সুনামগঞ্জের আদালতপাড়ায় গত বুধবার একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর সাথে এক উদ্ধত প্রকৃতির ব্যক্তির বেয়াদবি ও তৎপ্রেক্ষিতে সংঘটিত কিছু বিষয় গতকাল শহরে বেশ আলোচিত ছিল। সংবাদমাধ্যমে পরিবেশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, বুধবার দুপুরে আদালতপাড়ায় জনৈক শানুর উদ্দিন আদালতের একজন সিনিয়র ও সম্মানীত আইনজীবী মল্লিক মঈন উদ্দিন সোহেলকে ধাক্কা দেন। শানুর উদ্দিন আইনজীবীকে ধাক্কা দিলেও এজন্য কোন ধরনের দুঃখ প্রকাশের পরিবর্তে বেপরোয়া আচরণ করেন এবং এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তি একটি এজলাশে ঢুকে কিছু আইনজীবীর সাথে অসংযত আচরণে লিপ্ত হন। এজলাশে উপস্থিত সিনিয়র আইনজীবী ও আদালত পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব হয়। এ পর্যায়ে বেপরোয়া শানুরকে ধরে কোর্ট হাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় শানুর মিয়া ও অজ্ঞাত আরও কয়েক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করেছেন অ্যাড. আমিরুল ইসলাম এনাম। আদালত অঙ্গন হলো পবিত্র জায়গা। এখানে সুবিচার প্রত্যাশায় লোকজন আসেন। এমন পবিত্র জায়গায় যখন কোন উদ্ধত স্বভাবের কেউ বেয়াদবি করার চেষ্টা করেন তখন আদালতের পবিত্রতা বিনষ্ট হয় নিঃসন্দেহে। বিশেষ করে এজলাশের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংরক্ষিত জায়গায় যখন কেউ আক্রমণাত্মক ভঙ্গি নিয়ে প্রবেশ করেন তখন সেটি চরম অপরাধ বটে। অভিযুক্ত শানুর উদ্দিন এমন গর্হিত কাজই করেছেন বলে সংবাদ থেকে জানা যায়। আদালতসংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের তখন দায়িত্ব হয়ে যায় আদালতের পবিত্রতা লংঘনকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আমরা শানুর উদ্দিন নামের ওই বেপরোয়া ব্যক্তির অনভিপ্রেত আচরণের নিন্দা জানাই এবং একই সাথে যে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর সাথে ঘটনা ঘটেছে তাঁর প্রতি আমাদের অকুণ্ঠ সহমর্মিতা প্রকাশ করছি।
যেহেতু বর্ণিত ঘটনার প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে একটি মামলা দায়ের হয়েছে তাই এই বিষয়ে আমরা অধিক কোন মন্তব্য করতে চাই না। আমরা আশা করি আইনসঙ্গত পদ্ধতিতেই এই দুঃখজনক ঘটনার সাথে জড়িত দোষী ব্যক্তিটির উপযুক্ত বিচার সম্পন্ন হবে। একই সাথে আমরা আদালতপাড়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করাসহ ভবিষ্যতে যাতে অনুরূপ কোন ঘটনা না ঘটে সেজন্য সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সাথে বিচারালয়ে আসা বিচারপ্রার্থীসহ সকলেই যাতে আদালতের পবিত্রতা মাথায় রেখে সর্বদা সংযত আচরণ করেন সেই অনুরোধও রইলো আমাদের।