেসরকারি এনজিও কারিতাস (সিলেট অঞ্চল) সবুজ জীবিকায়ণ প্রকল্পের প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে কারিতাস সার উৎপাদনে সিমেন্টের তৈরি গামলা ও কেঁচো প্রদান করে প্রশিক্ষিত নর-নারীদের মাঝে। পরে তারা গোবর ও কেঁচো দিয়ে সার উৎপাদনে নিজেদের নিয়োজিত করেন। তাদের উৎপাদিত সার অনেক কৃষকের চাহিদা পূরণ করছে। তাদের দেখে দেখে প্রতিবেশী অন্য নারীরাও সার তৈরির কাজে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। গত এক বছরে তাদের দেখে গ্রামের সাদিয়া বেগম, শফিকুন নেছা, নূর নাহার, নূর হেনাসহ প্রায় অর্ধশত নারী নিজেদের সফল খামারী হিসেবে এলাকায় তুলে ধরেছেন।
জানা যায়, বাড়ির ময়লা-আবর্জনা, খড়কুটো, গোবর, গরুর মূত্র, নরম ঘাস, কচুরিপানা, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা, শাকসবজির উচ্ছিষ্ট, গাছের ঝরা পাতা পচিয়ে জৈব সার তৈরি করা হয়।
কৃষিচর্চা মাধবীলতা কৃষক-কৃষাণী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাদিয়া খাতুন বলেন, গোবর ও সবব্জির অবশিষ্ট কুচি কুচি করে সিমেন্টের গামলায় রেখে দেই। পরে কেঁচো সেই চারির মাঝে রাখি। ১০-১২ দিন পর কেঁচো গোবর ও সবব্জি খেয়ে সার তৈরি করে। পরে চালনি দিয়ে সারগুলোকে কেঁচো থেকে আলাদা করে হালকা শুকিয়ে কৃষকের মাঝে ৩০ টাকা কেজি করে বিক্রি করি। আমাদের টিমের প্রতিটি নারী জৈব সার বিক্রি করে প্রতি মাসে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা আয় করে।
কারিতাস সিলেট অঞ্চলের কর্মকর্তা ডেনসিল পডুয়েং জানান, কারিতাস সবুজ জীবিকায়ন থেকে প্রশিক্ষণ শেষে সিমেন্টের তৈরি গামলা ও কেঁচো প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে জৈব সার তৈরি করে কৃষি উপকারের পাশাপাশি কর্মসংস্থানসহ নারীদের বিকল্প আয়ের পথ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও আমাদের পক্ষ কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবব্জি বীজ বিতরণ করে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, এই এলাকার নারীরা জৈব সার উৎপাদন করে তাদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বাড়তি আয় করছেন। এতে কৃষকও উপকৃত হচ্ছে।

  • [১]