আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
‘দিনের অবস্থায় ভালা নায়, হুনছি বন্যা অইব, এর মাঝে বান (বাঁধ) ওউ মনে হয় ভাঙ্গি যায় অবস্থা। পানি ডরাইয়া কাঁচা—আধাপাকা ধান কাটছি।’
সোমবার বিকালে জগন্নাথপুরের নলুয়া হাওরের রসুলপুর এলাকায় এসব কথা বলছিলেন রসুলপুর গ্রামের কৃষক জুয়াবের আহমদ। জুবায়ের আহমদের মতো অনেক কৃষকই শঙ্কা, উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায় কাঁচা, আধাপাকা ধান কাটছেন।
কৃষক জুবায়ের আহমদ জানান, এবার ১৪ কেদার জমিনে বোরো আবাদ করেছেন। গত কয়েকদিন ধরে হাওরের ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধে ধসে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এরমধ্যে ঝড়—বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বন্যায় হতে পারে। হাওরের এখনও শতভাগ ধান পাকেনি। ফসল হারানোর চেয়ে কাঁচা ধান কাটা ভালো।
এদিকে গত রবিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার ওপর দিয়ে ঝড় বৃষ্টি বয়ে যাওয়া। স্থানীয়রা ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাঁধ পাহারা দেন কৃষকরা।
চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য রনধীর কান্ত দাস বলেন, নলুয়া হাওরের হামহামি বেড়িবাঁধ কয়েকটি ধসে যাওয়ার ঘটনায় শঙ্কিত কৃষকরা। রাতে ঝড় বৃষ্টি শুরু হলে প্রকল্প বাস্তবায়ক কমিটির লোকজনসহ স্থানীয় কৃষকরা ঝড় উপেক্ষা করে বাঁধ পাহারা দিয়েছেন। তবে কোন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও শঙ্কা আছে লোকজনের মধ্যে।
নলুয়া হাওরের ৪ নম্বর প্রকল্পের হামহামি বেড়িবাঁধের সভাপতি আহমেদ আলী বলেন, নদীর পানির চাপে বাঁধের একটি অংশ ধসে গেছে। বাঁধটি টেকসই করতে বস্তা, বাঁশ লাগিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাঁধেই ছিল।
হাওর বাঁচাও আন্দোলন জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, জগন্নাথপুরে কমপক্ষে ১০টি ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ ধসের ঘটনা ঘটেছে। কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করে বাঁধ রক্ষা করছেন। তিনি বলেন, শুরুতে দায়সারা কাজ করায় হুমকির মুখে পড়েছে ফসল।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী হাসান গাজী বলেন, জগন্নাথপুরে এবার প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ২৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের মাধ্যমে ১৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ কাজ করা হয়। আমরা হাওররক্ষায় মাঠে কাজ করছি।
জগন্নাথপুর উপজেলা নিবার্হী কর্মকতার্ (ইউএনও) সাজেদুল ইসলাম বলেন, আমরা হাওরে সার্বক্ষণিক তদারকি করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকতার্ শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, জগন্নাথপুরে ২০ হাজার ৩শ’ হেক্টর বোরো ফসল আবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে দু—তিনদিনের মধ্যে পুরোদরে হাওরে ধান কাটার উৎসব চলবে।