- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জ্বালানী চাহিদাকে বহুজাতিক কোম্পানির হাতে তুলে দেয়া অনুচিত

বাসা-বাড়িতে পুনরায় গ্যাস সংযোগ চালুর পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে আবারও জানিয়ে দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। বুধবার জাতীয় সংসদে জাসদের সংসদ সদস্য লুৎফা তাহেরের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এই তথ্য জানিয়েছেন। পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ ব্যয়বহুল উল্লেখ করে তিনি জনগণকে এলপিজি গ্যাস ব্যবহারে উৎসাহিত করার কথা জানিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্য পুরানো হলেও জনগণকে আশাহত করতে এই মন্তব্য নতুনভাবে ভূমিকা রাখবে নিঃসন্দেহে। দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের উপর জনগণের সহজাত অধিকারকে এইভাবে সংকুচিত করে তোলা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। বছরে একাধিকবার আবাসিক গ্যাসের দাম বাড়িয়ে এবং নতুন কোন সংযোগ না দিয়ে ইতোমধ্যে সরকার বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জ্বালানী চাহিদাকে বহুজাতিক কোম্পানির হাতে তুলে দিয়েছেন। যেটুকু বাকি রয়েছে সরকারের ঘোষণা মোতবেক সেইটুকুও শীঘ্রই শেষ করা হবে। এতে করে বাংলাদেশের অধিকাংশ দরিদ্র শহরবাসী মানুষ নিদারুণ কষ্টে পতিত হবেন। অথচ একটি রাষ্ট্রের, বিশেষ করে বর্তমান বিশ্ব ঘরানায় যেখানে কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণা জনপ্রিয় হচ্ছে, তখন এই ধরনের অধিকার হরণ করা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চরিত্র সম্পর্কে সর্বমহলে একটি ভুল ধারনা দিতে পারে।
জনগণের আবাসিক চাহিদা না মিটিয়ে সরকার দেশের এই প্রাকৃতিক সম্পদ গ্যাস দিয়ে কী করবেন? কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠানে গ্যাসসংযোগ দেয়া হচ্ছে, গ্যাসনির্ভর কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাসসংযোগ দেয়ার কারণে উৎপাদন ব্যয় কমলেও এর প্রভাব বাজারে কখনও পড়তে দেখা যায় না। গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎপ্রকল্প গ্রহণ করা যেতে পারে, যদি আবাসিক চাহিদা মিটিয়ে এখানে উদ্বৃত্ত গ্যাস সরবরাহ করার মতো ব্যবস্থা থাকত। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস ছাড়াও বিকল্প অনেক উপায় আছে। সবচাইতে গ্রহণযোগ্য উপায় হলো জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। চট্টগ্রামের কাপ্তাইয়ে স্বাধীনতার আগে এ ধরনের বিদ্যুৎপ্রকল্প বাস্তবায়ন সফলভাবে সম্পন্ন করা গেলেও পরবর্তীতে এই জায়গায় আর কোন উদ্যোগের দেখা মিলে নি। অথচ সারা দেশে এমন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে। এতে করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো একটি মূল্যবান সম্পদ ব্যবহার বন্ধ করে এই গ্যাস জনগণের মাঝে বণ্টন করা সম্ভব হত।
সরকার যে এলপি গ্যাসকে জনপ্রিয় করার কথা বলছেন সেই এলপি গ্যাসের বাণিজ্য গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানের হাতে সীমাবদ্ধ। যেসব এলাকায় এলপি গ্যাস ব্যবহার করা হয় সেখানে এ নিয়ে গণভোগান্তির খবর সকলের জানা। দফায় দফায় মূল্য বৃদ্ধি, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মূল্য বৃদ্ধি করার মতো যাবতীয় মুনাফামুখী প্রবণতা এই খাতের সাধারণ বৈশিষ্ট্য। এরকম একটি মুনাফামুখী বাণিজ্যিক ধারার মধ্যে দেশের সাধারণ মানুষকে ঠেলে দেওয়া কতোটা কল্যাণমুখী সেই চিন্তা সরকার যদি না করেন তাহলে চলে কী করে?
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রকৃত মজুদের সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। বহুজাতিক কোম্পানি নির্ভর গ্যাস অনুসন্ধান ব্যবস্থায় প্রকৃত তথ্য সামনে আসে না। তবে অনুমান করা হয় দেশে এবং বিশাল বঙ্গোপসাগরে রয়েছে গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুদ। তাই এই সম্পদের উপর থেকে মানুষের সহজাত অধিকার কেড়ে না নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনাযোগ্য হওয়া উচিৎ।

  • [১]