স্টাফ রিপোর্টার
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম.এ মান্নান এমপি বলেছেন,‘আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়নে বিশ্বাস করে, কিন্তু বিএনপি উন্নয়নে বিশ্বাসী নয়। বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা শিক্ষার উন্নয়ন না করে দেশে জঙ্গি সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে শিক্ষার উন্নয়নে দেশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। রাস্তা-ঘাট ব্রীজ হওয়ার ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের কাঁদার উপর দিয়ে হেটে স্কুলে যেতে হয় না। কারণ আওয়ামী লীগ সরকার দেশে শিক্ষার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণ করা হয়েছে। আরো নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হচ্ছে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন,‘দেশে পায়রা বন্দর হচ্ছে। উচ্চ শিল্প প্রতিষ্ঠান তৈরী হচ্ছে। ব্যবসার শান্তি পরিবেশ তৈরী করে দিচ্ছে সরকার। বিদেশী বিনিয়োগও বাড়ছে দেশে।’
রোববার দুপুর দেড় টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমীর হাসন রাজা মিলনায়তনে সুনামগঞ্জ পৌর কলেজের একাদশ শ্রেণীর নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
কলেজের গভর্নিংবডির সভাপতি সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শামছুন নাহার বেগমের সভাপতিত্বে ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক শাহ আবু নাসেরের সঞ্চালনায়
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি’র বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সঞ্জয় সরকার, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পরিমল কান্তি দে, লেখক ও আইনজীবি হোসেন তওফিক চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ পৌর কলেজের অধ্যক্ষ শেরগুল আহমদ।
এদিকে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি বলেছেন,‘ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশের প্রতি অনুগত ও নিবেদিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাঝে গ্রামের সাধারণ গৃহবধুর প্রতিচ্ছবি দেখি। আওয়ামী লীগ সরকার জননেন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিদ্যুৎ, রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ, মেডিকেল কলেজ, বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ সহ দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, আমরা সুনামগঞ্জে ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে কাজ শুরু করেছি, আপনারা দেখেছেন অতিতেও অনেকে মন্ত্রী হয়েছেন, সরকার গঠন করেছেন কিন্তু সুনামগঞ্জের জন্য কিছুই করে যেতে পারেননি। আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে বার-বার নির্বাচিত করেছেন, আমি আপনাদের কথা দিয়ে ছিলাম, আমার নির্বাচনী এলাকায় কোন একটি পরিবারও বিদ্যুৎ বিহীন থাকবে না। আমি সেই কথা রাখতে পেছে, আগামী ১-২ মাসের মধ্যে আমার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুরের সকল মানুষ বিদ্যুতের আওতায় চলে আসবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের কোথাও বাঁশের সাকো রাখবেন না, সব জায়গায় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করে দেবেন। আমার সেই কাজটিও করছি। আপনারা এরই মধ্যে দেখেছেন, আমরা ব্রিজ-কালভার্ট, রাস্তা নির্মাণ করেছি।
তিনি বলেন,‘ জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নৌকায় ভোট দিয়ে আবার নির্বাচিত করেন। আপনাদের ভাগ্যের পরিবর্তন আসবে। কারণ আওয়ামী লীগ সরকার ৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি সুখি-সমৃদ্ধ-উন্নত মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত করতে এখন থেকেই কাজ শুরু করেছে। তাই আগামী দিনে আওয়ামী লীগ সরকার ছাড়া কোন বিকল্প নাই।
রবিবার বিকালে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থয়নে ৩টি ব্রিজের উদ্বোধনী শেষে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে পঞ্চগ্রাম বাজারে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি বলেন আমি বাবা-মামার পরিচয়ে মন্ত্রী হই নাই। আমাকে যারা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন তারা আমার ভাই-বোন এবং আপনজন। আপনারা যদি আমার পাশে থাকেন তাহলে আমি নির্বাচনে হারব না। আমি সরকারী কাজে প্রায় সময় ঢাকায় ব্যস্থ থাকতে হয়, আমি খুব একটা এলাকায় আসতে পারিনা ও আপনাদের সময় দিতে পারি না। আর এই সুযোগে কিছু কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে এলাকায় এসে খালি মাঠে গোল দেবার চেষ্টা করছে। তাদের প্রতি আপনারা খেয়াল রাখবেন। যাতে করে তারা ফায়দা হাসিল করতে না পারে।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নুরুজ্জামান সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল করিমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি সিরাজুর রহমান সিরাজ, জেলা কৃষক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়ির সহ সভাপতি তহুর আলী, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা তেরাব আলী, আসাদুর রহমান আসাদ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা ড. রোয়াব উদ্দিন, জেলা কৃষক লীগের সদস্য মাসুক মিয়া, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি অ্যাড. বোরহান উদ্দিন দোলন, সিনিয়র সহ সভাপতি প্রভাষক নুর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুজন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দুর রহমান, আব্দুস ছালাম, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম শিপন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রয়েল আহমদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলমগীর কবির, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, জেলা পরিষদের সদস্য জহিরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা জিএম সাজ্জাদুর রহমান, উপজেলা যুবলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নুর আলম প্রমুখ।